Published : 10 Mar 2026, 05:12 PM
মার্কিন সরকারের বিতর্কিত শুল্ক বা ট্যারিফ নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে জাপানি ভিডিও গেইম জায়ান্ট নিনটেনডো। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে অবৈধভাবে আদায় করা শুল্কের অর্থ সুদসহ ফেরত পেতে মার্কিন অর্থ ও নিরাপত্তা বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কোম্পানিটি।
‘আফটারম্যাথ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এ মামলায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এবং শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগকে অভিযুক্ত করেছে ‘নিনটেনডো অফ আমেরিকা’।
ভিডিও গেইম জগতের এ জায়ান্টটি ‘বাজার পরিস্থিতির’ অজুহাতে ২০২৫ সালের অগাস্টেই ‘নিনটেনডো সুইচ’-এর দাম বাড়িয়েছিল। তবে তাদের নতুন কনসোল ‘সুইচ ২’-এর দাম এখন পর্যন্ত অপরিবর্তিত রেখেছে।
নিনটেনডোর এই মামলাটি মার্কিন ‘কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় গেল ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের উল্লেখ করেছে তারা।
ওই রায়ে নিম্ন আদালতের একটি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিনটেনডোর আইনজীবীদের দাবি, ‘অননুমোদিত নির্বাহী আদেশ’ এবং সেটি কার্যকর করার ফলে নিনটেনডো ‘ব্যাপক ক্ষতির মুখে’ পড়েছে, বিশেষ করে পণ্য আমদানির জন্য তাদের মোটা অংকের শুল্ক বা ফি দিতে হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটি তাদের দেওয়া সব ধরনের শুল্ক সুদসহ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি করছে।
এক বিবৃতিতে ‘নিনটেনডো অফ আমেরিকা’ বলেছে, “ আমরা শুধু এইটুকু বলছি যে, আমরা একটি আবেদন জমা দিয়েছি। এর বাইরে আমাদের আর কিছু বলার নেই।”
কর বা শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য নীতি নির্ধারণের কথা মার্কিন কংগ্রেসের। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে একগুচ্ছ বৈশ্বিক শুল্ক নীতি চালু করেন।
এক্ষেত্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ নামের একটি আইন ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। এ আইনে কোনো বৈশ্বিক জরুরি অবস্থার সময় প্রেসিডেন্ট বাণিজ্যের ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ বা সক্ষমতা পান।
এই শুল্ক শত্রু রাষ্ট্রগুলোকে শাস্তি দেওয়ার ও বাণিজ্যিক পার্টনারদের সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক কোম্পানি পণ্য আমদানির এ বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, অর্থাৎ পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।
‘ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া’র ‘ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট’ ও ‘ইউএস কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এর দেওয়া রায়গুলো বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের সেই ক্ষমতাটি কেড়ে নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা জরুরি অর্থনৈতিক সক্ষমতা আইন ব্যবহার করে শুল্ক বা ট্যাক্স আদায় করত।
তবে, সরকার অবৈধভাবে যে পরিমাণ অর্থ শুল্ক হিসেবে সংগ্রহ করেছিল তা কীভাবে বিভিন্ন কোম্পানিকে ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেয়নি।
নিনটেনডোর মতো অন্যান্য অনেক কোম্পানিও তাদের পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হিসাবে আদালতের মাধ্যমে মামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ এরইমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন কোম্পানিকে অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য একটি সিস্টেম বা পদ্ধতি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে এর মানে এই নয়, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির অবসান ঘটছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন, তিনি অন্য কিছু আইনি পথ ব্যবহার করে আবারও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন। তবে সেসব পথ কিছুটা সীমাবদ্ধ।
নিনটেনডো যে কেবল এই শুল্ক নিয়ে সমস্যায় রয়েছে তা নয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে র্যামের যে সংকট চলছে তার কারণেও কোম্পানিটি তাদের গেইমিং কনসোলের দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।