Published : 03 Nov 2025, 04:46 PM
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রস্তাবিত নতুন গাইডলাইনে ইন্টারনেট সেবার মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি দাবি করেছে, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং লাইসেন্স ফি বাড়ানোর যে প্রস্তাবনা রয়েছে, তাতে করে গ্রাহক পর্যায়ে খরচ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভুঁইয়া। আর মূল প্রেজেন্টেশন এবং লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম।
সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন নীতিমালায় এফটিএসপি (ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার) লাইসেন্সের ক্ষেত্রে রেভিনিউ শেয়ারিং ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ‘সোশাল অবলিগেশন ফান্ডে’ ১ শতাংশ দিতে হবে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ লাইসেন্স ফি। এই সব মিলে এফটিএসপি অপারেটরদের ক্রয়মূল্য প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
আইএসপিএবির মতে, এভাবে খরচ বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা থেকে শুরু করে ডিজিটাল জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে। তাই তারা গাইডলাইন সংস্কারের দাবি তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নতুন নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস এবং লাস্ট মাইল ফাইবার কানেক্টিভিটি প্রদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতায় পড়বেন এবং নিজস্ব বিনিয়োগে গড়ে ওঠা আইএসপিগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সংগঠনটি প্রস্তাবনা ও দাবির মধ্যে রয়েছে, সিএমএসপি গাইডলাইন থেকে এফডাব্লিউএ সেবা অপসারণ, সিএমএসপি’র হোম/অফিসে ফাইবার কানেক্টিভিটি ডেপ্লয় নিষিদ্ধ করা, ওয়াইফাই/আইএসএম ব্যান্ডের বাণিজ্যিক ব্যবহার সীমাবদ্ধ করা, এফটিএসপি ও জেলা এফটিএসপির সেবায় বৈষম্য দূর করা, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং লাইসেন্স ফি পুনর্বিবেচনা এবং আইপিটিএসপি এসএমএস সার্ভিস ও মোবাইল ডায়ালার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা সংযোজন।
প্রেজেন্টেশনে সংগঠনটি দেখিয়েছে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে সরকারি পাওনা পরিশোধের হার ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত যাবে। বর্তমানে যা ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ খরচ বেড়ে যেতে পারে প্রায় ১১ থেকে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
আইএসপিএবি বলছে, এই আপত্তি জনগণের স্বার্থ রক্ষার জায়গা থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, “আমরা আপনাদেরকেই সেবা দেই, তাই এই লড়াই মানুষের স্বার্থের লড়াই। সাধারণ ব্যবহারকারীদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা এগোতে পারবো না।”