Published : 30 Jun 2026, 01:10 PM
অতিরিক্ত সময়ে ইয়োনাথান টাহর গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে উদযাপন নিয়ে তখন ব্যস্ত জার্মানি। কিছুক্ষণ পর রেফারিকে মনিটর দেখতে ডাক দিলেন ভিএআর। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে গোলটি বাতিল করে দিলেন রেফারি। যা একদমই ভালো লাগেনি ইউলিয়ান নাগেলসমানের। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া জার্মানির কোচ বললেন, ওই গোল না দেওয়া তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।
টাহর গোলটি হলে, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচটিতে হয়তো ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত জার্মানি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে তারা বিদায় নেয় টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে।
তখন লড়াই চলছিল ১-১ সমতায়। ১০২তম মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নারে হেডে প্যারাগুয়ের জালে বল পাঠান টাহ। বাঁধনহারা উল্লাসে মাতে জার্মানির সবাই। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই গোলটি বাতিল করে দেন মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ।
রেফারির দাবি, টাহকে জায়গা করে দিতে জার্মানির ভালদেমার আন্তন ফাউল করেছিলেন গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিলকে। যদিও রিপ্লেতে দুজনের মধ্যে সামান্য স্পর্শই দেখা গেছে। তবে আন্তন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই হিলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
নাগেলসমান অবশ্য গোলটি বাতিল করার কোনো কারণই দেখেন না।
“অবশ্যই বলতে পারেন, প্যারাগুয়ের রক্ষণ আমাদের অন্যভাবে ভাঙা উচিত ছিল। কিন্তু ওই গোলটি বৈধ ছিল। এটা বাতিল করা পুরোপুরি একটা তামাশা ছিল।”
পরে অবশ্য নাগেলসমান স্বীকার করে নেন, এই ম্যাচ হারের দায় জার্মানদেরই। তার মতে, টাইব্রেকার পর্যন্ত খেলা নেওয়ারই উচিত হয়নি তাদের।
“তবে দিন শেষে, যদি সংক্ষেপে বলি, এত এত দল নিয়ে এত বড় একটি প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ থেকেই যদি আমাদের বিদায় নিতে হয়, তাহলে এটা স্পষ্টভাবেই জার্মান ফুটবলের জন্য যথেষ্ট নয়।”
২০১৪ সালে চতুর্থ বিশ্বকাপ জেতা জার্মানি পরের দুই আসরে গ্রুপ পর্বই পার করতে পারেনি। নাগেলসমানের কোচিংয়ে এবার তারা সেই বাধা অতিক্রম করতে পারলেও, ফের শেষ ষোলোর আগে বিদায় নিয়েছে।
মূল ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে জার্মানিকে সমতায় ফেরান কাই হাভার্টজ। সেই তিনিই পরে টাইব্রেকারে বল জালে পাঠাতে পারেননি। তার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন হিল। জার্মানির চতুর্থ শট নিতে আসা নক ভল্টেমাডার শটও ঝাঁপিয়ে ঠেকান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। এরপর সাডেন ডেথে উড়িয়ে মারেন টাহ। পরে জালে বল পাঠিয়ে দলকে উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেন কানালে।
হারের দায় নিজেদের কাঁধে নেওয়া নাগেলসমান পেনাল্টি শুট নেওয়া খেলোয়াড়দের দোষ দেখছেন না মোটেও। তার মতে, ফুটবলে এসব মিস হয়েই থাকে।
“পেনাল্টি শুট নেওয়া খেলোয়াড়দের আমি দোষারোপ করছি না। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের দলে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা শুট নেওয়ার জন্য নিজে থেকে এগিয়ে এসেছে। এমনকি গ্রেট ফুটবলাররাও পেনাল্টি মিস করেছেন, যেমনটা আজকে হলো। শেষ পর্যন্ত, পেনাল্টি হলো ভেতরের বিশাল সমস্যার সামান্য অংশ মাত্র।”