Published : 25 Mar 2026, 05:08 PM
ইউরোপের রাস্তায় চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি নামাতে হাত মেলালো মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া ও ইউরোপের রাইডশেয়ারিং কোম্পানি বোল্ট।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি সম্মেলন ‘জিটিসি ২০২৬’-এ এনভিডিয়া ও বোল্ট পারস্পরিক এক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে।
এ চুক্তির ফলে বোল্ট এমন কিছু এনভিডিয়া প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যা তাদের নিজেদের পক্ষে তৈরি করা ব্যয়বহুল ও কঠিন হত।
অন্যদিকে, এনভিডিয়া কেবল বড় গ্রাহকই পেল না, বরং ইউরোপীয় এ রাইডশেয়ারিং কোম্পানির ড্রাইভিং সংক্রান্ত তথ্যে প্রবেশাধিকারও পেয়েছে।
বোল্ট বলেছে, তাদের গাড়িবহর থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে এনভিডিয়ার প্রযুক্তিতে স্বচালিত যান বা চালকবিহীন গাড়ির জন্য ‘লার্নিং ইঞ্জিন’ বা শেখার মাধ্যম তৈরি হবে।
এ রাইডশেয়ারিং কোম্পানিটি তাদের বিভিন্ন ড্রাইভিং ডেটা সাজাতে ও খুঁজে বের করতে ‘এনভিডিয়া কসমস’ ব্যবহার করবে। বাস্তবের বিভিন্ন ড্রাইভিং রেকর্ডকে ডিজিটাল মডেলে রূপান্তর করতে ‘এনভিডিয়া ওমনিভার্স’ ব্যবহার এবং পরে ‘কসমস’-এর সহায়তায় আরও বড় পরিসরে তথ্য সংগ্রহ করবে বোল্ট।
ইউরোপের শহরগুলোতে কীভাবে নিরাপদে ও সঠিকভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা শেখার জন্য এনভিডিয়ার বিশেষ ‘আলপামায়ো’ মডেলটি ব্যবহৃত হবে। বোল্ট তাদের স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন গাড়িতে এনভিডিয়ার ‘ড্রাইভ হাইপারিয়ন’ প্ল্যাটফর্ম যোগ করবে।
এনভিডিয়া ইএমইএ অটোমোটিভ বিভাগের ভিপি ফিলিপ ভ্যান ডেন বার্গ বলেছেন, “স্বয়ংক্রিয় গাড়ির জন্য এমন এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে এআই মডেল, উচ্চক্ষমতাওয়ালা কম্পিউটার ও শক্তিশালী সেন্সর প্রযুক্তি সবকিছুর সমন্বয় থাকবে।
“বোল্ট-এর বাস্তব অভিজ্ঞতার তথ্য ও এনভিডিয়া ড্রাইভ হাইপারিয়ন প্ল্যাটফর্মকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে আমরা এমন ভিত্তি তৈরি করছি, যা নিরাপদ হবে।
“ইউরোপের রাস্তার জটিলতা ও বৈচিত্র্য মাথায় রেখে উচ্চমানের স্বয়ংক্রিয় যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে আমাদের এ পদক্ষেপ।”
বোল্ট দীর্ঘদিন ধরেই চালকহীন ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের শেষদিকে তারা ‘পনিডটএআই’ ও ‘স্টেলান্টিস’-এর সঙ্গেও পার্টনারশিপের ঘোষণা দিয়েছিল।
এনভিডিয়া ও বোল্ট এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সময় জানায়নি যে ঠিক কবে নাগাদ ইউরোপের শহরগুলোতে এ প্রযুক্তিনির্ভর রোবোট্যাক্সি দেখা যাবে।
তবে তারা বলেছে, বোল্টের গাড়িবহর থেকে সংগৃহীত সব ধরনের তথ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য সুরক্ষা আইন বা জিডিপিআর মেনে সংগ্রহ করা হবে।
ইউরোপের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি ও ছোট-মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এ তথ্যের ওপেনসোর্স বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাবে।