Published : 08 Jul 2026, 04:36 PM
নিজেদের ফুটবল ইতিহাস নতুন করে রচনার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা সুইজারল্যান্ড সেই পথে ছুটছে দারুণভাবে। কলম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে দেশের সেরা সাফল্য ছুঁয়েছে তারা। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না কোচ মুরাত ইয়াকিন; লক্ষ্য আরও দূর যাওয়ার।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারায় সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোল করতে পারেনি দুই দলের কেউ।
বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সর্বোচ্চ সাফল্য শেষ আটে খেলা। এর আগে ওই ধাপে স্রেফ দুইবারই খেলতে পেরেছিল তারা, সবশেষ ১৯৫৪ সালে। ৭২ বছর পর আবারও কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলবে সুইসরা।
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে সুইজারল্যান্ড অধিনায়ক গ্রানিত জাকা বলেছিলেন, দেশের ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লিখতে চান তারা। সেই পথে এবার আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন দলট।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে যে পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল সুইজারল্যান্ড, সেটার প্রতিটি ছোট ছোট বিষয়গুলো এদিন ঠিকঠাক কাজে লেগেছে বলে মনে করছেন ইয়াকিন। বিশেষ করে, সময়মতো তার বদলি খেলোয়াড় নামানোটা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে দারুণভাবে।
রুবেন ভার্গাসকে এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মাঠে নামান ইয়াকিন। পেনাল্টি শুট আউটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ শটটি ভার্গাসই নেন। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারার উচ্ছ্বাস ঝরল সুইসদের কোচের কণ্ঠে।
“তাকে (ভার্গাস) বলটি জালে জড়াতে দেখাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। আমি ভীষণ স্বস্তি পেয়েছি এবং খুশি হয়েছি। এটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা সুইস দলের ইতিহাসের সেরা মাইলফলক ছুঁয়েছি, তবে আমাদের এই যাত্রা এখানেই থামছে না।”
অনুশীলনের সময় চোট পাওয়ায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বিকে পায়নি সুইজারল্যান্ড। তার অভাব দল বেশ ভালোভাবে সামলে নিয়েছে। সবকিছু প্রত্যাশা মতো হওয়ায় খুশি ইয়াকিন।
“প্রতিটি ছোট সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সব পরিকল্পনা কাজে লেগেছে। জোহানের অনুপস্থিতি আমাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল, কিন্তু দল হিসেবে সেটা ভালোভাবে সামলেছি। জানতাম, এটা ঐতিহাসিক ম্যাচ; শেষ ষোলো থেকে সেরা আটে যাওয়ার সুযোগ প্রতিদিন আসে না।”
২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরেছিল সুইজারল্যান্ড। হৃদয় ভাঙা ওই হারের সাক্ষী ছিলেন ভার্গাস। এবার দলকে পেনাল্টি শুট আউটের বৈতরণী পার করতে পেরে ভীষণ খুশি এই উইঙ্গার।
“আমার নিজের ওপর আস্থা রাখতে হতো। আমি অত্যন্ত নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী বোধ করছিলাম। জয়সূচক পেনাল্টি গোলটি করতে পারাটা আমার কাছে দারুণ এক অনুভূতি ছিল।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ড প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। ক্যানসাস সিটিতে ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় ৭টায় (এএম) হবে ম্যাচটি।