Published : 09 Jun 2026, 08:59 AM
ফুটবল বিশ্বকাপে দুই ভাইয়ের ভিন্ন দুই দেশের হয়ে খেলার কথা বললেই চলে আসে জেরোম বোয়াটেং ও কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং ভাইদের কথা। বিশ্বকাপের প্রায় শত বছরের ইতিহাসে দুই ভাইয়ের একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার একমাত্র ঘটনা ঘটেছে এই দুজনের সৌজন্যেই, তাও আবার পরপর দুটি আসরে। এমন চার জোড়া ভাইকে দেখা যাবে আসন্ন উত্তর আমেরিকা আসরে, প্রত্যেকেই খেলবেন আলাদা দেশের হয়ে। তবে কোনো ভাইদের জুটি একে অপরের মুখোমুখি হবে না গ্রুপ পর্বে।
দিজিরে দুয়ে ও তার দুই বছরের বড় ভাই গেলে দুয়ের জন্ম ফ্রান্সে। ফুটবলার হিসেবে দুজনেরই বেড়ে ওঠা ফরাসি ক্লাব রেনের একাডেমিতে। পিএসজির হয়ে টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী উইঙ্গার দিজিরে যতটা পরিচিত এখন ফুটবল দুনিয়ায়, ততটা নন স্ত্রাসবুরের ফুলব্যাক গেলে।
দিজিরে জাতীয় দল হিসেবে বেছে নেন মায়ের জন্মভূমি ফ্রান্সকে। গেলে খেলেন বাবার দেশ কোত দি ভোয়ার জার্সিতে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই ভাইয়ের প্রথমবার মুখোমুখি দেখা হয় গত বৃহস্পতিবার। ২৩ বছর বয়সী গেলে গোল করে উপলক্ষটা রাঙালেও, পুরোটা সময় ফ্রান্সের বেঞ্চে বসে ছিলেন ২১ বছর বয়সী দিজিরে।
ম্যাচের পর গেলে সাংবাদিকদের বলেন, “অবশ্যই ম্যাচের আগে আমরা একটু খুনসুটি করেছি। দিন শেষে আমরা পরিবার এবং একে অপরের জন্য আমরা খুব খুশি।”
উইলিয়ামস ভাই ইনাকি ও নিকোর জন্ম স্পেনে। ১৯৯৪ সালে ঘানা থেকে শরণার্থী হিসেবে স্পেনে এসেছিলেন তাদের বাবা-মা। জাতীয় দল হিসেবে নিকো বেছে নেন স্পেনকে। দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ী ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।
২৩ বছর বয়সী উইঙ্গার নিকোর বড় ভাই ইনাকি ৩২তম জন্মদিন পালন করবেন আগামী সপ্তাহে। ইনাকিও একবার স্পেনের হয়ে খেলেছেন ২০১৬ সালে, তবে সেটি ছিল একটি প্রীতি ম্যাচ। ঘানা জাতীয় দলও তার প্রতি আগ্রহী ছিল। অবশেষে ২০২২ সালে বাবা-মায়ের দেশের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি।
ঘানা দলেই আছেন ৩০ বছর বয়সী ডাচ বংশোদ্ভূত ডিফেন্ডার ডেরিক লুকাশেন। চোট পাওয়া খেলোয়াড়ের বদলি হিসেবে শেষ মুহূর্তে দলে ডাক পান তিনি।

তার সৎ ভাই ব্রায়ান ব্রোবি এই বিশ্বকাপে আছেন নেদারল্যান্ডস দলে। ২৪ বছর বয়সী ব্রোবি নেদারল্যান্ডসের ব্যাক-আপ স্ট্রাইকার।
একই মায়ের গর্ভে জন্ম হলেও তাদের বাবা ভিন্ন।
স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ২৭ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক হ্যারি সাউটারকে বিশ্বকাপ দলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তার দুই বছরের বড় ভাই জন খেলবেন স্কটল্যান্ডের হয়ে। জনও সেন্টার-ব্যাক।
তাদের বাবা স্কটিশ, মা অস্ট্রেলিয়ান। স্কটল্যান্ডের হয়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলে খেলা হ্যারি জাতীয় দল হিসেবে বেছে নেন মায়ের জন্মভূমিকে।
গত কয়েক দশকে ইউরোপে অভিবাসন বাড়তে থাকায় আফ্রিকান জাতীয় দলগুলোর জন্য প্রতিভার এক বিশাল ভান্ডার উন্মুক্ত হয়েছে, যেখান থেকে তারা জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় বাছাই করতে পারে। এবারের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী দল যেমন আলজেরিয়া, কেপ ভার্দ, ডিআর কঙ্গো, মরক্কো, সেনেগাল ও তিউনিসিয়ার ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে নিজ দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ের চেয়ে ইউরোপে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশি।
জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ও বয়সভিত্তিক ফুটবলে দেশটির হয়ে খেলা কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংও যেমন আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন ঘানার হয়ে। ২০১০ বিশ্বকাপে দুই বছরের ছোট সৎ ভাই জেরোম বোয়াটেংয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। জোহানেসবার্গে ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছিল জেরোমের জার্মানি।
চার বছর পর, ব্রাজিল বিশ্বকাপে আবারও একে অপরের বিপক্ষে খেলেন এই দুই ভাই। গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।