Published : 14 Aug 2025, 02:44 PM
বর্তমানে মানুষকে অসংখ্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট সামলাতে হয়, ফলে অনেকে সুবিধার জন্য সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড বেছে নেন অথবা একই পাসওয়ার্ড একাধিক সাইট বা প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করেন। এ অভ্যাসের সুবিধা থাকলেও এটি মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করে।
প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট ‘হাও স্টাফ ওয়ার্কস’ ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড বিশ্লেষণ করে এক প্রতিবেদনে লিখেছে, বেশিরভাগই কিবোর্ডে ধারাবাহিকভাবে থাকা অক্ষর বা সংখ্যা। এটি একেবারেই নিরাপদ নয় কারণ হ্যাকাররা সহজেই এই ধরনের পাসওয়ার্ড অনুমান করতে পারে।
কিছুটা ভিন্ন হলেও সাধারণ বিশেষ্য বা বাক্যের কিছু অংশ ব্যবহার করাও খুব একটা কাজে দেয় না। হ্যাকাররা স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এসব পাসওয়ার্ড বের করতে পারবে।
ওই তালিকার নিচে আরও কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় যেমন- প্রাণীর নাম, জনপ্রিয় খেলা কিংবা সাধারণ কোনো ব্যক্তির নাম। অনেকেই নিজেদের নাম, জন্মস্থান বা জন্মতারিখ ব্যবহার করেন যা সহজেই ফিশিং বা পরিচিত কারও মাধ্যমে ফাঁস হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড সাধারণত কিবোর্ড, সংখ্যা বা বর্ণানুক্রমিক ক্রমে সাজানো হয় এবং কেবল ছোট হাতের অক্ষর ব্যবহার করে। সুরক্ষিত পাসওয়ার্ড তৈরির ক্ষেত্রে এসব অভ্যাস একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি প্রচলিত শব্দ, সহজে অনুমান করা যায় এমন বাক্য বা ব্যক্তিগত তথ্যও পাসওয়ার্ডে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সাধারণ তবে কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এক্ষেত্রে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় তুলে ধরা হলো:
১. জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার
পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো জটিল ও দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। এতে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে নিরাপদ পাসওয়ার্ড হলো এমনটি, যা কোনো মানুষ ভেবে তৈরি করেনি বরং এলোমেলোভাবে জেনারেট করা হয়েছে। ক্রোমসহ অনেক ব্রাউজার ও অ্যাপ এই ধরনের পাসওয়ার্ড তৈরি করে দেয়। তবে এগুলো মনে রাখা কঠিন হওয়ায় নিরাপদভাবে লিখে রাখা বা সংরক্ষণ করাটাও একইরকম গুরুত্বপূর্ণ।
২. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করা
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মত সংবেদনশীল তথ্য রক্ষায় সবসময় টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করা উচিত। এতে পাসওয়ার্ড পেলেও কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না যদি না দ্বিতীয় ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ায় সফল হতে পারে। এটি ব্যবহারে লগইন করতে বেশি সময় প্রয়োজন হলেও নিরাপত্তার জন্য এটি খুবই জরুরি।
৩. একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করা
একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। যদি কোনোভাবে একটি পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে যায় তারা ‘ক্রিডেনশিয়াল স্টাফিং’ পদ্ধতিতে একই পাসওয়ার্ড দিয়ে শত শত সাইটে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।
৪. পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার
যখন জটিল ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়, তখন সব মনে রাখা কঠিন হয়ে যায়। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এই সমস্যার সমাধান করে, যেখানে একটি মাস্টার পাসওয়ার্ড দিয়ে বাকি সব পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত থাকে। আধুনিক ব্রাউজারগুলোর বিল্ট-ইন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সহজে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ ও অটোফিল করতে পারে।
তবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য এমন ম্যানেজার ব্যবহার করা ভালো যা অনলাইন সার্ভারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে না বরং শুধু স্থানীয় ডিভাইসে রাখে। এমনকি অফলাইন ডিভাইস-ভিত্তিক পাসওয়ার্ড ম্যানেজারও পাওয়া যায়, যা ইন্টারনেটের সঙ্গে কোনো সংযোগ রাখে না।