Published : 11 Jul 2026, 05:11 PM
এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি পারফরম্যান্স যতটা অসাধারণ, ততটাই অবিশ্বাস্য তার পেনাল্টির চিত্র। দুবার স্পট কিক নিয়ে কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেননি আর্জেন্টাইন জাদুকর। তবে তার ওপর আস্থা বিন্দুমাত্র কমেনি লিওনেল স্কালোনির। আর্জেন্টিনার কোচ সাফ জানিয়ে দিলেন, মেসি নিজে যতদিন চাইবেন, পেনাল্টির ভার তার ওপরই থাকবেন।
এই বিশ্বকাপে মেসির অতিমানবীয় যাত্রায় কেবল পেনাল্টির ক্ষেত্রেই তাকে মনে হচ্ছে রক্ত-মাংসের মানুষ। কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেয়ে তিনি বাইরে মেরে দেন। মিশরের বিপক্ষে তার পেনাল্টি আটকে দেন গোলকিপার।
পেনাল্টিতে ব্যর্থতার তার জন্য নতুন কিছু নয়। গত বিশ্বকাপ থেকে বিবেচনায় নিলে আর্জেন্টিনার হয়ে সবশেষ সাত পেনাল্টির মধ্যে তিনি কেবল চারটিতে গোল করতে পেরেছেন।
তবে স্কালোনির তাতে ভাবান্তর হয়নি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে কোচ বললেন, পেনাল্টির দায়িত্ব অধিনায়কের ওপরই থাকবে।
“প্রথমত, লিও যদি চায়, তবে পেনাল্টি সে-ই নেবে। আমাদের দলে পেনাল্টি নেওয়ার মতো ফুটবলার আরও অনেক আছে। কিন্তু সে যদি নিতে চায়, তবে সে-ই নেবে।”
মাঠে মেসির পজিশনের ব্যাপারটি নিয়েও কথা বললেন স্কালোনি। এবারের বিশ্বকাপে আক্রমণভাবে তাকে বিভিন্ন ভূমিকায় দেখা গেছে। মাঝখানে তো নিয়মিতই খেলছেন, অবস্থা বুঝে পরিবর্তনও করছেন। মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ের পথে যেম শেষ মুহূর্তে ডানদিকে সরে গিয়ে খেলছিলেন।
স্কালোনি বলেন, দলের অবস্থা বুঝেই মেসির অবস্থান বদলাতে পারে এবং দলের খেলার ধরনও সেভাবেই বদলাবে।
“সত্যি বলতে, আজকাল সে সাধারণত মাঝখানেই বেশি খেলে। তবে আমাদের পুরো দল, বিশেষ করে যারা তার আশেপাশে খেলে, তারা তাকে কেন্দ্র করেই খেলে। এটাই স্বাভাবিক। খেলার স্বাভাবিক প্রবাহের মধ্যেই এটা ঘটেছে (মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে)। দল বুঝতে পেরেছিল যে, সে ওই দিক থেকে বিপদ তৈরি করছে। কারণ, সে বিপরীত দিকে পাস খুঁজে নিতে পারছিল, যেখানে তার সতীর্থরা পৌঁছাতে পারত। আমার মনে হয়, বিষয়টি একদম দৃশ্যমানই ছিল।”
কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে নকআউট পর্বের দুটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়েছিল তাকে। বাদ পড়ার শঙ্কায়ও পড়ে গিয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত জিততে পারলেও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নের জায়গা আছে অনেক। তবে বাইরের আলোচনা যেমনই থাকুক, নাটকীয় দুই জয়ে দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ।
“কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে আমাদের জেতা উচিত ছিল, কিন্তু তারপরও আমাদের ১২০ মিনিট সময় লেগেছে। দল সেদিন অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল এবং কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ভুল করেছিল।”
“মিশরের বিপক্ষে আমার মনে হয়, আমরা আসলে আরও ভালো খেলেছি। আমরা আরও বেশি সুযোগ তৈরি করেছি এবং আবারও মাত্র কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ভুল করেছি। আমাদের ফুটবল এবং সুযোগ তৈরির দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি মনে করি দল ভালো অবস্থায় আছে।”