২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 13 Jun 2026, 07:47 PM
যে কারো জন্যই বিশ্বকাপে খেলা রোমাঞ্চকর, শিহরণ জাগানিয়া অনুভূতি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে হলে রোমাঞ্চের সাথে যোগ হয় চাপও। জুলিয়ানো সিমেওনের বেলায় এগুলোর সাথে যোগ হয়েছে, পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্বও!
২৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের নামের শেষের অংশটাই বলে দিচ্ছে, তিনি ‘সিমেওনে’ পরিবারের। আসলেও তাই। তিনি দিয়েগো সিমেওনের ছেলে। ‘সিনিয়র’ সিমেওনে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ছিলেন অধিনায়ক। ‘জুনিয়র’ সিমেওনে এবারই প্রথম খেলার অপেক্ষায় বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে।
আর্জেন্টিনার জার্সি অবশ্য জুলিয়ানো গায়ে তুলেছেন অনেক আগেই, ২০২৪ সালে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ১৩টি। জালের দেখাও পেয়েছেন দুইবার। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে খুলেছিলেন গোলের খাতা।
কদিন আগে, লিওনেল মেসির অনুপস্থিতি হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জেতা প্রীতি ম্যাচে করেছিলেন নিজের দ্বিতীয় গোলটি। এখন তার চোখে বড়মঞ্চে আলো ছড়ানো, পারিবারিক ঐতিহ্য উঁচুতে সমুন্নত রাখার স্বপ্নের আঁকিবুকি।
“এখানে, বিশ্বকাপে থাকাটা একটা স্বপ্ন, একজন ফুটবলারের জন্য এটাই চূড়ান্ত স্বপ্ন, যা আমি ছোটবেলা থেকে পূরণ করতে চেয়েছি। আমি উন্মুখ হয়ে আছি, শিহরণ অনুভব করছি এবং অবশ্যই, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে শতভাগেরও (১১০ শতাংশ) বেশি দিচ্ছি।”
“আমার জন্য সিমেওনে পরিবারের হওয়াটা সম্মানের। এটা আমি সবসময়ই বলে এসেছি। আতলেতিকোতে (মাদ্রিদে), আমি জার্সিতে জুলিয়ানো নাম নিয়ে খেলতাম নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার তাড়না থেকে। কিন্তু সবসময়, আমি আমার পরিবারকে বলেছি, আমার আমার বংশ পদবী সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব এবং যদি কখনও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলি, তাহলে নিজেকে সিমেওনে বলে পরিচয় দেব, যাতে তারা গর্বিত হয়।”
বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাবার কাছ থেকে বার্তা পাওয়ার কথাও বললেন জুলিয়ানো। বলার অপেক্ষা রাখে না, আকাশী নীল-সাদা জার্সির জন্য সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু নিংড়ে দেওয়ার পরামর্শই আছে সেখানে।
“সরাসরি দেখার চেয়ে ভিডিওতে বাবাকে দেখাটাই বেশি মনে আছে আমার। অধিনায়ক হিসেবে, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে তিনি কত ম্যাচ খেলেছেন! সবসময় আমি তাকে ১১০ শতাংশ দিতে দেখেছি। দলের জন্য, সতীর্থদের জন্য সবটুকু উজাড় করে দিতে দেখেছি। জাতীয় দলের হয়ে বাবার যে ক্যারিয়ার, তা নিয়ে আমি গর্বিত।”
“তিনি আমাকে একটা বার্তা পাঠিয়েছেন। বলেছেন, এই জার্সির জন্য নিজের সবটুকু ঢেলে দিতে। বিশ্বকাপে থাকাটা দারুণ একটা ব্যাপার। আমি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করব। আর এই মূল্যবোধ ধরে রাখতে হবে নম্রতা, কঠোর পরিশ্রম এবং দলের প্রয়োজনে সবসময় প্রস্তুত থাকার মধ্য দিয়ে। আমি এই সিমেওনে পদবীটাকে শীর্ষে সমুন্নত রাখতে চেষ্টা করব।”