Published : 09 Jun 2026, 03:21 PM
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ওপর আবারও নজরদারি চালানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েলের কুখ্যাত পেগাসাস স্পাইওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি এনএসও গ্রুপ।
হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটা বলেছে, তারা সম্প্রতি ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে চালানো ‘স্পিয়ারফিশিং’ নামের এক সাইবার আক্রমণ নস্যাতের পাশাপাশি এ ঘটনার পর আদালতের কাছে এনএসও-এর বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’র অভিযোগ এনেছে।
কুখ্যাত ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার তৈরি করা এ কোম্পানিটির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ২০১৯ সালে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
ওই সময় মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগে এ সাইবার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছিল মেটা।
গেল বছর এনএসও গ্রুপ’কে একটি জুরি বোর্ড ক্ষতিপূরণ বাবদ মেটাকে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার রায় দিলেও পরবর্তীতে একজন বিচারক তা কমিয়ে ৪০ লাখ ডলারে নামিয়ে আনেন।
তবে সেই রায়ের সঙ্গে এক স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল, যার ফলে এনএসও-এর জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বা এর ব্যবহারকারীদের টার্গেট করা আইনিভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
এক বছর পার হতে না হতেই মেটা দাবি করেছে, তারা এনএসও-কে আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে হাতেনাতে ধরেছে।
কোম্পানিটির তথ্য অনুসারে, এনএসও-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কিছু অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে যেগুলো হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করানোর চেষ্টা করছিল।
এ ধরনের সাইবার আক্রমণগুলো হুবহু আগের ফিশিং ক্যাম্পেইনগুলোর মতোই, যা অতীতেও এ স্পাইওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিটির সঙ্গেই জড়িত ছিল।
মেটার একজন মুখপাত্র বলেছেন, সাম্প্রতিক এ ফিশিং আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল জর্ডান ও লেবাননের ১০ জনেরও কম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী।
এ বিষয়ে মেটার মুখপাত্র বলেছেন, “যাদের লক্ষ্য করে এ আক্রমণ চালানো হয়েছিল তাদের তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো লক্ষণ আমরা এখনো দেখতে পাইনি।”
অন্য কেউ হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে এমন আক্রমণের শিকার হয়েছেন কি না তা যেন পরীক্ষা করে দেখতে পারেন সেজন্য তাদের প্রতিবেদনে এ ফিশিং ক্যাম্পেইনের সঙ্গে জড়িত আইডেন্টিফাইড বিভিন্ন ডোমেইনের তালিকাও শেয়ার করেছে মেটা।
এ বিষয়ে এনগ্যাজেটের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এনএসও গ্রুপ।