Published : 07 Oct 2025, 01:41 PM
নতুন ধরনের কংক্রিট ব্যাটারি তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা ঘরবাড়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে আগের চেয়ে ১০ গুণ কার্যকর বলে দাবি তাদের।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের তৈরি নতুন ধরনের কংক্রিট দিয়ে নির্মিত ভবন ও রাস্তা ভবিষ্যতে ব্যাটারির মতো ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ঘরবাড়ি ও বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনে সহজেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।
২০২৩ সালে প্রথম এই পরবর্তী প্রজন্মের শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছিলেন ‘ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা এমআইটির বিজ্ঞানীরা। তবে এখন তা কীভাবে ১০ গুণ শক্তিশালী করা যায় তার উপায় বের করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
এ অগ্রগতির মানে, এখন কোনো সাধারণ বাড়ি তার প্রয়োজনীয় শক্তি চালানোর জন্য প্রায় ৫ ঘনমিটার পরিমাণ এক বিশেষ ধরনের পদার্থ ব্যবহার করতে পারবে, যা প্রায় একটা দেয়ালের আয়তনের সমান। এর মাধ্যমে বাড়ির বিদ্যুতের খরচ কমানো সম্ভব হবে।
সিমেন্ট, পানি, কার্বন ব্ল্যাক ও ইলেকট্রোলাইট একসঙ্গে মিশিয়ে এই কংক্রিট ব্যাটারি তৈরি হয়। এসব উপাদান মিলে কংক্রিটের ভেতরে পরিবাহী এক ‘ন্যানোনেটওয়ার্ক’ তৈরি করে, যা বিদ্যুৎ শক্তি জমা রাখা ও ছাড়ার কাজ করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইন্ডিপেনডেন্ট।
এমআইটি’র পূর্ত ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের সহ-পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডমির ম্যাসিক বলেছেন, “কংক্রিট টেকসই হওয়ার মূল চাবিকাঠি ‘মাল্টিফাংশনাল কংক্রিট’ তৈরি করা, যা শক্তি সঞ্চয় ও কার্বন শোষণের মতো বিভিন্ন কাজ একসঙ্গে করতে পারবে।
“কংক্রিট এরইমধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নির্মাণ উপাদান। ফলে কেন সেই ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে আরও অনেক সুবিধা তৈরি করা যাবে না?”
পরিবাহী ন্যানোনেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করে শক্তির ঘনত্ব বাড়াতে পেরেছেন অধ্যাপক ম্যাসিক ও তার দল। সমুদ্রের পানির মতো বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রোলাইট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সেরা পদ্ধতি খুঁজে বের করেছেন তারা।
এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব, যার ফলে সৌর প্যানেলওয়ালা বিভিন্ন ভবন সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে নিজে থেকেই চলতে পারবে বলে দাবি গবেষকদের।
অধ্যাপক ম্যাসিক বলেছেন, “প্রাচীন রোমানরা কংক্রিট নির্মাণে অসাধারণ উন্নতি সাধন করেছিলেন। প্যানথিয়নের মতো বিশাল আকারের বিভিন্ন স্থাপনা আজও কোনও শক্তিবর্ধক ছাড়াই দাঁড়িয়ে রয়েছে।
“আমরা যদি তাদের মতো উপাদানকে বিজ্ঞানের স্থাপত্য দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলিয়ে এগিয়ে চলি তাহলে ইসি৩-এর মতো বহুমুখী কংক্রিট দিয়ে এক নতুন স্থাপত্য বিপ্লবের প্রান্তে আমরা পৌঁছে যেতে পারি।”
‘হাই এনার্জি ডেনসিটি কার্বন সিমেন্ট সুপারক্যাপাসিটিরস ফর আর্কিটেকচারাল এনার্জি স্টোরেজ’ শিরোনামে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘পিএনএএস’-এ।