Published : 21 Mar 2026, 10:38 AM
হারিয়ে যাওয়া চাবি, মানিব্যাগ বা প্রয়োজনীয় জিনিসের হদিস পেতে অ্যাপলের এয়ারট্যাগ দারুণ প্রযুক্তি। তবে ছোট ও সহজে বহন করা যায় বলে এর সুযোগ নিয়ে এসব ট্র্যাকার অনেক সময় মানুষের ব্যক্তিগত ও প্রাইভেসি বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, এয়ারট্যাগের মতো এ ধরনের ব্লুটুথ ট্র্যাকার আকারে অনেক ছোট ও সহজে লুকিয়ে রাখার কারণে এগুলোর মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক।
গত কয়েক বছর ধরে এয়ারট্যাগ ও নিজেদের ‘ফাইন্ড মাই’ নেটওয়ার্কে এমন কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে অ্যাপল, যা এর অপব্যবহার কমাবে। কোনো অপরিচিত ট্র্যাকার যদি ব্যবহারকারীর সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছে বলে মনে হয় তবে ব্যবহারকারীকে আগেভাগেই সতর্ক করবে কোম্পানিটি।
এয়ারট্যাগ ট্র্যাকার অনুসরণ করছে কি না তা বা অ্যাপলের সতর্কবার্তা কীভাবে কাজ করে, কোন নোটিফিকেশনগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং আপনার করণীয় কী তা জেনে নিন–
এয়ারট্যাগ ট্র্যাকিং অ্যালার্ট যেভাবে কাজ করে
এয়ারট্যাগ অ্যাপলের ‘ফাইন্ড মাই’ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত এবং এয়ারপডসের নির্দিষ্ট কিছু মডেল অ্যাপলের ‘ফাইন্ড মাই’ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। ব্লুটুথ সিগনাল ও আশপাশে থাকা অন্যান্য ডিভাইসের সাহায্যে নিজের অবস্থান আপডেট করে এয়ারট্যাগ।
এ প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে অ্যাপল এমন কিছু ফিচার তৈরি করেছে, যা সঙ্গে থাকা কোনো অপরিচিত ট্র্যাকার শনাক্ত করলে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে।
কোনো এয়ারট্যাগ যদি মালিকের থেকে আলাদা হয়ে দীর্ঘ সময় কারো আশপাশে থাকে তবে ডিভাইস নোটিফিকেশন দেখাবে বা ট্র্যাকারটি নিজেই শব্দ করতে শুরু করবে। এসব অ্যালার্টের মূল উদ্দেশ্য কাউকে না জানিয়ে গোপনে ট্র্যাকিংয়ের চেষ্টাকে ঠেকানো।
এ বিষয়ে গুগলের সঙ্গে মিলে ‘ক্রস প্ল্যাটফর্ম’ মানদণ্ড তৈরি করেছে অ্যাপল, যাতে এসব সতর্কবার্তা কেবল আইফোনেই নয়, বরং অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসেও দেখা যায়।
ট্র্যাকিং অ্যালার্ট কেমন হয়?
কোনো অপরিচিত এয়ারট্যাগ যদি কারো সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে তবে আইফোন সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করবে। এজন্য নীচের কিছু নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাবেন–
● একটি এয়ারট্যাগ সঙ্গে ঘুরছে
● এয়ারপডস শনাক্ত হয়েছে
● ‘অমুক’ পণ্যটি সঙ্গে রয়েছে
● অজানা কোনো অ্যাকসেসরি শনাক্ত হয়েছে
এসব অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তায় ট্যাপ করলে ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপটি খুলবে, সেখানে একটি ম্যাপ বা মানচিত্র দেখাবে, যা নির্দেশ করবে ব্যবহারকারীর আশপাশে ঠিক কোথায় ট্র্যাকারটি শনাক্ত হয়েছে। ম্যাপে থাকা বিন্দু বোঝায় যে ওসব স্থানে তার ডিভাইস ট্র্যাকারটির উপস্থিতি টের পেয়েছে।
তবে এর মানে এই নয় যে, ট্র্যাকারটির মালিক সেই মুহূর্তে আপনার লোকেশন লাইভ দেখছিলেন, বরং ট্র্যাকারটি আপনার খুব কাছাকাছি রয়েছে। অনেক সময় এ সতর্কবার্তার পেছনে কোনো স্বাভাবিক কারণও থাকতে পারে।
