Published : 15 May 2025, 06:54 PM
টানা তিন দিনের পতনে পুঁজিবাজারে লেনদেন কমতে কমতে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে।
বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিনে সূচক কমেছে ৫৪ পয়েন্ট। এ নিয়ে সবশেষ তিন দিনে দেশের বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ১৪০ পয়েন্ট।
এর আগে গত ৬ মে একদিনে ১৫০ পয়েন্ট হারিয়েছিল সূচক। পরের দুই দিনে কোনোভাবে ১১৯ পয়েন্ট ফিরে পেলেও তারপর আবার পতন শুরু হয়। সেই পতনে সূচক কমতে কমতে সপ্তাহের শেষ দিনে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে।
সূচকের সঙ্গে লেনদেনও কমছে। আগের দিন লেনদেন ৩০০ কোটির নিচে নেমে ২৯৪ কোটিতে নেমেছিল। বৃহস্পতিবার তা কিছুটা বেড়ে প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা হলেও লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার চিত্র ছিল সুস্পষ্ট।
অনেকে মনে করছেন, তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে অর্ধেকের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন না হওয়ার বিষয়টি প্রভাব রাখছে বাজারে। এতে গত কয়েকদিন ধরে খাতটির শেয়ার হাতবদলের পরিমাণও কমছে।
মূল্য সূচক টানা তৃতীয় দিনে কমে যাওয়াকে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বলে মনে করছেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এটিই অন্যতম কারণ, তাছাড়া দরপতনের কোনো কারণ নেই। যেখানে আস্থা নেই, সেখানে কীভাবে তারা বিনিয়োগ করবেন।’’
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরবর্তী ঋণ কিস্তি পাওয়ার খবর জানাতে গত বুধবার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের না।
ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত না করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে তিনি এমন কথা বলেন। পরদিন লেনদেন কমলো ব্যাংক খাতের শেয়ারের। বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতাও বজায় থাকল।
গত এক যুগের বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে সক্রিয় বিনিয়োগকারী মনিরুজ্জামান বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘কেনাবেচা বন্ধ করে রাখছি। পরিচিত বন্ধুরাও শেয়ারে বিনিয়োগ করছে না। ব্যাংকে একটা আশা ছিল, এখন নাই।’’
বৃহস্পতিবার অধিকাংশ শেয়ারের দর পতনের দিনে হাতবদল বেশি হয় ব্যাংক, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শেয়ারের পর মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের।
ডিএসইতে লেনদেনে আসা মোট ৩৯৫টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ারদর বাড়ে ৪২টির, কমে ৩১৭টির এবং আগের দরে লেনদেন করে ৩৬টি।
দিনশেষে মোট লেনদেনের ৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ ছিল ব্যাংক খাতের। আগের দিন ছিল ৫২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত মঙ্গলবার তা ছিল ৯৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও গত সোমবার হয় ৯৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
দিন শেষে অন্যান্য খাতের মধ্যে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৩৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা ও মিউচুয়াল ফান্ডে লেনদেন হয় ২৪ কোটি টাকা।
দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় ডিএসইতে শেয়ার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে উঠে আসে সিটি ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স ও বাটা সু।
অন্যদিকে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় শেয়ার দর হারানোর শীর্ষে চলে আসে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, বিচ হ্যাচারি ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল।