Published : 13 Jun 2026, 07:15 PM
সেই যে ২০০২ সালে পঞ্চমবার সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন কাফু, এরপর কেটে গেছে ২৪টি বছর, আরও পাঁচটি বিশ্বকাপ। হেক্সার স্বপ্নে বারবার অভিযান শুরু করে প্রতিবারই একরাশ হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে ব্রাজিলকে। টানা ব্যর্থতার এই গল্পের সবশেষ পর্বের অংশ ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। সেই সময়ের তরুণ তারকা এখন দলের আক্রমণের মূল অস্ত্র। পুরনো ব্যর্থতা ভুলে এবার নিজের ও দলের অপূর্ণতা ঘোচাতে বদ্ধপরিকর এই ফরোয়ার্ড।
রেয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে সাফল্যে ভরা ক্যারিয়ারে একবার ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও পেয়েছেন ভিনিসিউস, ২০২৪ সালে। কিন্তু জাতীয় দলে এখনও পারেননি নিজেকে সেরা রূপে মেলে ধরতে। কাতার বিশ্বকাপেই যেমন, কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলের পাঁচ ম্যাচের চারটিতে খেলে কেবল একটি গোল করতে পারেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে ৪৯ ম্যাচ খেলে কেবল ৯টি গোল করতে পেরেছেন ভিনিসিউস, সঙ্গে ৯টি অ্যাসিস্ট।
ক্যারিয়ারে অনেকটা পথ চলার পর বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা বুঝতে পেরেছেন ভিনিসিউস। বললেন, কাতারের ব্যর্থতাই তাকে শিখিয়েছে, এখানে সফল হতে কী করতে হবে।
“আমার বিশ্বাস, অন্য সব প্রতিযোগিতা থেকে বিশ্বকাপ ব্যতিক্রম। গত বিশ্বকাপ আমাকে শিখিয়েছে যে, ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত (লড়ার জন্য) আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ ছোট ছোট বিষয়গুলোয় এই টুর্নামেন্টে চলার গতিপথ ঠিক করে দেবে।”
“আশা করি, এবার আমরা কাজগুলো ভিন্নভাবে করতে হবে এবং ওই ছোট ছোট বিষয়গুলো ঠিক করে নিতে পারব।”
আসরে প্রথম প্রতিপক্ষ মরক্কোকে নিয়ে যে দলের মধ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে, তা ভিনিসিউসের কথায় পরিষ্কার। কোচ কার্লো আনচেলত্তির মতো ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারও আফ্রিকান প্রতিপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করলেন।
“নিঃসন্দেহে, মরক্কো অনেক উন্নতি করেছে। দলটা ম্যাচের জন্য দারুণভাবে পরিকল্পনা সাজায় এবং যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে পারে।”
“ফুটবল অনেক বদলে গেছে এবং মরক্কো এটারই একটা অংশ। (২০২২ আসরে) তাদের দুর্দান্ত একটা বিশ্বকাপ কেটেছিল; তবে আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে তারা হেরে গিয়েছিল। তাদের দলটা অসাধারণ, বড় বড় ক্লাবে খেলা দারুণ সব খেলোয়াড় আছে। তবে ব্রাজিল গল্পটা বদলে দিতে এবং শীর্ষে ফিরতে প্রস্তুত।”
গত জানুয়ারিতে আফ্রিকান নেশন্স কাপের বিতর্কিত ও ঘটনাবহূল ওই ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। তবে ম্যাচ চলাকালীন একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে যায় সেনেগাল দল এবং পরবর্তীতে সেটারই শাস্তিস্বরূপ মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
তবে, ওই বিতর্ক এবং ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, মরক্কোর স্কোয়াড যে দারুণ শক্তিশালী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া, দলটির বিপক্ষে সবশেষ দেখায়, ২০২৩ সালের প্রীতি ম্যাচে হারতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
তাই, বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করার পাশাপাশি ওই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার বাড়তি চ্যালেঞ্জও সেলেসাওদের সামনে।