অজানা এয়ারট্যাগ খুঁজে বের করার নিয়ম
কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার মানে, এয়ারট্যাগটি এখনও আপনার সঙ্গেই আছে। তবে ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপের কিছু টুল ব্যবহার করে আপনি তা খুঁজে পেতে পারেন। সতর্কবার্তা থেকে ওই ডিভাইসে একটি শব্দ বা সাউন্ড বাজানোর অপশন বেছে নিতে পারেন, যাতে ট্র্যাকারটি কোথায় লুকানো আছে তা সহজে শনাক্ত করা যায়।
● প্রথমে অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশনটিতে ট্যাপ করুন।
● ‘কন্টিনিউ’-এ ট্যাপ করুন ও এরপর ‘প্লে সাউন্ড’ বাটনে ক্লিক করুন।
● শব্দটি শোনার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে খোঁজার জন্য বাড়তি সময় পেতে আবার সাউন্ড প্লে করুন।
ট্র্যাকারটি এয়ারট্যাগ হলে ও আপনার কাছে ‘আল্ট্রা ওয়াইডব্যান্ড’ প্রযুক্তির আইফোন থাকলে ‘ফাইন্ড নিয়ারবাই’ অপশনটি দেখতে পাবেন, যা আপনাকে দূরত্বের পরিমাপ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ট্র্যাকারের কাছে পৌঁছে দেবে।
● অ্যালার্টটিতে ট্যাপ করুন।
● ‘কন্টিনিউ’ ও এরপর ‘ফাইন্ড নিয়ারবাই’ বেছে নিন।
● পর্দায় আসা নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন। আপনার আইফোনটি অজানা এয়ারট্যাগটির সঙ্গে যোগ না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে আশপাশে কিছুটা নড়াচড়া করতে হতে পারে।
● আপনার আইফোন অজানা এয়ারট্যাগটির দূরত্ব ও দিক দেখাবে। যখন এটি আপনার আইফোনের ব্লুটুথ রেঞ্জের মধ্যে আসবে তখন আপনি ‘প্লে সাউন্ড’ বাটনে ট্যাপ করে শব্দ শুনতে পারেন। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে আপনি ‘টার্ন ফ্লাশলাইট’ বাটনে ট্যাপ করে টর্চ জ্বালাতে পারেন।
ওপরের কোনো অপশন কাজ না করলে বা ইলেকট্রনিকভাবে ট্র্যাকারটি খুঁজে পাওয়া না যায় তবে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ম্যানুয়ালি বা হাত দিয়ে চেক করুন। ব্যাগ, পকেট, জ্যাকেট ও গাড়ির ভেতর ভালো করে খুঁজুন।
আপনি অনিরাপদ বোধ ও ডিভাইসটি খুঁজে না পেলে অ্যাপলের পরামর্শ পেইজ বলেছে, কোনো নিরাপদ স্থানে চলে যান ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অপরিচিত এয়ারট্যাগ বন্ধের নিয়ম
কোনো এয়ারট্যাগ অনুসরণ করছে এমনটি বুঝতে পারার পর তা বন্ধ করা যায়। এতে এয়ারট্যাগটি ব্যবহারকারীর লোকেশন বা অবস্থান শেয়ার করতে পারবে না।
● ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপের সতর্কবার্তা বা ইনফরমেশন পেইজ থেকে ‘ইনসট্রাকশন টু ডিজএবল’ অপশনটি বেছে নিন এবং সেখানে দেওয়া বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করুন।
● এয়ারট্যাগ বন্ধের সাধারণ উপায় হচ্ছে, এর ব্যাটারিটি খুলে ফেলা। ব্যাটারি খুলে ফেললে তা সঙ্গে সঙ্গে লোকেশন আপডেট করা বন্ধ করে দেবে।
মনে রাখা জরুরি, ফোনের ব্লুটুথ বা লোকেশন সার্ভিস বন্ধ করলে কিন্তু এয়ারট্যাগটির লোকেশন পাঠানো বন্ধ হবে না। আপনাকে সরাসরি ট্র্যাকারটিকেই নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
যদি মনে হয়, ট্র্যাকারটি কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের আগে এয়ারট্যাগটি নিজের কাছে রাখুন ও এর বিস্তারিত তথ্য, যেমন সিরিয়াল নম্বর লিখে রাখুন।
অ্যাপল বলেছে, আইনি প্রয়োজন হলে তারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে।