১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গুগল ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলায় এপস্টাইনের ভুক্তভোগী

মামলায় দাবি করা হয়েছে, যখন কেউ গুগলের এআই মোডের কাছে এ ধরনের তথ্য জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছে তখন তা ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে উত্তর দিয়েছে।

গুগল ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলায় এপস্টাইনের ভুক্তভোগী
মার্কিন বিচার বিভাগ ২০২৫ সালের শেষদিকে ও ২০২৬ সালের শুরুতে এপস্টাইনের প্রায় একশ জন ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করেছিল। ছবি: হাউস ওভারসাইট ডেমোক্র্যাটস

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Mar 2026, 04:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:16 PM

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের শিকার হওয়া নারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে গুগল ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে যৌথ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী দলের একজন ব্যক্তি।

তাদের অভিযোগ, মার্কিন বিচার বিভাগ ও গুগলের ‘এআই মোড’ ভুক্তভোগীদের নাম ও ইমেইল ঠিকানার মতো গোপন তথ্য সবার সামনে উন্মুক্ত করে দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

মামলাটি ইন্টারনেটের মার্কিন সুরক্ষা আইন ও এআইয়ের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে নিজের ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসন ও গুগলের বিরুদ্ধে এ ক্লাস অ্যাকশন মামলাটি দায়ের করেছেন ওই ভুক্তভোগী।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের পাশে গুগলের প্রধান কার্যালয়ও অবস্থিত।

মামলায় অভিযোগ উঠেছে, কোনো অধিকার ছাড়াই বেআইনিভাবে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ ও তা প্রচার করা হয়েছে।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ ২০২৫ সালের শেষদিকে ও ২০২৬ সালের শুরুতে এপস্টাইনের প্রায় একশ জন ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করেছিল।

সরকার পরবর্তীতে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সেই তথ্য সরিয়ে নিলেও গুগলের মতো বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম তা ‘ক্রমাগত প্রচার করে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের বারবার অনুরোধের পরও তা সরাতে অস্বীকার করছে’।

গুগলের বিষয়ে মামলায় বলা হয়েছে, কোম্পানির মূল সার্চ ইঞ্জিন ও তাদের এআইওয়ালা সারাংশ তৈরির ফিচার ‘এআই মোড’ ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের জন্য দায়ী।

“বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগীরা এখন নতুন করে ট্রমার মুখে পড়ছেন। অপরিচিত ব্যক্তিরা তাদের ফোন দিচ্ছে, ইমেইল করছে, শারীরিক নিরাপত্তার হুমকি দিচ্ছে এবং তাদের এপস্টাইনের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করছে। অথচ বাস্তবে তারা নিজেরাই ছিল এপস্টাইনের শিকার।”

এ অভিযোগটি দায়েরকারী নিজের আসল নামের পরিবর্তে ‘জেন ডো’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

কয়েক মাসের চাপের মুখে এ বছরের শুরুতে এপস্টাইন সংক্রান্ত আরও ৩০ লক্ষাধিক পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ, যার মধ্যে ছবি ও ভিডিও রয়েছে।

২০১৯ সালের অগাস্টে ফেডারেল শিশু পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর নিউ ইয়র্ক সিটির এক কারাগারে এপস্টাইন নিজের জীবনাবসান ঘটান।

গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করার মাধ্যমে বাদীরা আসলে দেখতে চাইছেন, ইন্টারনেট কোম্পানি ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের সুরক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত আইনের কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট মাধ্যমের বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করে ‘কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট’-এর ‘সেকশন ২৩০’। দীর্ঘদিন ধরে এ আইনটি বড় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে তাদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রকাশিত কোনো তথ্যের জন্য আইনি দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দিয়ে আসছে।

এআই জেনারেটেড কনটেন্ট ও অনুমতিহীন ডিপফেইক পর্ন নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন সব বিতর্কের মধ্যে ইন্টারনেট জায়ান্টরা এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এ মাসের শুরুতে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বাবা গুগলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তার অভিযোগ, গুগলের জেমিনাই চ্যাটবট তার ছেলেকে বড় ধরনের হামলা চালাতে ও শেষ পর্যন্ত তার জীবনাবসানে প্ররোচিত করেছিল।

এপস্টাইনের শিকার ব্যক্তিদের করা এ মামলায় অভিযোগ উঠেছে, গুগল ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ নিজেদের সিস্টেমের নকশা এমনভাবে তৈরি করেছে, যা ভুক্তভোগীদের ‘এসব তথ্য প্রচার করে হয়রানিকে উসকে দিচ্ছে’।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, গুগলের ‘এআই মোড’ কোনো নিরপেক্ষ সার্চ ইনডেক্স নয়। এ অভিযোগটি এমন এক সময়ে এল যখন এ সপ্তাহেই মেটা ও গুগলের ইউটিউবের বিরুদ্ধে দুটি জুরি রায় ঘোষণা করেছে।

ওই রায়ে বলা হয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের সাইটে এমন সব কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে যা বাস্তবে মানুষের ক্ষতি করছে।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ মেটার বিরুদ্ধে এ মামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, “প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, এইসব মামলা কংগ্রেসকে ‘সেকশন ২৩০’ ধারাটি পুনরায় খতিয়ে দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। তারা হয়ত ধারাটি পুরোপুরি বাতিল করবে না, তবে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।”

সর্বশেষ এ নতুন মামলায় দাবি করা হয়েছে, গুগলের এআই জেনারেটেড কনটেন্ট ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। যখন কেউ গুগলের ‘এআই মোড’-এর কাছে এ ধরনের তথ্য জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছে তখন তা ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত তথ্য যোগ করে উত্তর দিয়েছে।

অভিযোগটিতে আরও বলা হয়েছে, সরকার অতীতে প্রযুক্তি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে এসব তথ্য সরিয়ে নিতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য সবার সামনে এসেছে।

“বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও ডিভাইসে বারবার প্রদর্শিত এ উত্তরের অংশ হিসেবে গুগলের এআই মোড বাদীর পুরো নাম ও ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করেছে, সেখানে ‘হাইপারটেক্সট লিংক’ও তৈরি করে দিয়েছে, যাতে যে কেউ কেবল এক ক্লিকের মাধ্যমেই সরাসরি বাদীর কাছে ইমেইল পাঠাতে পারে।”

গুগল ও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনেুরোধে রাজি হননি তারা।