Published : 04 Mar 2026, 05:36 PM
ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো থেকে কোটি কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সম্পদ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাড়না এর কারণ হতে পারে।
রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শনিবার ইরানে কেবল কয়েক ঘণ্টায় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো থেকে অর্থ তোলার পরিমাণ ব্যাপকহারে বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছে দুটি ব্লকচেইন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান। তবে গবেষকরা বলছেন, অর্থ সরানোর পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মার্কিন ব্লকচেইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চেইনালাইসিস’ বলেছে, হামলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো থেকে ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, শনিবার গ্রিনিচ মান সময় সোয়া ৬টা নাগাদ হামলার প্রথম খবর পাওয়া যায়।
ব্রিটিশ ব্লকচেইন গবেষক দল ‘ইলিপটিক’ বলেছে, শনিবার গ্রিনিচ মান সময় ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘নোবিটেক্স’ থেকে সর্বোচ্চ ২৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার তোলা হয়েছে, যা আগের দিনের সর্বোচ্চ প্রতি ঘণ্টার উত্তোলনের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।
চেইনালাইসিসের তথ্য অনুসারে, শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে ইরানি এক্সচেঞ্জগুলো থেকে সর্বমোট ১ কোটি ৩ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়ো দেয়নি নোবিটেক্স।
ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সির ভূমিকা
ব্লকচেইন গবেষকদের মতে, এসব তথ্য ইরানের অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাড়তে থাকা প্রভাবেরই আভাস দিচ্ছে। সাধারণত দেশটিতে যে কোনো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।
লেনদেনের সঠিক পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও গবেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালে ইরানে ক্রিপ্টো লেনদেনের পরিমাণ ৮০০ থেকে ১১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ বিনিয়োগকারী, সবাই এখন ডিজিটাল মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন।
গেল ফেব্রুয়ারিতে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছিল, নির্দিষ্ট কিছু ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াচ্ছেন কি না তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
ঝুঁকি বাড়ায় অর্থ সরিয়ে নিয়েছে ইরানিরা
ক্রিপ্টো ওয়ালেট অ্যাড্রেসগুলো ছদ্মনামে থাকে, যা ব্লকচেইনে অক্ষর ও সংখ্যার দীর্ঘ এক সারি হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ফলে লেনদেনের পেছনে আসলে কে আছে তা নিশ্চিত করা কঠিন।
চেইনালাইসিস বলেছে, গত কয়েক দিনে ঠিক কারা ও কেন এই অর্থ সরিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
“এই অর্থ প্রবাহের কিছু অংশ নিশ্চিতভাবেই সাধারণ ইরানিদের, যারা ক্রমাগত ঝুঁকির কারণে নিজেদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। অন্যগুলো হতে পারে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর নিজস্ব পদক্ষেপ, হয়ত তারা তাদের তারল্য পুনর্গঠন করছে বা ব্লকচেইনে নিজেদের কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা কমানোর চেষ্টা করছে। আবার এমনও হতে পারে, সরকারি সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ মূলধারার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করছে।”
ইলিপটিক বলেছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে এ অর্থ বিদেশের বিভিন্ন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে পাঠানো হচ্ছে, যা সম্ভবত ‘ইরান থেকে পুঁজি পাচারের’ লক্ষণ।
তবে অন্য একটি মার্কিন ব্লকচেইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘টিআরএম’ বলেছে, নোবিটেক্স-এর এই অর্থ প্রবাহ ‘পদ্ধতিগত পুঁজি পাচারের চেয়ে চাপের মুখে অস্থির পরিস্থিতির প্রতিফলন’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সির অংশ এখনও সামান্য। তবে যেসব উদীয়মান বাজারের মুদ্রা দুর্বল, সেখানে এর ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।