Published : 27 May 2026, 10:10 AM
আইফোনে ইন্টারনেটের ধীরগতি নিয়ে অনেকেই বিরক্ত। অনেক সময় ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ড সিলেকশন বা ব্যাকএন্ডের পুরানো ফোরজি নেটওয়ার্কের কারণে এমনটা হতে পারে।
রাউটারের সেটিংস বদলে ফাইভজি ব্যান্ড আলাদা করা, ‘ফাইভজি স্ট্যান্ডঅ্যালোন’ মোড চালু করা ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো দ্রুতগতির পাবলিক ডিএনএস ব্যবহার করার মতো কিছু সহজ কৌশলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ঘরে-বাইরে নিজের আইফোনের ডাউনলোড স্পিড বাড়িয়ে নিতে পারেন।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট স্ল্যাশগিয়ার প্রতিবেদনে লিখেছে, বর্তমানের বেশিরভাগ রাউটারই একইসঙ্গে একাধিক ব্যান্ড নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। এতে সাধারণত একটি থাকে ২.৪ গিগাহার্টজ ও অন্যটি আরও দ্রুতগতির ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড।
সমস্যা হচ্ছে, ব্যবহারকারীর ফোন একবার যে কোনো একটি ব্যান্ড ধরে ফেললে সাধারণত সেখানেই আটকে থাকে। আর ফোনের এ পছন্দটি সবসময় সবচেয়ে দ্রুতগতির অপশন হয় না, বরং ফোন সাধারণত যে সিগনালটি সবচেয়ে শক্তিশালী সেটিকেই বেছে নেয়, যার মানে দাঁড়ায় তুলনামূলক ধীরগতির ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড।
তবে এ শক্তিশালী সিগনালের গতিও সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ এমবিপিএস-এর মধ্যেই সীমিত থাকে, যা ২০২৬ সালের মানদণ্ড অনুসারে বেশ ধীরগতির। ফলে ব্যবহারকারীর ওয়াই-ফাই স্পিড যদি তার কেনা প্যাকেজের গতির চেয়ে কম মনে হয় তবে তার ব্যান্ডের বিষয়টি একবার ভালো করে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এ সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার রাউটারের সেটিংসে যান এবং দুটি ব্যান্ডকে আলাদা দুটি নেটওয়ার্কে ভাগ করে নিন। নেটওয়ার্ক দুটির নামও এমনভাবে দিন যেন এক নজরেই দুটিকে আলাদাভাবে চেনা যায়।
এরপর আইফোনটিকে ম্যানুয়ালি ৫ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ করুন। এতে করে কোন নেটওয়ার্কটি ব্যবহার করতে হবে তা নিয়ে আপনার ফোনের কোনো দ্বিধা থাকবে না। তবে মনে রাখা জরুরি, ২.৪ গিগাহার্টজের তুলনায় ৫ গিগাহার্টজের রেঞ্জ বা ব্যাপ্তি কিছুটা কম। ফলে রাউটারের কাছাকাছি বা একই ঘরের মধ্যে থাকলে তা সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
এ রেঞ্জের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আপনি ‘ওয়াই-ফাই অ্যাসিস্ট’ ফিচারটি চালু করে রাখতে পারেন। ফিচারটি অন থাকলে আপনি রাউটার থেকে বেশি দূরে চলে বা ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে গেলেও ফোন আর জোর করে ৫ গিগাহার্টজ আঁকড়ে ধরে রাখবে না।
এ ফিচারটি চালু না থাকলে দেখা যায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বা সেলুলার ডেটা বেশি দ্রুতগতির হওয়ার পরও আইফোন অনেক সময় ওয়াই-ফাইয়ের ওই দুর্বল এক দাগের সিগনাল নিয়েই ঝুলে থাকে।
