Published : 16 Nov 2025, 06:35 PM
অ্যাপলের ফ্যামিলি শেয়ারিং ফিচারটি পরিবারের একাধিক ডিভাইস ব্যবহারের ঝামেলা এড়াতে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারের প্রতিটি সদস্য তাদের নিজস্ব অ্যাপল আইডি ব্যবহার করে একই গ্রুপের মধ্যে থাকে ফলে সাবস্ক্রিপশন, কেনা অ্যাপ বা স্টোরেজ সবাই সহজেই ভাগাভাগি করতে পারে আবার ব্যক্তিগত প্রাইভেসিও থাকে অক্ষুণ্ণ।
পুরো গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন একজন অর্গানাইজার যিনি ঠিক করেন কাকে যোগ করা হবে, কী শেয়ার হবে এবং কোন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। কেউ সে গ্রুপে যোগ দিলেই তিনি অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভি+, আইক্লাউড+, ফিটনেস+, আর্কেডসহ বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করতে পারেন। থার্ড পার্টি অ্যাপও শেয়ারিং সাপোর্ট করা হলে সেখানে একই সুবিধা পাওয়া যায়।
গোটা সেটআপ করতে সময় লাগে খুব কম কিন্তু কীভাবে কাজ করে তা জানা থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয়। নতুন সঙ্গী, রুমমেট বা কোনো শিশুর জন্য নতুন অ্যাপল আইডি তৈরি সব ক্ষেত্রেই ধাপগুলো প্রায় একই এবং প্রত্যেকে নিজেদের প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট নিয়েই গ্রুপে থাকে।
ফ্যামিলি শেয়ারিং শুরু করবেন যেভাবে
কাউকে যোগ করার আগে নিশ্চিত হতে হবে যিনি যোগ করবেন তিনিই ওই গ্রুপের অর্গানাইজার। অর্গানাইজারই কেবল আমন্ত্রণ পাঠাতে পারেন এবং পেমেন্ট পদ্ধতি ঠিক করেন। প্রতিটি সদস্য তাদের নিজেদের অ্যাপল আইডিতে সাইন ইন করে। আইফোনে ‘সেটিংস’ অ্যাপ বা ম্যাকে ‘সিস্টেম সেটিংস’ থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শুরু করার আগে সফটওয়্যার আপডেট আছে কিনা দেখে নেওয়া ভালো কারণ আইওএস অনুযায়ী মেনু কিছুটা আলাদা হতে পারে।
সবকিছু প্রস্তুত হলে ‘সেটিংস’ খুলে উপরে নিজের নাম ট্যাপ করুন, তারপর ফ্যামিলি নির্বাচন করুন। এখানে গ্রুপের সদস্য, শেয়ার করা সাবস্ক্রিপশন এবং নতুন সদস্য যোগ করার অপশন দেখা যাবে।
অ্যাপল জিজ্ঞাসা করবে ‘আপনি কি কোনো বিদ্যমান ব্যবহারকারীকে আমন্ত্রণ জানাতে চান, নাকি এমন কোনো শিশুর জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন যার এখনও অ্যাপল আইডি নেই’। আমন্ত্রণ পাঠানো যায় মেসেজেস, মেইল বা এয়ারড্রপ দিয়ে। কেউ কাছে থাকলে তিনি সরাসরি ডিভাইসেই নিজের তথ্য দিয়ে যোগ দিতে পারবেন।
ম্যাকে ধাপগুলো কিছুটা আলাদা দেখালেও কাজ একই। ‘সিস্টেম সেটিংস’ খুলে নিজের নাম বাছাই করুন, তারপর ‘ফ্যামিলি’-তে যান। এখান থেকে সদস্য যোগ করা, আমন্ত্রণ পাঠানো বা শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি সব অপশন পাবেন। কেউ আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রুপে যোগ হয়ে যাবেন।
ফ্যামিলি শেয়ারিংয়ে কী কী শেয়ার করবেন, নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে
গ্রুপে যোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সদস্যরা অর্গানাইজার যে সেবা শেয়ার করেছেন তা ব্যবহার করতে পারবেন যেমন অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভি+, অ্যাপল আর্কেড, ফিটনেস+ বা শেয়ার করা আইক্লাউড+ স্টোরেজ। ফটো, ক্যালেন্ডার, লোকেশনও শেয়ার করা যায়।
এতে সবার ক্যালেন্ডারে যৌথ ইভেন্ট দেখা যায় এবং ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপে একে অন্যের ডিভাইসও খুঁজে পাওয়া যায়।
