Published : 05 Nov 2025, 07:07 PM
এ বছরের এপ্রিলে ‘শেনঝো ২০’ মহাকাশযানে তিনজন নভোচারীকে নিজেদের মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগং-এ পাঠিয়েছিল চীন। মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চীনা মহাকাশযানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিকল্পনা অনুসারে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
রয়টার্স লিখেছে, মহাকাশে অনেক ছোট-বড় ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস জাঙ্ক’ ভেসে বেড়াচ্ছে। এসব ধ্বংসাবশেষ পুরানো রকেট বা মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ। এগুলো পৃথিবীর কয়েকশো মাইল উপরে ঘুরে বেড়ায়, যা বিভিন্ন দেশের সক্রিয় মহাকাশ যন্ত্রের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বুধবার সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে চীনের মহাকাশ সংস্থা বা ‘চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সি’ বলেছে, তিন নভোচারী নিয়ে মহাকাশযানটির পৃথিবীতে ফেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে।
নভোচারীদের বুধবার চীনের উত্তরাঞ্চলে অবতরণের কথা ছিল। এ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেশটির মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের আঘাতের প্রভাব বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ এখনও চলছে। তবে নভোচারীদের ফেরার মিশনের নতুন সময়সূচি এখনও প্রকাশ করেনি তারা।
‘শেনঝো’ প্রোগ্রামের আওতায় তিনজন করে নভোচারী নিজেদের তিয়ানগং-এ মহাকাশ স্টেশনে পাঠায় ও ফেরায় চীন, যেখানে তারা ছয় মাসের জন্য অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজ করেন, যেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে স্টেশনে যেসব ক্ষতি হয়েছে তা সারানো।
এর আগে, এপ্রিলে অবতরণ স্থলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ‘শেনঝো ১৯’ মিশনের ফেরার সময়ও একদিন পিছিয়েছিল। তবে এই প্রথমবারের মতো মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের কারণে নভোচারীদের ফেরার মিশন পেছাচ্ছে।
মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের আঘাত ‘শেনঝো ২০’ যাত্রাপথে পেয়েছে না কি তিয়ানগং স্টেশনে ডকিং করা অবস্থায় পেয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলেনি চীনা সংস্থাটি। পাশাপাশি পরবর্তী ‘শেনঝো ২১’ মিশনের বিষয়েও কিছু উল্লেখ করেনি তারা।
অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় নভোচারীদের মহাকাশে আটকে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে।
গত বছর বোয়িংয়ের ‘স্টারলাইনার’ মহাকাশযানে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নয় মাস থাকতে হয়েছিল নাসার দুই নভোচারীকে। কারণ পৃথিবীতে ফিরতে বিকল্প এক মহাকাশযানের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের।
আরও পড়ুন…