১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন রেকর্ড দামে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি এনভিডিয়া

এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী গ্রাফিক্স সক্ষমতার চিপ ও কম্পিউটার অবকাঠামো সরবরাহ করে এ খাতে এক নম্বর কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে এনভিডিয়া।

নতুন রেকর্ড দামে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি এনভিডিয়া
এনভিডিয়ার সবচেয়ে বড় মুনাফার অংশ আসে ডেটা সেন্টার বিভাগ থেকে। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jun 2025, 06:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:16 PM

নতুন রেকর্ড দামে পৌঁছল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি এনভিডিয়া।

মার্কিন চিপ নির্মাতা কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বুধবার রাতের মধ্যে চার শতাংশের বেশি বেড়ে নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। এর মাধ্যমে এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি পাবলিক কোম্পানি হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে এনভিডিয়া।

কোম্পানিটির প্রতি শেয়ারের দাম বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১৫৪.৩১ ডলার, যা জানুয়ারিতে ছিল ১৪৯.৪৩ ডলার। ওই সময় এটিই ছিল কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য।

এ দাম বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির মোট বাজারমূল্য এখন দাঁড়িয়েছে ৩.৭৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এ গতিতে এগোতে থাকলে এনভিডিয়া বিশ্বের প্রথম ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

গত কয়েক বছর ধরে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট ও অ্যাপল পালাক্রমে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানির স্থান দখল করেছে। তবে এ বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্কের কারণে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারদামে বড় ধরনের পতন ঘটলেও সেই ধাক্কা সামলে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে এনভিডিয়া। এ চিপ কোম্পানির নেতৃত্বে রয়েছেন জেনসেন হুয়াং।

এ বছরের শুরুতে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম শুরুতে কিছুটা কমেছিল নতুন চীনা কোম্পানি ডিপসিক এআই বাজারে আসার কারণে। তবে এপ্রিলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে মাইক্রোসফটের বেড়েছে ৩৯ শতাংশ ও অ্যাপলের ১৭ শতাংশ।

ধারণা করা হচ্ছে, শেয়ার বাজার খোলার আগের লেনদেনে বৃহস্পতিবার এনভিডিয়ার বিক্রি আরও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে।

নাসডাকে তালিকাভুক্ত এনভিডিয়া শুরুতে ছিল একটি গ্রাফিক্স কার্ড নির্মাতা কোম্পানি, যা ১৯৯০-এর দশকে মূলত গেইমিং খাত ও শুরুর দিকের মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটারে ব্যবহার হত। পরবর্তীতে কোম্পানিটি নিজে বা অন্যদের সঙ্গে মিলে প্রযুক্তি তৈরি করে। যেমন– গ্রাফিক প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ ও প্যারালাল প্রসেসিং প্রযুক্তি।

ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী গ্রাফিক্স সক্ষমতার চিপ ও কম্পিউটার অবকাঠামো সরবরাহ করে এ খাতে এক নম্বর কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে এনভিডিয়া।

বর্তমানে এনভিডিয়া বিভিন্ন খাত থেকে আয় করে। যার মধ্যে রয়েছে, ভিডিও গেইম খেলার জন্য গ্রাফিক্স কার্ড তৈরি, পেশাদার ভিজুয়ালাইজেশন, যেমন– থ্রিডি ডিজাইন, অ্যানিমেশন বা সিনেমার জন্য উন্নত গ্রাফিক্স প্রযুক্তি এবং অটোমোটিভ ও রোবোটিক্স সফটওয়্যার ও চিপসেট, বিশেষ করে অটোমোটিভ গাড়ি ও রোবটের জন্য বিশেষ ধরনের চিপ ও সফটওয়্যার তৈরি করে তারা।

তবে এখন পর্যন্ত এনভিডিয়ার সবচেয়ে বড় মুনাফার অংশ আসে ডেটা সেন্টার বিভাগ থেকে। এ বিভাগেই তৈরি হয় বিশেষ ধরনের সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও অন্যান্য প্রযুক্তি, যা বর্তমানে এআই বিপ্লবের পেছনে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রান্তিকের রিপোর্ট অনুসারে, এনভিডিয়ার বাকি তিনটি বিভাগ থেকে মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় চারশ ৯০ কোটি ডলার। কেবল তিন মাসে ডেটা সেন্টার বিভাগ থেকে এককভাবে তিনশ ৯১ কোটি ডলার আয় করেছে তারা।

চিপ শিল্পে নেতৃত্ব দিলেও কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে এনভিডিয়াকে। বিশ্বের সব বড় বড় কোম্পানি ও দেশগুলো এআইয়ে বিনিয়োগ করছে এবং অনেকেই এনভিডিয়ার চিপ ব্যবহার করছে। তবে কোম্পানিটির কিছু চিপ চীনে রপ্তানি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক এ নিষেধাজ্ঞার কারণে আনুমানিক পাঁচশ কোটি ডলার মূল্যের বিক্রি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে এনভিডিয়ার।