Published : 14 Jun 2026, 09:14 AM
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দর্শকদের কাছে এই উদযাপন খুব চেনা। বিশ্ব ফুটবলেও চেনেন অনেকে। যেটির নাম ‘গগলস’ উদযাপন। বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে সেগুলো চোখের সামনে তুলে ধরেন জন ম্যাকগিন। তার ভাগ্নে জ্যাক দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে সুরক্ষামূলক স্পোর্টস গগলস পরে মাঠে নামেন। ভাগ্নের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ম্যাকগিনের এই উদযাপন, তুমুল প্রশংসিত এই উদযাপন এবার বিশ্বমঞ্চে দেখানোর সুযোগ পেলেন এই মিডফিল্ডার। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তন জয় দিয়ে রাঙাল স্কটল্যান্ড।
বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ফক্সবরোর বস্টন স্টেডিয়ামে হাইতিকে ১-০ গোলে হারাল স্কটল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে জয়ের স্বাদ পেল তারা।
প্রথমার্ধেই গোলটি করেন ম্যাকগিন। সেটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় শেষ পর্যন্ত।
১০ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছেন অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার। দেশের জার্সিতে আগেও গোল করেছেন ২০টি। তবে নিশ্চিতভাবে তার স্মরণীয়তম গোল এটিই।
হাইতির জন্যও এটি ছিল প্রত্যাবর্তন। কিন্তু ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার ম্যাচটি রাঙিয়ে রাখতে পারল না তারা।
ম্যাচে বল ধরে রাখার লড়াইয়ে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে সমান। গোলে শর্ট নেয় হাইতি ১৩টি, স্কটল্যান্ড ৮টি। ত লক্ষ্যে ছিল দুই দলেরই ৩টি করে।
যদিও তুলনামূলকভাবে বেশি গোছানো ফুটবল খেলেছে স্কটিশরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিট ও দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিট বেশ চাপ তৈরি করে হাইতি। কিন্তু পারেনি তারা আসল কাজটি করতে।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর বেশ দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ নেয় স্কটল্যান্ড। ম্যাচে ম্যাকগিনের প্রথম ঝলক দেখা যায় সপ্তম মিনিটে। তার নান্দনিক একট ব্যাকহিল থেকে অ্যান্ডি রবার্টসনের ক্রসে স্কট ম্যাকটমিনের হেড ওপর দিয়ে চলে যায়।
স্কটিশদের আক্রমণের পালা চলতে থাকে। কখনও একটু এলোমেলো, কখনও গোছানো। সপ্তদশ মিনিটে বেন গ্যানন-ডোক বল সাজিয়ে দেন স্কট ম্যাকটমিনেকে, যার জোরাল শট লাগে পোস্টে।
২৮তম মিনিটে সেই গোল, যেটি ম্যাচের শেষ পর্যন্ত গড়ে দেয় পার্থক্য। আক্রমণের সূচনায় চে অ্যাডামসের চমৎকার ছোঁয়া থেকে বল পান দুর্দান্ত খেলতে থাকা গ্যানন-ডোক। তিনি বল ভেতরে বাড়িয়ে দেন, যা ম্যাকগিনকে খুঁজে নেয়। তার শট দুজনকে স্পর্শ করে গোলকিপারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে।
গ্যানন-ডোক সুযোগ তৈরি করেন চার মিনিট পর আরেকটি। টাচলাইনের দিকে এগিয়ে লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডকে বল দেন। কিন্তু তার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথমার্ধের পরের সময়টায় স্কটিশদের অনেকটা চেপে ধরে হাইতি। কিন্তু গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। যোগ করা সময়ে মার্কারকে ছিটকে ফেললেন পাসটি ঠিকঠাক দিতে পারেননি গ্যানন-ডোক।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছু আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হলেও খুব নাটকীয় কিছু হয়নি। তবে ৭২তম মিনিটে আবার গোলের কাছাকাছি যান ম্যাকগিন। বাঁ পাশ দিয়ে বক্সে ঢুকে তার বাঁ পায়ের শট দূরের পোস্ট দিয়ে বাইরে চলে যায়।
পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেনি হাইতি। গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি আসে তারা ৮৪তম মিনিটে। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ফঁসদি পিহো দারুণ এক হেড নিলেও বল একটু ওপর দিয়ে চলে যায়।
শেষ দিকে আরও কিছু সময় নার্ভাস অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত সেই বাঁশি বেজে ওঠে। উল্লাসে মেতে ওঠে স্কটিশরা। গ্যালারিতে নেচেগেয়ে উদযাপন করেন সমর্থকেরা।
এারের আগে বিশ্বকাপে তাদের শেষ জয়টি ছিল ১৯৯০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে।এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে এ দিন মরক্বোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল।