Published : 06 Apr 2026, 10:35 AM
দীর্ঘ ৫০ বছর পর মানুষের চন্দ্রাভিযান শুরু হয়েছে ঠিকই তবে মহাকাশে গিয়েও পার্থিব ঝামেলার হাত থেকে রেহাই মিলছে না। মহাকাশে আর্টেমিস ২ মিশনের নভোচারীরা যে কারিগরি সমস্যায় পড়েছেন তার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট আউটলুক ও টয়লেট নিয়ে।
বুধবার ওরিয়ন মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের আগে নাসার আর্টেমিস টু চন্দ্রাভিযানকে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর মাটি থেকে নাসার ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো নির্দেশনায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ প্রতিবেদনে লিখেছে, ৫০ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম চন্দ্রাভিযান, যা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম লিক, ত্রুটিপূর্ণ হিট শিল্ড ও সুরক্ষা ব্যবস্থার কারিগরি সমস্যার মতো বড় বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়েছে।
তবে মহাকাশে পৌঁছানোর পর চার নভোচারী অদ্ভুত এক বাধার মুখে পড়েছেন, তা হচ্ছে ‘মাইক্রোসফট আউটলুক’।
অভিযানের ১০ দিনের প্রথম দিনেই আর্টেমিস টু-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান আউটলুক ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন।
লাইভস্ট্রিমে পাওয়া তথ্য অনুসারে, এ সমস্যা সমাধানের জন্য মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে টেকনিক্যাল সাপোর্টও চেয়েছেন ওয়াইজম্যান।
“আমি দেখছি, আমার এখানে দুটো মাইক্রোসফট আউটলুক আছে এবং এগুলোর কোনোটিই কাজ করছে না। আপনারা (নাসা) যদি রিমোটলি বা দূর থেকে আমার কম্পিউটারে ঢুকে ‘অপ্টিমাস’ এবং ওই আউটলুক দুটো পরীক্ষা করে দেখতেন তবে খুব ভালো হত।”
ওয়াইজম্যান সমস্যাটির কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরই মিশন কন্ট্রোল থেকে তাকে সুখবর দেওয়া হয়।
নাসার মিশন কন্ট্রোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেছেন, “আমরা ওয়াইজম্যানকে জানাতে চাই, তার ‘পিসিডি-১’ কম্পিউটারে আমাদের রিমোট অ্যাক্সেসের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা অপ্টিমাসের সমস্যাটি সমাধান করেছি এবং আউটলুকও সচল করেছি। তবে তা অফলাইন দেখাবে, যা এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক।”
আসলে নভোচারীরা ইমেইলে কী এমন লিখবেন? মহাকাশে থাকা কি ‘আউট-অফ-অফিস’ বা অফিসের বাইরে আছি এমন ‘অটো-রিপ্লাই’ সেট করার জন্য যথেষ্ট বড় কারণ নয়?
তবে এমনটিই নভোচারীদের একমাত্র পার্থিব অভিজ্ঞতা ছিল না। মহাকাশযানটি ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের টয়লেটেও সমস্যা দেখা দেয়।
নাসার মুখপাত্র গ্যারি জর্ডান বলেছেন, “খবর মিলেছে, টয়লেটের ফ্যানটি জ্যাম হয়ে আটকে আছে। এখন গ্রাউন্ড টিম নভোচারীদের নির্দেশনা দিচ্ছে কীভাবে ফ্যানটি খুলে সেই জায়গাটি পরিষ্কার করে টয়লেটটি আবার সচল করা যায়।”
জর্ডানের মতে, স্বস্তির বিষয় হল, তাদের কাছে ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প ব্যবস্থা’ ছিল। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও এ নভোচারীদের ভাসমান মলের মধ্যে থাকতে হত না। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়াররা টয়লেটের সমস্যাও সমাধান করতে পেরেছেন।
আশা বরা যায়, এই ঝক্কি যেহেতু সামলানো গেছে নভোচারীরা অবশ্যই চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসতে পারবেন।
তবে এ বিষয়ে টেকক্রাঞ্চের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি নাসা ও মাইক্রোসফট।