অবশ্য ঘরের বাইরে থাকলে সবসময় ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায় না। তবে সেলুলার ডেটার গতি বাড়ানোর জন্যও ঠিক একই রকম কৌশল রয়েছে।
সেলুলার সেটিং ঠিক করে নিন
ওয়াই-ফাই ব্যান্ডের মতোই মোবাইল নেটওয়ার্কেরও বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যার মধ্যে কিছু অন্যগুলোর চেয়ে বেশি দ্রুতগতির। বর্তমানের বেশিরভাগ ফোনেই হাইব্রিড বা মিশ্র সেটআপ ব্যবহৃত হয়, যেখানে ফোনের ভেতরের ফাইভজি রেডিওটি ব্যাকএন্ডের রাউটিংয়ের জন্য এখনও পুরানো ‘ফোরজি এলটিই’ কোরের ওপর নির্ভর করে। ফলে ফোনটি যে নেটওয়ার্কে যোগ হয় তা সবসময় সবচেয়ে দ্রুতগতির নাও হতে পারে।
এ সমস্যাটি দূর করতে ফোনের ‘সেটিংস’ থেকে ‘সেলুলার’ অপশনে যান। এরপর সেখান থেকে ‘সেলুলার ডেটা অপশন’-এ গিয়ে ‘ভয়েস ডেটা’ অপশনে যান এবং সেখানে ‘ফাইভজি স্ট্যান্ডঅ্যালোন’ টগলটি খুঁজে বের করুন। এটি চালু করলে আপনার ফোনের পুরো ট্রাফিকটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফাইভজি কোরের মাধ্যমে চলবে।
ফাইভজি নেটওয়ার্কে থাকার পরও যখন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ কমে যায় তখন ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের জন্য এয়ারপ্লেন মোড চালু করে আবার বন্ধ করার কৌশলটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
না, এমনটা কেবল কোনো মনগড়া প্রযুক্তিগত গুজব নয়। এমন করলে ফোনটি নেটওয়ার্কের আটকে থাকা পুরানো সংযোগ বা হ্যান্ডশেক পুরোপুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং একদম নতুন ও সতেজ সেলুলার সংযোগ খুঁজে নেয়।
পাশাপাশি, আপনার আইফোনের সক্রিয় সিমের অধীনে থাকা ‘লো ডেটা মোড’ অপশনটি বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিন। কারণ তা আপনার অজান্তেই ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এমনটা দেখতে ‘সেটিংস’ থেকে ‘সেলুলার’ অপশনে গিয়ে ‘সেলুলার ডেটা অপশন’ যান। এরপর ‘ডেটা মোড’ দেখুন।
সবশেষে আসে ‘ডিএনএস’-এর কথা। একটি ভালো ডিএনএস ব্যবহার না করা মানে হাতের কাছে থাকা বাড়তি গতি হাতছাড়া করা। ইন্টারনেটে কোনো লিংকে ক্লিক করলেই ব্যাকএন্ডে একটি ‘লুকআপ’ বা খোঁজ শুরু হয়, যা যে কোনো ডোমেইন নামকে আইপি অ্যাড্রেসে রূপান্তর করে।
এ রূপান্তরের কাজটি যে সিস্টেম করে তাকে বলে ‘রিজলভার’। আপনার ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানি সাধারণত যে ডিফল্ট রিজলভারটি দিয়ে থাকে তা প্রায়শই ধীরগতির বা জ্যামওয়ালা হয়।
ক্লাউডফ্লেয়ারের ১.১.১.১ সম্পূর্ণ ফ্রি ও পাবলিক ডিএনএস রিজলভার, যা ব্যবহার করে আপনি ব্রাউজিংয়ের লোড টাইম বা সাইট খোলার সময় অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন।
এ ডিএনএস প্রতিটি রিকোয়েস্টকে ভৌগোলিকভাবে আপনার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা সার্ভারে পাঠিয়ে কাজটিকে দ্রুত সম্পন্ন করে। এ ডিএনএস সেটআপের জন্য আপনি অ্যাপ স্টোর থেকে ক্লাউডফ্লেয়ারের আইওএস অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন।