১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদ ঘুরে আসা নভোচারীদের হাতে কোন ঘড়ি?

শেষবার যখন মানুষ চাঁদে গিয়েছিল, তখন নভোচারীদের হাতে ছিল ওমেগা স্পিডমাস্টার ঘড়ি। স্পোর্টসওয়াচ শ্রেণির সে ঘড়িও নাসা বাছাই করেছিল কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে।

চাঁদ ঘুরে আসা নভোচারীদের হাতে কোন ঘড়ি?
ওমেগা স্পিডমাস্টার অ্যানা ডিজি এক্স-৩৩ এই অভিযানের অফিশিয়াল ঘড়ি। ছবি: ওমেগা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Apr 2026, 07:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:21 PM

‘আর্টেমিস টু’ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের অনেক দূর পর্যন্ত ভ্রমণ করে গভীর মহাকাশের বিকিরণ, জীবনধারণ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা করে ফিরছেন।

এর আগে শেষবার যখন মানুষ চাঁদে গিয়েছিল, তখন নভোচারীদের হাতে ছিল ওমেগা স্পিডমাস্টার ঘড়ি। স্পোর্টসওয়াচ শ্রেণির সে ঘড়িও নাসা বাছাই করেছিল কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে।

নিল আর্মস্ট্রংসহ তিন চন্দ্রবিজয়ী পৃথিবীতে ফেরার পর ওমেগা তাদের ওই বিশেষ মডেলের স্পিডমাস্টারের নাম দেয় ‘মুনওয়াচ’।

এবার, অর্ধশতক পর বাজারে আরও উন্নত ঘড়ি এসেছে, শুরু হয়েছে স্মার্টওয়াচের জোয়ার। এবার তবে নভোচারীদের হাতে কী আছে? এ উত্তরটি খোঁজার চেষ্টা করেছেন হাতঘড়ি বিষয়ক জনপ্রিয় ভ্লগার টেডি বলডেসার। নাসার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন।

আর হ্যাঁ, অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পর মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যে ওমেগা মুনওয়াচের ঐতিহ্য ফের আলোচনায় এসেছে। অ্যাপোলো মিশনের ধারাবাহিকতায় আর্টেমিস টু মিশনেও ঘড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এবং আবার সেই ওমেগা স্পিডমাস্টার।

আর্টেমিস টু মিশনের নাসা নভোচারিরা, কব্জিতে নয়, বলা চলে কনুইয়ে স্পিডমাস্টার এক্স-৩৩ অ্যানা-ডিজি। ছবি: নাসা

আর্টেমিস টু মিশনের নাসা নভোচারিরা, কব্জিতে নয়, বলা চলে কনুইয়ে স্পিডমাস্টার এক্স-৩৩ অ্যানা-ডিজি

তবে, মিল কেবল ওইটুকুই। এবার ঐতিহ্যবাহী মেকানিকাল মুনওয়াচ নয়, নভোচারীদের হাতে দেখা গেছে স্পিডমাস্টারের আধুনিক এক্স-৩৩ অ্যানা-ডিজি সংস্করণ। ১৯৯৮ সালে উন্মোচিত এই ঘড়ি ‘মার্সওয়াচ’ নামেও পরিচিত। এটি নাসা অনুমোদিত দ্বিতীয় স্পিডমাস্টার, যা বাজারে এখন আর না থাকলেও এই মিশনে তার প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট।

উৎক্ষেপণের আগে যখন চার নভোচারী কমলা রঙের পোশাক পরে প্রথমবারের মতো বাইরে আসেন, তখন তাদের হাতে স্পষ্ট দেখা গেছে এই এক্স-৩৩ ঘড়ি।

তবে এ মিশনে এটিই একমাত্র ঘড়ি নয়। উৎক্ষেপণের আগে নভোচারীদের হাতে দেখা গেছে আরেকটি ঐতিহাসিক ব্র্যান্ডের ঘড়ি।

সারা বিশ্বেই পাইলটদের পছন্দের ঘড়ির ব্র্যান্ড ব্রাইটলিং। সুইস এই ঘড়ির বিশেষ একটি সিরিজও দেখা গেছে এবার - ব্রাইটলিং কসমোনট।

এর ইতিহাসও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নভোচারী স্কট কার্পেন্টার পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণের সময় একটি বিশেষ ২৪ ঘণ্টা ডায়ালের ব্রাইটলিং ব্যবহার করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই কসমোনট নামটি প্রতিষ্ঠা পায়।

প্রথম মুনওয়াচ। ওমেগা স্পিডমাস্টার প্রফেশনাল, ৪২ মিলিমিটার ডায়াল, স্টিল কেসিং। ছবি: ওমেগা

প্রথম মুনওয়াচ। ওমেগা স্পিডমাস্টার প্রফেশনাল, ৪২ মিলিমিটার ডায়াল, স্টিল কেসিং

বর্তমান মিশনের তিন পুরুষ সদস্যের কাছেই এই কসমোনট ঘড়ি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিড ওয়াইজম্যান ও ভিক্টর গ্লোভার ছাড়াও জেরেমি হ্যানসেনের হাতেও এটি দেখা গেছে।

তবে এই ঘড়িটি সম্ভবত বাজারে প্রচলিত সংস্করণ নয়। এর নকশায় কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় এটি হয়তো এই মিশনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

অন্যদিকে, ক্রিস্টিনা কোচকে নিয়মিত স্পিডমাস্টার এক্স-৩৩ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। নারী হিসেবে দীর্ঘতম একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ডধারী কোচ এই মিশনেও প্রযুক্তিগত ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

সব মিলিয়ে, ওমেগা আর ব্রাইটলিং—দুই ব্র্যান্ডের ঘড়িই মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আর্টেমিস টু মিশনে এই ঐতিহ্য নতুন করে সামনে এসেছে। যদিও সব ঘড়ি উৎক্ষেপণের সময় দৃশ্যমান ছিল না, তবুও ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো কোনো না কোনোভাবে মিশনের অংশ।