Published : 26 Jun 2025, 05:17 PM
একই বিষয়ে দুই মামলায় প্রায় একই রায় এবং দুটো রায়ই গেল লেখকদের বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিচারক তাদের দেওয়া রায়ে বলেছেন, এআই প্রশিক্ষণে বইয়ের ব্যবহার মার্কিন কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে না।
কপিরাইট সংক্রান্ত মামলায় দুটির একটিতে অভিযুক্ত ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা, অপর মামলা ছিল এআইকেন্দ্রিক সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যানথ্রপিক।
মেটার বিরুদ্ধে আনা মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক ভিন্স চাবরিয়া বলেছেন, তার এ রায় কেবল এ মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, অর্থাৎ এতে জয় পেলেও ভবিষ্যতে যে কেউ মেটার বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা করতে পারবে। এ রায়ে মেটা পুরোপুরি দায়মুক্ত হয়ে গিয়েছে বিষয়টি এমন নয়।
অপরদিকে, অ্যানথ্রপিকের মামলায় ফেডারেল বিচারক উইলিয়াম আলসাপ বলেছেন, বই ব্যবহারের দায় থেকে মুক্তি পেলেও স্টার্টআপটিকে আরও একটা বিচারাধীন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। নিজেদের এআই প্রশিক্ষণের জন্য কোটি কোটি অবৈধ বা পাইরেটেড বই ডাউনলোড করেছে তারা।
বুধবার গুরুত্বপূর্ণ এক কপিরাইট মামলায় ১৩ জন লেখকের বিরুদ্ধে এই জয় পেল মেটা। বিচারক বলেছেন, মেটা যেভাবে বই ব্যবহার করে তাদের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম’কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তা যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং ‘ন্যায্য ব্যবহার’ নীতির আওতার মধ্যেই পড়ে।
যেসব লেখক মামলাটি করেছিলেন তাদের পক্ষে থাকা লেখকদের মধ্যে ছিলেন সারা সিলভারম্যান ও টা-নেহিসি কোটস। তারা অভিযোগ করেছিলেন, নিজেদের এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য লেখকদের বই ব্যবহার করলেও লেখকদের অনুমতি নেয়নি কোম্পানিটি।
বিচারক চাবরিয়া স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সাধারণভাবে অনুমতি ছাড়া কপিরাইটযুক্ত লেখা নকল করা বেআইনি।’ তবে এই মামলায় লেখকরা প্রমাণ করতে পারেননি যে, মেটা তাদের বই ব্যবহার করে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে তাদের আয়ে বা বই বিক্রিতে কোনো বাস্তব ক্ষতি হয়েছে।
বিচারক আরও বলেছেন, লেখকরা তাদের মামলার পক্ষে দুইটি দুর্বল বা ভুল যুক্তি দিয়েছিলেন।
“এ মামলার প্রমাণের ভিত্তিতে লেখকদের অভিযোগ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না যে মেটার কাজ তাদের বাজারে বড় ক্ষতি করেছে। ফলে মামলায় মেটা জিতেছে।”
বিচারক বলেছেন, মেটা যখন “কোনো কাজকে বদলে নতুন ও আলাদা কিছু তৈরির জন্য কপি করছে” তখন সেটি ন্যায্য ব্যবহার নীতির আওতায় আসে ও এটি আইনত ঠিক।
এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আদালতের এ সিদ্ধান্তে আমরা কৃতজ্ঞ। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিপ্লবী উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে তুলছে বিভিন্ন ওপেন-সোর্স এআই মডেল এবং কপিরাইট উপাদানের ন্যায্য ব্যবহার এ ধরনের প্রযুক্তি তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক আইনি ভিত্তি।”
তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনবিসি’র অনুরোধে সাড়া দেননি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।
অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে আনা মামলার রায়ে বিচারক উইলিয়াম আলসাপ বলেছেন, অ্যানথ্রপিক বই ব্যবহার করে তাদের এআই মডেল ‘ক্লড’কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা ‘নতুন কিছু তৈরি করার মতো’। তাই এটিও কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং ন্যায্য ব্যবহার নীতির মধ্যে পড়ে।
রায়ে বিচারক লিখেছেন, “অ্যানথ্রপিক আগে যে বই ইন্টারনেট থেকে চুরি করেছিল সেটির একটি কপি এখন কেনার দাবি করলেও আগের অপরাধের দায় থেকে তারা মুক্তি পাবে না। তবে এতে তাদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হয়তো কম হতে পারে।”
অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে আনা মামলায় লেখকদের মধ্যে রয়েছেন রহস্য থ্রিলার লেখক আন্দ্রেয়া বার্টজ। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অ্যানথ্রপিক তাদের ক্লড এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও এর মাধ্যমে কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যবসা করার জন্যে তার কাজ চুরি করেছে।
বিচারক উইলিয়াম আলসাপ তার রায়ে বলেন, “অ্যানথ্রপিক লেখকদের বই ‘অতিরিক্ত পরিবর্তন’ করে ব্যবহার করছে। তাই এটি মার্কিন আইন অনুসারে ন্যায্য ব্যবহার।”
তবে অ্যানথ্রপিকের মামলাটি খারিজের অনুরোধ নাকচ করে বিচারক রায় দিয়েছেন, কোম্পানিটিকে তার লাইব্রেরি তৈরির ক্ষেত্রে বইয়ের পাইরেটেড কপি ব্যবহারের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
মামলার রায়ে অ্যামাজন ও গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের সহায়তায় পরিচালিত অ্যানথ্রপিককে প্রতিটি কপিরাইটওয়ালা কাজ ব্যবহারের জন্য দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ গুণতে পারে।
লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম প্রশিক্ষণে কপিরাইটভূক্ত প্রকাশনার ব্যবহারে অনেক মামলার ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে এই দুটি মামলার মাধ্যমে।
এ মাসেই ডিজনি ও ইউনিভার্সাল এআই ইমেজ জেনারেটর মিডজার্নির বিরুদ্ধে পাইরেসির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে।