Published : 07 Jun 2026, 05:34 PM
সপ্তাহখানেক পর যখন জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামবে কুরাসাও, ইতিহাসের পাতায় নাম উঠে যাবে তাদের। বিশেষ মুহূর্তটির জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটির সবাই। দলটির ফরোয়ার্ড তাহিথ চং বললেন, বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ার পর থেকেই ‘নির্ঘুম’ সময় কাটাচ্ছে দেড় লাখ জনসংখ্যার কুসারাও।
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে কুরাসাও। আগামী রোববার নিজেদের প্রথম ম্যাচে চারবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি হবে তারা। প্রথমবার বিশ্ব মঞ্চে খেলতে মুখিয়ে আছেন দলটির সবাই।
তবে চংয়ের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব অন্য সবার চেয়ে একটু বেশি। কারণ, কুরাসাও দলের মধ্যে তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যার জন্ম এই দ্বীপটিতে।
শৈশবের বেশিরভাগ সময় কুরাসাওয়ে কাটান চং। পরে ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়তে পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডসে। ডাচ যুব দলগুলোতেও খেলেন তিনি। কিন্তু সিনিয়র ফুটবলে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এলে, কুরাসাওকেই বেছে নেন ২৬ বছর বয়সী চং।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ দিয়ে কুরাসাওয়ের হয়ে অভিষেক হয় চংয়ের। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বার্মিংহ্যামের সাবেক ফুটবলার জন্মভূমির হয়ে প্রথম ম্যাচে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে ২৮ মিনিট খেলে কিছু করতে পারেননি। তবে বারমুডার বিপক্ষে দেখান নিজের সামর্থ্য। দুটি গোল করার পাশাপাশি একটিতে রাখেন অবদান। পরে চোটের কারণে বাছাইপর্বে আর ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি।
কুরাসাওয়ের জার্সিতে চং সবশেষ মাঠে নামেন গত ৩০ মে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রীতি ম্যাচটিতেও জালের দেখা পান তিনি। এবার বিশ্ব মঞ্চে নিজের দ্যুতি ছড়ানোর পালা তার।
গত নভেম্বরে জ্যামাইকার বিপক্ষে ড্র করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে কুরাসাও। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চং বললেন, সেই থেকে আনন্দ-উন্মাদনায় দিন কাটছে কুরাসাওয়ের সবার।
“আমার মনে হয়, দ্বীপটি এখনও ঘুমায়নি। বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার পর প্রায় পাঁচ মাস হয়ে গেছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে সেখানকার মানুষ ভীষণ আনন্দ করছে এবং পরিবেশটা পুরোই পাগলাটে। সাধারণত সেখানে ব্রাজিলের সমর্থক বা আর্জেন্টিনার সমর্থক থাকে, কিন্তু এবার যেহেতু আমরা নিজেরাও খেলছি, তাই দৃশ্যটা একেবারেই আলাদা হবে। প্রত্যেকেই এবার কুরাসাওয়ের পক্ষে গলা ফাটাবে, যা দেখতে সত্যিই দারুণ হবে।”
বিশ্বকাপে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকা চং বললেন, শুধু তিনি নন, দলের সবারই স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে।
“এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো হবে, কেবল আমার জন্য নয়, পুরো দলের জন্য। কারণ আমরা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ, আর আমাদের প্রত্যেকের এখানে পৌঁছানোর গল্পটাও আলাদা। এটা ছিল লম্বা একটা যাত্রা। আমি সম্প্রতি দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছি, কিন্তু আমাদের অধিনায়ক লেয়ান্দ্রো বাকুনা ও গোলরক্ষক এলয় রুম ১০ বছরের বেশি সময়ে ধরে এই দলের সঙ্গে আছেন, তাই বুঝতেই পারছেন তাদের অনুভূতিটা কেমন।”
‘ই’ গ্রুপে কুরাসাওয়ের অন্য দুই প্রতিপক্ষ কোত দি ভোয়া ও একুয়েডর।