Published : 11 Jun 2026, 01:29 PM
ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা নেই টমাস টুখেলের। এবার ইংল্যান্ড দলের হয়ে সেই স্বাদ পেতে যাচ্ছেন এই জার্মান কোচ। উত্তর আমেরিকা আসরের জন্য তাই রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন তিনি।
কোস্টা রিকার বিপক্ষে বুধবার প্রীতি ম্যাচে দাপুটে এক জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। একপেশে লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোয় ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে ম্যাচটি এক ঘণ্টা দেরিতে হয়। এর প্রভাব অবশ্য ইংলিশদের খেলায় একদমই পড়েনি। ম্যাচের নবম মিনিটে ডেক্লান রাইস ইংলিশদের এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যান্থনি গর্ডন। শেষ দিকে দলের তৃতীয় গোলটি করেন বদলি নামা অলি ওয়াটকিন্স।
আগের ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনোমতে ১-০ গোলের জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে কোস্টা রিকার বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ৮০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৮টি শট নেয় দলটি। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল নয়টি।
‘নাম্বার টেনের’ দায়িত্ব পালন করা জুড বেলিংহ্যাম অসাধারণ খেলেন। সঙ্গে গর্ডন, রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পারফরম্যান্সও ছিল দারুণ। যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিতে শুরু করেছেন তারা। ম্যাচ শেষে সেসব তুলে ধরে সন্তুষ্টি ঝরল টুখেলের কণ্ঠে।
“ম্যাচের আগে বলেছিলাম, আমরা দলের তীব্রতা, প্রতিশ্রুতি ও সংহতিকে পরের ধাপে নিয়ে যেতে চাই। সেটা করে দেখিয়েছি। ক্যাম্পে আর্সেনালের ফুটবলারদের যোগ দেওয়ার প্রভাব দেখাই যাচ্ছে। একই সঙ্গে অনুশীলনের ইতিবাচক প্রভাবও ফুটে উঠেছে।”
“এখানকার গরম ও জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি এবং ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করতে শুরু করেছে। আজ খেলোয়াড়দের কাছে দাবি ছিল, তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং তারা সেটা পূরণ করেছে। তাদের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা কীভাবে খেলছি। সেটা ঠিক থাকলে ফলাফল আপনাআপনিই পক্ষে চলে আসে। আর আজ আমরা খুব উঁচুমানের ফুটবল খেলেছি।”
জাতীয় দলের জার্সি কখনো গায়ে জড়ানোর সৌভাগ্য হয়নি টুখেলের। কোচিং পেশায়ও ইংল্যান্ডের আগে কখনো কোনো জাতীয় দলে ছিলেন না তিনি। তাই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপের জন্য মুখিয়ে আছেন ৫২ বছর বয়সী এই কোচ।
“আশাকরি, এটা আমার জন্যও দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে। এটা আমার প্রথম বিশ্বকাপ, যা একেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে।”
“মাঠে বল গড়ালে এবং টুর্নামেন্ট শুরু হলে আসল রোমাঞ্চ টের পাব। ক্যানসাস সিটিতে গিয়ে যখন আনুষ্ঠানিক ম্যাচের প্রস্তুতি নেব, তখন উত্তেজনা আরও বাড়বে। চাপও অবশ্যই বাড়বে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এই অনুভূতিটাই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি। তখনই মনে হয়, আপনি সত্যিকার অর্থে জীবন্ত আছেন।”
ডালাসে আগামী বুধবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৬০ বছরের খরা কাটানোর অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড। ‘এল’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ঘানা ও পানামা।