Published : 15 Jul 2025, 02:31 PM
প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটশ কোটি ডলারের বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ। মামলাটি করেছে খোদ কোম্পানিটিরই বিনিয়োগকারীরা।
এ সপ্তাহে শুরু হওয়া আটশ কোটি ডলারের এক বিরল মামলার বিচারে জাকারবার্গ প্রধান সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, ফেইসবুককে অবৈধ উদ্যোগ হিসেবে পরিচালনা করেছেন মেটার সিইও, যেখানে ব্যবহারকারীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের ডেটা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছেন তিনি।
জাকারবার্গ’সহ মেটার বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটা প্ল্যাটফর্মস-এর বিনিয়োগকারীরা।
তাদের অভিযোগ, ২০১২ সালে ফেইসবুক ও মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি’র মধ্যে ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে করা এক চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করেছেন তারা।
মামলার সূচনা ২০১৮ সালে। ওই সময় বিভিন্ন খবরের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, কোটি কোটি ফেইসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যে প্রবেশ করেছিল ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’ নামের এক রাজনৈতিক পরামর্শক কোম্পানি, যেটি পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে ডনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কাজ করেছিল কোম্পানিটি।
শেয়ারহোল্ডাররা চাইছেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে মেটাকে যেন আটশ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেন জাকারবার্গ ও মামলার অন্য আসামিরা। যার মধ্যে রয়েছে ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’ কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর মেটার দেওয়া জরিমানা ও অন্যান্য খরচ। আরও রয়েছে ২০১৯ সালে এফটিসি’র মাধ্যমে করা ২০১২ সালের চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেইসবুককে দেওয়া রেকর্ড পাঁচশো কোটি ডলারের জরিমানাও।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মেটার সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ, বিনিয়োগকারী ও বোর্ড সদস্য মার্ক অ্যান্ড্রিসেন, সাবেক বোর্ড সদস্য ও ‘প্যালান্টির টেকনোলজিস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার থিল এবং নেটফ্লিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হ্যাস্টিংস।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে রাজি হননি জাকারবার্গ ও অন্যান্যরা। তবে আদালতে দাখিল করা নথিতে এসব অভিযোগকে ‘চরম আবদার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তারা। মেটা নিজে এই মামলার আসামি নয়, তবে তারাও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
জুরি ছাড়াই মামলাটি শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনে এবং আট দিন ধরে চলবে এটি। মূলত এক দশক আগের ঘটনা ও মেটার বিভিন্ন বোর্ড মিটিংয়ের ওপরই নজর থাকবে এ মামলায়। যাতে নির্ধারণ করা যায়, এফটিসি’র ২০১২ সালের চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়ন করেছিলেন ফেইসবুকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মামলাটি পুরানো নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে হলেও এমন সময়ে এটি শুরু হল যে সময় প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বেগ এখনও মেটার পিছু ছাড়েনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
বর্তমানে এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারির মুখে রয়েছে মেটা। মার্কিন যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি বলেছে, ২০১৯ সাল থেকে ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি রক্ষায় শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে তারা।
দুই বছর আগে, মামলাটি বিচার শুরুর আগেই খারিজ করার আবেদন করেছিলেন মামলার আসামিরা। তবে বিচারক তাদের এ আবেদন মঞ্জুর করেননি। সেই সময় মামলার বিচারক ট্র্যাভিস ল্যাস্টার বলেছিলেন, “এটি এমন এক মামলা, যেখানে অনেক বড় মাত্রার ভুল কাজের অভিযোগ উঠেছে।”
এখন ডেলাওয়্যারের চ্যানসারি কোর্টে চলমান এ মামলাটি পর্যবেক্ষণ করবেন বিচারক ক্যাথালিন ম্যাককরমিক।
মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছেন ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী ও ইউনিয়ন পেনশন ফান্ডগুলোর প্রতিনিধিরা, যেমন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘স্টেট টিচার্স রিটায়ারমেন্ট সিস্টেম’। যাদের প্রমাণ করতে হবে, ফেইসবুকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এ ধরনের মামলায় জেতা কঠিন, কারণ পরিচালকদের ব্যর্থতা প্রমাণের কাজটি জটিল।
এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অভিযোগ নিয়ে এটিই সম্ভবত প্রথমবারের মতো শুনানি হতে যাচ্ছে।