Published : 03 Nov 2025, 11:49 AM
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্লুটুথ প্রযুক্তি অদৃশ্য সঙ্গী হয়ে আছে। তারহীন এই সংযোগ ব্যবস্থা প্রতিদিনের কাজকে করেছে সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, হেডফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা এমনকি হার্ট মনিটরের মতো স্বাস্থ্য-যন্ত্র সব জায়গাতেই ব্লুটুথ আজ অপরিহার্য।
তবে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার লিখেছে, এই সুবিধার আড়ালে আছে কিছু অদৃশ্য ঝুঁকি যা অনেকেই জানেন না বা গুরুত্ব দেন না।
ব্লুটুথ এখন এতটাই সাধারণ যে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই বুঝতেই পারেন না এটি ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওয়্যারলেস ইয়ারফোনে গান শোনা, ফাইল ট্রান্সফার করা কিংবা স্মার্টওয়াচে হার্টবিট দেখা সবকিছুরই পেছনে রয়েছে ব্লুটুথের নিরব কাজ।
তবে এই নির্ভরতার মাঝেই লুকিয়ে আছে বড় এক ঝুঁকি। এর কারণ, সবসময় ব্লুটুথ চালু রাখা মানে ডিভাইসকে সম্ভাব্য হ্যাকারদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়া।
আধুনিক এনক্রিপশন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরও ব্লুটুথ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এর মাধ্যমে ব্লুস্নার্ফিং ও ব্লুজ্যাকিং-এর মতো সাইবার হামলা হতে পারে।
ব্লুস্নার্ফিংয়ের মাধ্যমে হ্যাকাররা ফোনের ব্যক্তিগত ডেটা চুরি করতে পারে আর ব্লুজ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অচেনা ডিভাইস থেকে ফোনে অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ বা বিজ্ঞাপন পাঠানো সম্ভব।
সাধারণত ব্লুটুথ চালু রাখা হয় ফোন, হেডফোন, গাড়ি বা স্মার্টওয়াচে সহজে সংযোগের জন্য। কিন্তু এই সংযোগই কখনও কখনও হয়ে ওঠে হ্যাকারদের সুযোগ। ব্লুটুথ চালু অবস্থায় তারা সহজেই ডিভাইসে অবৈধ সংযোগ তৈরি করতে পারে। একবার সংযোগ হয়ে গেলে তারা ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন ব্যাংক ডেটা, পাসওয়ার্ড, কল লগ, কনট্যাক্টস বা লোকেশন চুরি করতে পারে।
বড় বড় খুচরা বিক্রেতা কোম্পানি পর্যন্ত এখন ব্লুটুথ বিকন ব্যবহার করে ক্রেতাদের অবস্থান, পছন্দ ও কেনাকাটার ধরন বিশ্লেষণ করছে।
এই ঝুঁকি কেবল স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে সীমাবদ্ধ নয়। ব্লুটুথ এখন ব্যবহার হচ্ছে পেসমেকার, ইনফিউশন পাম্প, ফিটনেস ব্যান্ডসহ নানা স্বাস্থ্যসেবা যন্ত্রেও।
যদিও ছোট এসব ডিভাইস হ্যাকিং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন কিন্তু যদি কারও উদ্দেশ্য খারাপ হয় তবে ব্লুটুথের মাধ্যমেও এই ডিভাইসগুলোর কার্যক্রমে বাধা দেওয়া সম্ভব।
সবসময় ব্লুটুথ চালু রাখা এখন সবচেয়ে বেশি করা নিরাপত্তা ভুলগুলোর একটি। বিশেষ করে উন্মুক্ত জায়গায় বা ভিড়ের মধ্যে ফোন ব্যবহার করার সময় এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যাওয়ায় ব্লুটুথ ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা এখন আর সম্ভব নয়; কিন্তু কিছু সহজ পদক্ষেপে নিজেকে অনেকটাই নিরাপদ রাখা যায়। প্রথম পদক্ষেপ হলো উন্মুক্ত জায়গায় ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন। ভিড় বা অচেনা স্থানে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বেশি।
অটো রিকানেক্ট অপশন বন্ধ করুন। এতে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অজানা ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত হবে না। সব ডিভাইস আপডেট রাখুন। পুরনো সফটওয়্যার থেকে ‘ব্লুবোর্ন’ নামের বিপজ্জনক আক্রমণ হতে পারে। এটি হ্যাকারকে ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে।
অচেনা পেয়ারিং রিকোয়েস্টে সতর্ক থাকুন। হঠাৎ কোনো অজানা ডিভাইস সংযোগ চাইলে তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দিন। অ্যাপ পার্মিশন রিভিউ করুন। অনেক অ্যাপ ব্লুটুথ ও ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে লোকেশন ও কনট্যাক্ট ডেটা ট্র্যাক করে।
ভিপিএন ব্যবহার করুন, এটি আসল আইপি এড্রেস লুকিয়ে রেখে ডেটা এনক্রিপ্ট করে। ফলে হ্যাকারদের জন্য ডিভাইস ট্র্যাক করা কঠিন হয়।