যদি ‘পারচেজ শেয়ারিং’ চালু থাকে তাহলে সকলেই অর্গানাইজারের পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে অ্যাপ স্টোর বা আইটিউনস থেকে কিছু কিনতে পারেন। যদিও প্রতিটি ক্রয় সংশ্লিষ্ট সদস্যের আইডিতেই যুক্ত হবে, বিল যাবে অর্গানাইজারের নামে। চাইলে এই ফিচার বন্ধ করা যায়।
তবে শেয়ার করা অ্যাপ বা মিডিয়া অন্য সদস্য তার ‘পারচেজ হিস্ট্রি’ থেকে আবার ডাউনলোড করতে পারবেন যদি ‘ফ্যামিলি শেয়ারিং’ তা সমর্থন করে।
অভিভাবকদের জন্য ‘স্ক্রিন টাইম’ এবং ‘আস্ক টু বাই’ সুবিধা থাকে যা শিশু অ্যাকাউন্টের ব্যবহারের উপর নজরদারি সহজ করে। ‘আস্ক টু বাই’ চালু থাকলে শিশু কোনো অ্যাপ ইনস্টল বা ইন-অ্যাপ পারচেজ করতে চাইলে অর্গানাইজারের কাছে অনুমতি চেয়ে নোটিফিকেশন যাবে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা অনুমোদন বা বাতিল করতে পারবেন।
শিশুদের আমন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা
শিশুর অ্যাকাউন্ট তৈরি করা প্রাপ্তবয়স্কদের আমন্ত্রণ জানানোর চেয়ে একটু আলাদা। অভিভাবককেই নিজের ডিভাইস থেকে শিশুর নাম, জন্মতারিখ এবং অ্যাপল আইডির তথ্য যোগ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। জন্মতারিখ অনুযায়ী অ্যাপল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু সুরক্ষা ফিচার চালু করে যেমন সীমিত কনটেন্ট, নিষিদ্ধ মিউজিক বা অ্যাপ ডাউনলোড।
অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে এটি আর পাঁচটা অ্যাপল আইডির মতোই কাজ করে, তবে নির্দিষ্ট বয়স না হওয়া পর্যন্ত শিশুটি বা অর্গানাইজার তাকে রিমুভ না করা পর্যন্ত গ্রুপ থেকে বের হতে পারবে না।
বয়স বাড়ার সাঙ্গে সাঙ্গে ‘স্ক্রিন টাইম’, ‘কনটেন্ট রেস্ট্রিকশন’ ইত্যাদি ধীরে ধীরে বদলানো যায়। এটি শিশুকে নিজের অ্যাপল আইডি এবং পরিবারের শেয়ার করা কনটেন্ট দেখতে দেয় কোনো ধরনের লগইন তথ্য দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই।
সাধারণ কিছু সমস্যা ও সমাধান
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সদস্য যোগ করতে কোনো সমস্যা হয় না। তবুও কখনো আমন্ত্রণ নাও দেখা যেতে পারে। তখন ফ্যামিলি সেটিংস থেকে আমন্ত্রণ আবার পাঠাতে হবে এবং অনুরোধ করতে হবে ‘মেসেজেস’ বা ‘মেইল’ দেখতে।
কখনো স্প্যামে চলে যায় বা পুরনো ডিভাইস অপারেটিং সিস্টেম আমন্ত্রণ ঠিকমতো দেখায় না। আবার কেউ যদি আগে অন্য কোনো ‘ফ্যামিলি শেয়ারিং গ্রুপে থাকে তবে তাকে প্রথমে সেই গ্রুপ ছাড়তে হবে।
আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো গ্রুপে সর্বোচ্চ ছয়জন সদস্য থাকতে পারেন। একজন অর্গানাইজার ও পাঁচ সদস্য। এর বেশি যোগ করতে চাইলে কাউকে সরিয়ে দিতে হবে। আর ‘ফ্যামিলি’ মেনুতে ‘অ্যাড মেম্বার’ না দেখালে বুঝতে হবে অর্গানাইজারের অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করেননি।
যদি কেউ আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পরও শেয়ার করা সাবস্ক্রিপশন না দেখে তাহলে নিজের অ্যাপল আইডি > সাবস্ক্রিপশনস-এ গিয়ে নিশ্চিত হন যে ‘শেয়ার উইথ ফ্যামিলি’ চালু আছে কিনা। আইক্লাউড+ শেয়ার করতে চাইলে নিশ্চিত হতে হবে প্ল্যানটি সবার ডেটা সামলানোর মতো যথেষ্ট বড় কিনা।
কেন ‘ফ্যামিলি শেয়ারিং’ ব্যবহার করবেন
সব ঠিকঠাকভাবে সেটআপ হয়ে গেলে ফ্যামিলি শেয়ারিং নীরবে পুরো পরিবারের ডিজিটাল জীবনকে সহজ করে তোলে। আলাদা আলাদা সাবস্ক্রিপশন বা অ্যাপ কেনা কমে যায় আর অর্গানাইজার এক জায়গা থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
প্রত্যেক সদস্য তাদের ব্যক্তিগত মেসেজ, ছবি, ডেটা নিজের মতো রাখে কিন্তু শেয়ার করা অ্যাপ, মিউজিক, স্টোরেজের সুবিধাও পায়। শিশুদের জন্য এটি সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থাগুলোর একটি কারণ এতে স্বাধীনতাও থাকে আবার পর্যবেক্ষণও।