Published : 12 Mar 2026, 01:05 PM
সাইবার অপরাধ বাড়লেও লোকলজ্জা, ভীতি ও কারিগরি জড়তার কারণে ৬৫ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা সাহায্য চাইতে দ্বিধা বোধ করছেন বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
নতুন গবেষণা বলছে, সাইবার অপরাধের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও বয়স্ক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়ে সাহায্য চাইতে গিয়ে ‘ভীতি বা জড়তা’ অনুভব করেন।
এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ টেলিকম বা বিটি গ্রুপ বিশেষ এক সতর্কতা জারি করেছে। গবেষণাটিও তাদেরই করা।
বিটি গ্রুপ জনপ্রিয় শো ‘গ্যাভিন অ্যান্ড স্টেসি’র জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেলানি ওয়াল্টার্সের সঙ্গে যোগ হয়ে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
তাদের লক্ষ্য, এ ধরনের ক্রমাগত সাইবার হামলার মুখে বয়স্করা যেন ভয় পেয়ে গুটিয়ে না যান, বরং প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করেন।
বিটি গ্রুপের গবেষণা অনুসারে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী অর্ধেক মানুষই অনলাইনে প্রতারণার শিকার হওয়ার ভয়ে থাকেন। প্রায় ৯০ শতাংশ প্রবীণ নাগরিক মনে করেন কীভাবে এই জালিয়াতি চেনা যায় ও তা এড়িয়ে চলা যায় সে বিষয়ে তাদের আরও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
বর্তমানে প্রতারকরা প্রবীণদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ৬৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের ৪৪ শতাংশ বলেছেন, তারা অন্তত ১০ বারের বেশি এ ধরনের প্রতারণা চেষ্টার শিকার হয়েছেন।
তবে এ গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এ প্রযুক্তিগত জ্ঞান পেতে কোনো ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে ‘ভীতি বা জড়তা’ অনুভব করেন।
অভিনেত্রী মেলানি ওয়াল্টার্স বলেছেন, গত বছর তিনিও এমন এক প্রতারণার জালে প্রায় ফেঁসে যাচ্ছিলেন, যেখানে তার হাজার হাজার পাউন্ড লোকসান হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
“এখানে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে তা হচ্ছে, এ প্রতারণাটি কতখানি সুকৌশলে করা হচ্ছিল। আমি অনলাইনে বেশ সতর্ক থাকি ও লিংকে ক্লিক না করার মতো সাধারণ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানি। তবে প্রতারকরা অনেক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল।
“সবকিছুর শুরু হয় যখন আমি একটি ইমেইল পাই, সেখানে আমাকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, আমার নতুন ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে ছবি বা তথ্য ব্যবহৃত হয়েছিল তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। আমি ধরে নিয়েছিলাম এমনটি আমার পাসপোর্টের তথ্য।
“এরপর আমাকে সুপরিচিত এক কোম্পানির মাধ্যমে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে ‘ক্রেডিট স্কোর’ চেকিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা একটি লিংক ও কোড ব্যবহার করে দেখা যাবে।
“এর ঠিক এক মাস পর অন্য একটি ব্যাংক থেকে আমার কাছে একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, কেউ একজন আমার নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করেছে। এ প্রতারণাটি কতটা ধূর্ত ও সুকৌশলে হতে পারে তা দেখে আমি সত্যিই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
“আমি যদি সেই লিংকে ক্লিক করে আমার ব্যাংকের তথ্য দিয়ে দিতাম তবে আমি হাজার হাজার পাউন্ড হারানোর ঝুঁকিতে পড়তাম।”
বয়স্কদের জন্য আয়োজিত এক কারিগরি ক্লাসে অংশ নিয়েছিলেন ওয়াল্টার্স, যার উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রতারণা শনাক্ত করতে সাহায্য করা। এ ক্লাসে প্রবীণদের শেখানো হয় কীভাবে জালিয়াতি ধরা যায়।
পাশাপাশি সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মতো প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করে।
বর্তমান সময়ে প্রতারকরা এআই ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠ নকল করছে এবং আগের চেয়ে বেশি সূক্ষ্ম, গোছানো ও ভয়ংকর উপায়ে সাইবার হামলা চালাচ্ছে।