Published : 25 May 2026, 10:29 AM
২০২৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা ক্যালটেকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি শেষ হওয়ার পর জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি বা জেপিএল’কে কে পরিচালনা করবে তা নিয়ে দরপত্র আহ্বান করেছে নাসা।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বড় অংকের বাজেট কাটছাঁটের মুখে খরচের লাগাম টানতে ও নতুন অংশীদার খুঁজতেই নাসার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।
১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি ক্যালটেকই এ ল্যাবরেটরিটি পরিচালনা করে আসছে। ফলে নাসার এ সিদ্ধান্তটি বেশ বড় একটি পরিবর্তন। খোদ নাসার জন্মের চেয়েও প্রায় দুই দশক পুরানো এই জেপিএল।
অবশ্য এর মানে এই নয় যে ক্যালটেককে সরাসরি বাদ দেওয়া হচ্ছে, বরং নাসা স্রেফ অন্যান্য বিকল্প যাচাই করে দেখছে। আগ্রহী বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করে নাসা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির মতে, “যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ থেকে ইঙ্গিত মেলে, এই খাতে এখন কার্যকর প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হয়েছে।”
নাসা বলেছে, চুক্তির জন্য এ উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন তাদের ‘বিকল্প ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সম্ভাব্য সুবিধাগুলো খতিয়ে দেখার’ সুযোগ করে দেবে। যার মূল লক্ষ্য, ‘অভিযানের সফলতার হার বাড়ানো, নতুন নতুন উদ্ভাবন ও সার্বিক খরচ ও পরিচালন দক্ষতাকে আরও উন্নত করা’।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমনটা ‘কার্যকারিতা ও সাশ্রয় খোঁজার লক্ষ্যে সরকারি ও সংস্থাজুড়ে নেওয়া এক বড় প্রচেষ্টারই’ অংশ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন নাসাকে তাদের কঠোর চাপের মধ্যে রেখেছে এবং কংগ্রেসের কাছে সংস্থার বাজেট ২৩ শতাংশ কমানোর দাবি জানিয়েছে।
বাজেটের এ কাটছাঁট সরাসরি জেপিএল-এর ওপরও প্রভাব ফেলবে। ফলে, এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে, নিজেদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে নাসা এখন নতুন ব্যবস্থাপনা অংশীদার খুঁজছে।
সাত ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন ফেডারেল বাজেটের কেবল ০.৩৫ শতাংশ খরচ হয় এ মহাকাশ সংস্থার পেছনে, যা প্রায় ২৪৫০ কোটি ডলার। আর বর্তমানের এই কঠিন সময়ে প্রতিটি পেনির হিসাব রাখাই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য।
তাহলে ক্যালটেক না হলে শেষ পর্যন্ত জেপিএল-এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কার হাতে যেতে পারে?
এ চুক্তির মূল্য দাঁড়াবে অন্তত ৩ হাজার কোটি ডলার। ফলে সম্ভাব্য দরদাতাদের তালিকায় মহাকাশ প্রকৌশলে এগিয়ে থাকা অন্যান্য নামী ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি ‘লকহিড মার্টিন’ বা ‘বোয়িং’-এর মতো বড় ঠিকাদারী কোম্পানিও থাকতে পারে।
কারিগরি দিক থেকে প্রকল্পটি ‘ফেডারেল অর্থায়িত গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র’ বা এফএফআরডিসি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। সাধারণত এ ধরনের প্রকল্প ইউনিভার্সিটি বা কোনো কর্পোরেশনের দাতব্য শাখার মতো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তবে এখন ২০২৬ সাল ও বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে সবকিছু খামখেয়ালিভাবে চলছে, তাতে শেষ পর্যন্ত জল কোন দিকে গড়ায় তা বলা মুশকিল।
মহাকাশ সংস্থা নাসা বলেছে, ২০২৮ সালে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই তারা নতুন অংশীদারের সন্ধান শুরু করছে, যাতে প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ না পড়ে।
পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, ২০২৮ সাল পর্যন্ত ল্যাবরেটরির সার্বিক কার্যক্রমে তার কোনো প্রভাব পড়বে না।