Published : 26 Aug 2025, 04:21 PM
‘লোহা লোহাকে শান দেয়’ প্রবাদটি চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বা ইভি শিল্পের ক্ষেত্রে সত্যি হতে পারে। চীনের ইভি শিল্পে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এক কোম্পানি অন্যকে কোম্পানিকে আরও উন্নত হতে বাধ্য করছে। ফলে পুরো খাতটাই দ্রুত উন্নতির পথে এগুচ্ছে।
নিকিল কামাথের পডকাস্ট ‘পিপল বাই ডব্লিউটিএফ’-এর সাম্প্রতিক পর্বে চীনের ইভি খাতের প্রশংসা করে বিষয়টিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেছেন উবারের সিইও দারা খোসরোশাহি।
তিনি বলেছেন, “চীনের গাড়ি নির্মাতা ওইএম ও ইভি খাত থেকে যে ধরনের উদ্ভাবন বা নতুনত্ব আসছে, এর আগে এমন কিছু দেখিনি আমি। এ এক নজিরবিহীন ঘটনা।”
চীনকে বৈশ্বিক ইভি বাজারে আধিপত্য বিস্তারে সাহায্য করেছে ‘বিওয়াইডি’র মতো বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি। ফলে মার্কিন ইভি নির্মাতা টেসলা ও ফোর্ড’-এর মতো আমেরিকান বিভিন্ন কোম্পানির ওপর চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদেনে লিখেছে বিজনেস ইনসাইডার।
জুনে ফোর্ড-এর সিইও জিম ফারলি বলেছেন, চীনের বিভিন্ন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির প্রযুক্তি, দাম ও মান এ তিনটি ক্ষেত্রেই পশ্চিমা দেশের গাড়ির চেয়ে ‘অনেক উন্নত’।
চীনা নির্মাতারা কেন এত এগিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে খোসরোশাহি এর পুরো কৃতিত্বই দিয়েছেন চীনের ভেতরের তীব্র প্রতিযোগিতাকে।
“চীনের প্রতিটি বড় শহর বা প্রদেশ চায় তাদের নিজস্ব ইভি কোম্পানি সফল হোক। এখন চীনে একশটিরও বেশি গাড়ি নির্মাতা রয়েছে। ফলে সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছেই, যেটি আবার দেশটির সরকারের ওপর থেকে নির্ধারিত কৌশলের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে।”
খোসরোশাহি বিষয়টিকে বলেছেন, “দুই দিকেরই সেরা মেলবন্ধন।
“চীনে শিল্পনীতি থাকলেও এখানে সেই ব্যক্তিই বিজয়ী হন না যার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে। বিজয়ী হয় সেইসব কোম্পানি, যেগুলো তীব্র, ও নির্মম প্রতিযোগিতার মধ্যেও টিকে থাকতে পারে।
“চীন থেকে যেসব কোম্পানি এগিয়ে আসছে, বিশেষ করে গিলি, বিওয়াইডির কোম্পানি অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আজকের সময়ে এসেছে। বিষয়টি আসলেই যোগ্যতমের টিকে থাকার লড়াই। ফলে আমরা চীনে যে উদ্ভাবন ও দ্রুত উন্নয়ন দেখছি, তা সত্যিই অসাধারণ।”
খোসরোশাহির এমন কথার প্রেক্ষিতে বিজনেস ইনসাইডারের মন্তব্যের অনুরোধে জবাব দেননি উবারের কোনও প্রতিনিধি।
পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে খোসরোশাহির নেতৃত্বে কোম্পানিটির ড্রাইভারদের ইভি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছে উবার।
জুলাইয়ে ‘লুসিড’ নামের এক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিতে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে উবার। লুসিড মূলত ‘গ্র্যাভিটি ইভি’ গাড়ি তৈরি করে। লুসিডের নির্মিত এসব গাড়ি উবারের রোবট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
তিন বছর আগে নিজেদের স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বিভাগ বিক্রির পর ২০২৩ সালে অ্যালফাবেটের রোবোট্যাক্সি পরিষেবা ‘ওয়েইমো’র সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে উবার।
ফিনিক্সের রাইডাররা প্রথমবারের মতো উবার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওয়েইমোর ড্রাইভার ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন ও আটলান্টাতেও ছড়িয়ে পড়েছে এ সেবা।