Published : 24 Apr 2026, 03:17 PM
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কয়লাজনিত বায়ু দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এবার তাই প্রথমবারের মতো শহরটিতে দূষণ সতর্কীকরণ অ্যাপ চালু করেছেন সেখানকার বিজ্ঞানীরা।
রয়টার্স লিখেছে, পচা ডিমের মতো সালফারের গন্ধে যখন শহরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ, তখন শত শত মনিটরিং সিস্টেমের তথ্য ব্যবহার করে এই অ্যাপটি বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানাবে।
‘ইউনিভার্সিটি অফ উইটওয়াটারসরান্ড’-এর বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন একটি অ্যাপ তৈরি করলেন। আফ্রিকার এ সমৃদ্ধ শহরটি দেশটির বিভিন্ন কয়লাখনির খুব কাছেই অবস্থিত। ফলে এখানকার বাতাসে প্রায়ই পচা ডিমের মতো সালফারের গন্ধ পাওয়া যায়।
জোহানেসবার্গের এ দুর্গন্ধের জন্য শহর থেকে চারশ কিলোমিটার পূর্বের খনি ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত হাইড্রোজেন সালফাইডকে দায়ী করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশমন্ত্রী উইলি আকাম্প।
তিনি বলেছেন, “সালফারের এ গন্ধ সেসব খনি থেকে আসছে যারা দূষণ রোধে নির্ধারিত নির্গমনসীমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা এখনও নির্দিষ্টভাবে কোনো খনিকে চিহ্নিত করতে পারিনি, তবে তদন্ত চলছে।”
এ বছরের শেষদিকে চালু হতে যাওয়া অ্যাপটি শত শত বায়ু তদারকি ব্যবস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। বায়ু দূষণ বেড়ে গেলে, অ্যাপটি বাসিন্দাদের ফোনে নোটিফিকেশন পাঠাবে এবং মাস্ক পরার মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার পরামর্শ দেবে।
তবে মনে রাখা জরুরি, মাস্ক কেবল ধোঁয়াশা ও ভস্ম বা কালি আটকানোর ক্ষেত্রে কাজ করে; সালফার যৌগের মতো ক্ষতিকর গ্যাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না।
জোহানেসবার্গের বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা
দক্ষিণ আফ্রিকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এই কয়লা শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। দেশের তিন-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ ও এক-চতুর্থাংশ তরল জ্বালানি এ কয়লা থেকেই আসে, যা ‘সাসোল’ নামে একটি কোম্পানি কয়লা থেকে রূপান্তর করে।
জোহানেসবার্গের বাসিন্দা ফিলাসান্দে শেঞ্জ আগে থেকেই হাঁপানিতে ভুগছেন। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তার প্রচণ্ড কাশি শুরু হয়। চিকিৎসকরা তাকে বলেছেন, শহরের দূষিত বাতাসই এর মূল কারণ।
“আমি ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিলাম না, ঘুমাতেও পারছিলাম না। এ অসুস্থতায় আমার ওজন প্রায় ১৫ কেজি কমেছে।”
রয়টার্স আরও পাঁচজন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা প্রত্যেকে সর্দি-জ্বর, ঝিমুনি, সাইনাসের সমস্যা এবং হাঁপানি বেড়ে যাওয়ার মতো অসুস্থতার কথা বলেছেন।
বায়ু দূষণের অর্থনৈতিক ক্ষতির সঠিক হিসাব হচ্ছে না
‘সাউথ আফ্রিকান কনসোর্টিয়াম অফ এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং’ নামের অ্যাপটির উদ্ভাবক ও গবেষক ব্রুস মেল্লাডো বলেছেন, তাদের সিস্টেমে ইদানীং বায়ু দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বৃহত্তম দূষণকারী কোম্পানি ‘সাসোল’ ও রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ‘এসকম’। তাদের জন্য ২০২৫ সালে দূষণের নির্ধারিত নির্গমনসীমা থেকে ছাড় পাওয়ার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এসব কোম্পানির সবচেয়ে বড় কারখানাগুলো জোহানেসবার্গের পূর্ব দিকে অবস্থিত।
সাসোলের মুখপাত্র অ্যালেক্স অ্যান্ডারসন বলেছেন, “কারখানায় এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা দুর্ঘটনা ঘটেনি, যা থেকে অনিয়ন্ত্রিত বা অস্বাভাবিক হারে সালফার নির্গমনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।”
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি এসকম।
বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিথিলতার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ।
তবে অধিকারকর্মীদের মতে, দূষণজনিত রোগের কারণে যে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় এই যুক্তিতে বিষয়টিকে খাটো করে দেখা হচ্ছে।
‘গ্রাউন্ডওয়ার্ক’-এর ক্যাম্পেইন কোঅর্ডিনেটর রিকো ইউরিপিদু বলেছেন, “বায়ু দূষণ আসলে আমাদের কতটা আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে তা বোঝার জন্য আমাদের আরও বেশি করে সামাজিক পর্যায়ের তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।”