Published : 04 Aug 2025, 03:21 PM
যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে দ্রুত প্রসার ঘটছে সৌর শক্তির এবং প্রথমবারের মতো এই শিল্পের প্রধান দুই রাজ্য টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে ফ্লোরিডা।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিমালা থেকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি সরিয়ে দিলেও গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে বেশি সৌর শক্তি তৈরি করেছে ফ্লোরিডা, যেখানে অঙ্গরাজ্যটি তিন গিগাওয়াটেরও বেশি নতুন সক্ষমতা যোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
‘উড ম্যাকেঞ্জি’র সিনিয়র বিশ্লেষক সিলভিয়া লেওয়া মার্টিনেজ বলেছেন, “এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ফ্লোরিডার সৌরশক্তির বৃদ্ধি পুরো দেশের জন্যই বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।”
এ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি বাড়ির ছাদে বসানো ছোট সৌর প্যানেল বসানো নয়, বরং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গত বছর রাজ্যটির নতুন সৌর শক্তির ৭০ শতাংশেরও বেশি তৈরি করেছে ফ্লোরিডার ‘পাওয়ার অ্যান্ড লাইট’ কোম্পানি।
ফ্লোরিডার নিয়ম অনুসারে, ৭৫ মেগাওয়াটের নিচের বিভিন্ন প্রকল্প নির্মাণের জন্য ডেভেলপারদের দীর্ঘ সময় ধরে সাইট নির্বাচন পর্যালোচনা করতে হয় না, এজন্য নির্মাণের গতি বাড়ে ও খরচও কম হয়।
‘ব্যাবকক র্যাঞ্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সিড কিটসন বলেছেন, “এর কোনো একক সমাধান নেই। তবে ফ্লোরিডা যেটি সঠিকভাবে করেছে তা হচ্ছে, গ্রহণযোগ্যতা। এখানে মানুষ সৌরশক্তি চায়। আর আমরা প্রমাণ করছি, এখানে এটি কাজও করছে।”
ফ্লোরিডার পন্টা গর্ডার কাছে ‘ব্যাবকক র্যাঞ্চ’ নামে এক বিশেষ শহর আছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পুরোপুরি সৌরশক্তিতে চলা শহর। নিজস্ব ছোট বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা (মাইক্রোগ্রিড) থাকার ফলে ২০২২-এ হারিকেন ইয়ানে ফ্লোরিডার বহু জায়গায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও এখানে আলো নেভেনি।
কিটসন বলেছেন, “আমাদের বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বা সুপেয় পানির কোনও পরিষেবা সমস্যায় পড়েনি। বিষয়টি শক্তির উৎস সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনার ধরন বদলে দিয়েছে।”
সিএনবিসি বলেছে, এখানের বাকি কাজটি করছে অর্থনীতি। শিল্পখাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বাড়ছে। ফলে ভর্তুকি ছাড়াই এখন সৌরশক্তি ধীরে ধীরে সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠছে।
মার্টিনেজ বলেছেন, “বিভিন্ন ইউটিলিটি কোম্পানি সৌর প্রকল্প তৈরি করছে। এর কারণ কিন্তু পরিবেশবান্ধব হওয়া না, বরং সাশ্রয়ী বলেই তৈরি করছে তারা।”
তবে নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে।
জুলাইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নামের এক আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যা সৌর ও বায়ু শক্তির ওপর দেওয়া ট্যাক্স ক্রেডিট দ্রুত তুলে নেওয়ার পথ খুলেবে।
২০২৫ সালের পর ট্রাম্পের এই বিল কার্যকর হলে, বাড়ির মালিকরা আর ‘ফেডারেল ইনভেস্টমেন্ট ট্যাক্স ক্রেডিট’ সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে, ডেভেলপারদেরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং নির্দিষ্ট উপকরণ ব্যবহার করার মতো কঠিন নিয়ম মানতে হবে।
“এতে বাজার ধ্বংস না হলেও হিসাব কঠিন হয়ে যাবে,” বলেছেন ‘উড ম্যাকেঞ্জি’র সৌর শিল্প পর্যবেক্ষক জো গ্যাস্টন।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, আগামী পাঁচ বছরে ফ্লোরিডায় ছাদের ওপর সৌর প্যানেল বসানোর হার ৪২ শতাংশ কমে যাবে। বড় আকারের সৌর প্রকল্পের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সেখানে বিদ্যুৎ গ্রিডের সীমাবদ্ধতা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে বিভিন্ন ইউটিলিটি কোম্পানি এখন ব্যাটারি স্টোরেজ, স্মার্ট অবকাঠামো ও গ্রিড আপগ্রেডে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে, যেন চাহিদা মেটাতে পারে তারা।
সিএনবিসি লিখেছে, আরও বেশি স্থিতিশীলতা আনতে বর্তমানে নতুন মাইক্রোগ্রিড সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করছে ব্যাবকক র্যাঞ্চ। ধারণা করা হচ্ছে, অন্যান্য বিভিন্ন কমিউনিটিও এদের পরিকল্পনা অনুসরণ করে নিজেদের মতো করে মানিয়ে নিতে পারবে।
কিটসন বলেছেন, “অনেক বছর ধরেই আমরা এটা পরীক্ষা করে দেখছি। এখন আসল ব্যাপার হলো, এটা বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, অন্যদের দেখানো যে, চাইলে তারাও এটা করতে পারে।”
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফ্লোরিডা যেহেতু এখনো অনেকটাই প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তারা কি দীর্ঘমেয়াদে সৌরশক্তির এই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারবে?
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মার্ক জ্যাকবসন বলেন, “ফ্লোরিডার প্রাকৃতিকভাবে সৌরশক্তি ব্যবহারের ভালো সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যেটার অভাব, তা হলো রাজনৈতিক স্থিরতা বা ধারাবাহিক নীতি।”