Published : 24 Jun 2026, 05:39 PM
দেশে নারীদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার জন্য দুটি ‘উইমেন্স হেলথ ইনস্টিটিউট’ তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
ঢাকায় পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা’ প্রকল্পের সমাপনী ফলাফল উপস্থাপনের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, দেশে কমপক্ষে একটি সম্ভব হলে দুটি উইমেন্স হেলথ ইনস্টিটিউট তৈরির করার ব্যাপারে; যেখানে বিশেষায়িত সেবা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ থাকবে।”
বুধবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রকল্পটির ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, “আগামী দিনের স্বাস্থ্য সেবা এমন হবে, যেখানে মানুষকে যেন কথায় কথায় ঢাকায় চলে আসতে না হয়। আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সাজাবো এমনভাবে, যাতে ৮০ শতাংশ মায়েরা ও রোগীরা তাদের সেবাগুলো ওখানেই পেয়ে যাবে। বাকি ২০ শতাংশের জন্য হয়ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত যেতে হবে। অল্প একটা অংশকে হয়ত বাইরে আসতে হবে বিশেষায়িত সেবার জন্য।”
অনুষ্ঠানে ‘ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা’ প্রকল্পের পরিচালক ডা. জিয়াউল আহসান এর পাঁচ বছরের কার্যক্রম ও ফলাফল তুলে ধরেন। প্রকল্পটির অধীনে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও চাহিদা সৃষ্টির উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি নারী, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর কাছে এসআরএইচআর বিষয়ক তথ্য পৌঁছানো হয়েছে।
ডা. জিয়াউল বলেন, প্রকল্প সহায়তাপ্রাপ্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৩ জন সেবা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত সেবা নিয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫১ জন, মাসিক নিয়মিতকরণ (এমআর) সেবা পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৯৩ জন, এমআর পরবর্তী ও গর্ভপাত পরবর্তী সেবা নিয়েছেন ৩২ হাজার ৫৪৯ জন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সংক্রান্ত সেবা পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৫০ জন।
প্রকল্পের আওতায় রেফারেল হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তৈরি পোশাক কারখানার স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সাধারণ চিকিৎসকদের (জিপি) চেম্বারসহ মোট ১৬৫টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে সক্ষম করে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬৬ জন স্বাস্থ্যসেবাদাতাকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার আর্থিক সহায়তায় ২০২১ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আইপাস বাংলাদেশ। সহযোগী ছিল কানাডার হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাবরশন (বাপসা), অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি), আরএইচস্টেপ ও সিরাক-বাংলাদেশ।
ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসম্মত এসআরএইচআর তথ্য ও সেবার প্রবেশগম্যতা বাড়ানো ছিল প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা, বাংলাদেশে কানাডা হাই কমিশনের হেড অব কো-অপারেশন স্টিফেন উইভার উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সাঈদ রুবায়েত।