Published : 31 Oct 2025, 10:56 AM
প্রযুক্তি খাতের বড় বিভিন্ন কোম্পানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এআই উত্থানকে কাজে লাগাতে তৎপর এসব কোম্পানি, যা তাদের শেয়ার মূল্যকে পৌঁছে দিয়েছে রেকর্ড উচ্চতায়।
বুধবার নিজেদের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা, সার্চ জায়ান্ট গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট ও সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট।
বিবিসি লিখেছে, এসব কোম্পানির আয়ের প্রতিবেদনে থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে চিপ পর্যন্ত সবকিছুর জন্য মোটা অংকের অর্থ খরচ করছে এসব কোম্পানি। তবে প্রশ্ন উঠছে এই বিনিয়োগ থেকে কতটা লাভ করবে তারা।
মেটা বলেছে, ২০২৫ সালে ডেটা সেন্টার বা হার্ডওয়্যারের মতো নতুন প্রযুক্তি বা অবকাঠামো তৈরিতে ৭ হাজার কোটি ডলার থেকে ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলার খরচের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যেখানে কোম্পানিটির আগের অনুমান ছিল ৬ হাজার ৬০০ থেকে ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
কোম্পানিটি বলেছে, ২০২৬ সালে নিজেদের খরচ বৃদ্ধি এ বছরের তুলনায় ‘ব্যাপকহারে বেশি’ হবে। এমন ভাবে খরচ বাড়াচ্ছে মেটা, যাতে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের মতো বিভিন্ন এআই কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে তারা।
বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপকালে কোম্পানিটির এআইতে বিনিয়োগকে সমর্থন জানিয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, এআইয়ের কারণে সামনে বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। নতুন পণ্য তৈরি এবং বর্তমানে বিজ্ঞাপন বিক্রি ও ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট সরবরাহের ব্যবসা আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে এসব সুযোগ।
“এ সময় সঠিক পদক্ষেপ হচ্ছে এই খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়ানো। আমরা এখন প্রায় সবসময় আমাদের অ্যাপ ও বিজ্ঞাপন ব্যবসাকে এমন এক অবস্থায় পরিচালনা করছি, যেখানে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং শক্তি নেই। ফলে এখনই এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।”
গুগল ও ইউটিউবের মালিক অ্যালফাবেটও নিজেদের এ বছরের আয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ হাজার ১০০ কোটি থেকে ৯ হাজার ৩০০ কোটি ডলার করেছে, যা তাদের এই গ্রীষ্মে দেওয়া ৮ হাজার ৫০০ কোটির চেয়ে বেশি। যার থেকে ইঙ্গিত মেলে, কোম্পানিটি বড় ধরনের খরচের পরিকল্পনা করছে ও তাদের লক্ষ্য আগের চেয়ে বড়।
কোম্পানিটির এ নতুন অনুমান ২০২৪ সালে কোম্পানির যে মূলধন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল তার প্রায় দ্বিগুণ।
এদিকে, বুধবার মাইক্রোসফট বলেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের মূলধন ব্যয় ডেটা সেন্টারসহ ৩ হাজার ৪৯০ কোটি হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এবং আগের প্রান্তিকে কোম্পানিটির মূলধন ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যিয়া নাদেলা বলেছেন, “এআইতে আমাদের বিনিয়োগ, মূলধন ও ট্যালেন্ট উভয় ক্ষেত্রই আমরা ক্রমাগত বাড়াচ্ছি, যাতে এআই উত্থানে সামনে আসা বিশাল সুযোগকে কাজে লাগাতে পারি।”
মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং ইউনিট অ্যাজিউর ও কোম্পানির অন্যান্য এআই পণ্যে ব্যবহারকারীদের ‘বাস্তব জীবনে দৈনন্দিন কাজ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে’ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এআইতে মোটা অংকের বিনিয়োগের খবরে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ এই তিনটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার বাজার সূচক ‘এসএন্ডপি ৫০০’-এর সাধারণ সূচকের চেয়েও ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
তবে এআই খাতে এসব কোম্পানির মোটা অংকের বিনিয়োগ কি বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান লাভ দিতে শুরু করেছে কি না সে দিকে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যাংক, বিনিয়োগ কোম্পানি ও পুঁজিবাজারের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ওয়াল স্ট্রিট।
‘ব্যাংক অফ আমেরিকা’র সিনিয়র অর্থনীতিবিদ আদিত্য ভাভে বলেছেন, গত কয়েক মাসে মার্কিন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার দুইটি প্রধান কারণ হল, ভোক্তা ও এআই সংক্রান্ত ব্যবসায়িক বিনিয়োগ।
“যতক্ষণ পর্যন্ত এআই সংক্রান্ত বিনিয়োগ শক্তিশালী থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তা মার্কিন অর্থনীতির মোট উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক সংকেত।”
বুধবার রাতে নিজেদের ত্রৈমাসিক আয় বৃদ্ধির কথা বলেছে মেটা। তবে কোম্পানিটির লাভ এককালীন আয়কর চার্জের কারণে ৮৩ শতাংশ কমে ২৭০ কোটি ডলার হয়েছে।
অন্যদিকে, মাইক্রোসফটের ত্রৈমাসিক লাভ ১২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অ্যালফাবেটের লাভ ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
তবে বাজারে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বুদবুদ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
‘ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড’ সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে ‘আকস্মিক পতনের’ ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন এআইভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক বাড়তে থাকা মূল্যায়ন এখন উদ্বেগের জোরালো কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভের প্রতি যদি গোটা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায় তাহলে ‘মার্কিন ডলারের দামে হঠাৎ করেই ধস নামতে পারে’।
আরও পড়ুন…