Published : 16 Jun 2026, 04:12 PM
আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিয়েও কাতারকে হারাতে না পারায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ সুইজারল্যান্ড। দলের জন্য এটাকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন রুবেন ভার্গাস। তবে ওই ম্যাচ নিয়ে পড়ে না থেকে সামনের লড়াইগুলোর জন্য নিজেদের তৈরি করার তাগিদ দিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
স্যান ফ্রান্সিসকোয় গত শনিবার দাপুটে ফুটবল খেলা সুইজারল্যান্ড জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু অন্তিম মুহূর্তে আত্মঘাতী হয়ে শেষ হয়ে যায় তাদের জয়ের আশা। ১-১ সমতায় শেষ হয় ‘বি’ গ্রুপের লড়াইটি। বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টের দেখা পায় কাতার।
সেদিন পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল সুইজারল্যান্ডের। ৬৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। খেলাধুলার রেকর্ড রাখা অপ্টা অ্যানালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে তাদের সর্বোচ্চ আক্রমণের রেকর্ড।
একের পর এক আক্রমণ করে গেলেও দ্বিতীয় গোল আর পায়নি সুইজারল্যান্ড। এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ দিক ওই গোল হজম না করলে জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত তারা। ভার্গাস বললেন, রক্ষণে আরও দৃঢ় হতে হবে তাদের।
“এই ম্যাচটি স্পষ্টভাবেই আমাদের জন্য আরেকটি সতর্কবার্তা। ম্যাচের শেষ দিকে যখন দেখবেন, ব্যবধান বাড়ানোর জন্য দ্বিতীয় গোলটি আসছে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই একটা স্নায়ুচাপ কাজ করে... ফুটবলে এমন অনেক গল্প আছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত একটি সুযোগই সবকিছু বদলে দিয়েছে।”
“মাঝেমধ্যে বল জালে জড়াতে চায় না, তবে এটা কোনো অজুহাত নয়… আমাদের রক্ষণভাগ নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”
এনিয়ে টানা ষষ্ঠবার বিশ্বকাপে খেলছে সুইজারল্যান্ড। ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে আর কেবল ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল ও জার্মানিই টানা এতগুলো আসরে খেলতে পেরেছে।
তবে ওই দলগুলোর তুলনায় সুইসদের প্রাপ্তির খাতাটা বেশ মলিন। বিগত ছয়টি আসরের পাঁচটিতেই তারা শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে। সব মিলিয়ে, নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুইবার শেষ আটে খেলতে পেরেছে দলটি, সবশেষ ১৯৫৪ সালে।
উত্তর আমেরিকা আসর শুরু করার আগে সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা বলেছিলেন, নিজেদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য তাদের। কিন্তু সে লক্ষ্যে শুরুটা যেভাবে হলো, তা দলটির জন্য আসলেই সতর্কবার্তা।
কাতারের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা এবং রক্ষণের ভুলের জন্য সুইজারল্যান্ডকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে ওই ম্যাচ নিয়ে আর ভাবতে চান না ভার্গাস। সামনে এগিয়ে যেতে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন তিনি।
“যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমরা একটি পয়েন্ট পেয়েছি, অন্যরাও এক পয়েন্ট করেই পেয়েছে। তাই এখনও সবকিছু সম্ভব। এখনও আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। ম্যাচটি জিততে না পারার আক্ষেপে আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না।”
“নিজেদের তো শেষ করে দিতে পারি না। আমাদের ইতিবাচকও থাকতে হবে এবং ভালো মানসিকতা নিয়ে পরের ম্যাচে মাঠে নামতে হবে।”
আগামী বৃহস্পতিবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকদের একটি কানাডা।