Published : 30 Jan 2025, 01:10 PM
বর্তমান বিশ্বে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। আর এ প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে ডিপসিক এআই ও ওপেনএআইয়ের মতো বিভিন্ন কোম্পানি।
দুটি কোম্পানিই তাদের অত্যাধুনিক এআই মডেলের জন্য পরিচিত। তবে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে তারা। বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজের এ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দুটি কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য কোথায়।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এআই কোম্পানি হচ্ছে ওপেনএআই, যেটি চ্যাটজিপিটির মতো এআই চ্যাটবট মডেল তৈরির জন্য সুপরিচিত। চ্যাটজিপিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, প্রবন্ধ লিখতে পারে ও কারো সঙ্গে কথোপকথনও চালিয়ে যেতে পারে। বহুমুখী কাজের জন্য উপযুক্ত ওপেনএআইয়ের এসব এআই মডেল, যা বড় পরিসরে কাজ করতে পারে।
নিজেদের বিভিন্ন মডেলকে প্রশিক্ষণের জন্য বিশাল ডেটাসেট ও শক্তিশালী কম্পিউটারের উপর নির্ভর করে ওপেনএআই। তবে এ পদ্ধতির কারণে অনেক অর্থ ও শক্তির প্রয়োজন হয় টেক জায়ান্টটির।
অন্যদিকে, এআইকে আরও সক্ষম ও সহজে ব্যবহারের উপযোগী করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে ডিপসিক এআই। এরপরও তাদের বিভিন্ন এআই মডেল বহুমুখী কাজ করতে পারে। নিজেদের এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ ও এগুলোকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নানা সংস্থানও কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে ডিপসিক।
গবেষণা দেখা গেছে, প্রশিক্ষণের সময় ওপেনএআইয়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম শক্তি ব্যবহার করে একই রকম নির্ভুল উত্তর দিতে পারে ডিপসিকের এআই মডেল। আর এ বিষয়টি ডিপসিকের পদ্ধতিকে আরও টেকসই ও সাশ্রয়ী করে তোলে, বিশেষ করে এমন সব ব্যবসার জন্য যাদের ওপেনএআইয়ের সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় নানা রিসোর্স সহজে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
দুটি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্যর মধ্যে হচ্ছে তাদের মনোযোগের ক্ষেত্র। ওপেনএআইয়ের বিভিন্ন এআই মডেল মূলত ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ সংশ্লিষ্ট কাজের দিকে লক্ষ্য রাখে। যেমন– চ্যাটিং, টেক্সট বিশ্লেষণ ও কনটেন্ট তৈরি।
এসব মডেলকে বিশাল ডেটাসেটের ওপর প্রশিক্ষণ দেয় কোস্পানিটি। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের টেক্সট, যা এদেরকে সব ধরনের বিষয় বুঝতে ও সাড়া দিতে সাহায্য করে। এ কারণেই ওপেনএআইয়ের বিভিন্ন টুল গ্রাহকদের সহায়তায়, সৃজনশীল লেখা ও শিক্ষার মতো কাজের জন্য এতো জনপ্রিয়।
এদিকে, ডিপসিক এআই আরও বিশেষায়িত পদ্ধতি গ্রহণ করে। স্বাস্থ্যসেবা, অর্থ ও কৃষির মতো নির্দিষ্ট শিল্পের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দিকে নির্মাতাদের নজর ছিল এদের বিভিন্ন মডেল ডিজাইন করার বেলায়।
ডিপসিক এমন টুল তৈরি করেছে, যা ডাক্তারদের রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ছবি বিশ্লেষণ করতে বা স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কৃষকদের সহায়তা করতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট শিল্পে এআই প্রয়োগের বিষয়টি বাস্তব বিশ্বের সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর করে তোলে ডিপসিককে, যেখানে নির্ভুলতা ও দক্ষতার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দুটি কোম্পানির মধ্যে আরেকটি বড় পার্থক্য হচ্ছে, তারা কীভাবে এআইয়ের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার দিকটি পরিচালনা করে। নিজেদের বিভিন্ন মডেলকে নিরাপদ ও নিরপেক্ষ করার জন্য অনেক কাজ করছে ওপেনএআই। দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারকে প্রচারের জন্য গবেষণা পত্র ও নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি।
অন্যদিকে নৈতিকতাকেও গুরুত্ব দিয়ে কোনোকিছু ব্যাখ্যা করার জন্য সহজ সিস্টেম তৈরি করে এ বিষয়টিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে ডিপসিক। যার মানে, এটি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তা আরও ভালভাবে বুঝতে পারেন ব্যবহারকারীরা, যা স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে গুরুতর পরিণতি হতে পারে ভুলের।
সার্বিক প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ওপেনএআইয়ে বিভিন্ন মডেল আরও সরলীকৃত, সৃজনশীল ও চ্যাটিংয়ের কাজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট বিভিন্ন শিল্পে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখছে ডিপসিক এআই, যেখানে সক্ষমতা, নির্ভুলতা ও অভিযোজনযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ।
এআইয়ের বিভিন্ন ভাষা মডেলের তুলনা করে এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সৃজনশীলতা ও চ্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশি স্কোর করেছে ওপেনএআইয়ের এআই টুল। এদিকে, মেডিকেল ডায়াগনস্টিকস ও আর্থিক পূর্বাভাসের মতো নির্দিষ্ট কাজে সক্ষমতা দেখিয়েছে ডিপসিকের এআই সিস্টেম।
দুটি কোম্পানিই এআই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এ প্রযুক্তিটি ব্যবহারকারীদের জীবনকে উন্নত করতে পারে এমন অনেক উপায় তুলে ধরেছে তাদের মধ্যকার এসব পার্থক্য।