Published : 18 Jul 2026, 09:00 PM
বয়সের ঘরে সংখ্যাটা ৩০ ছুঁতেই এখনও বেশ দেরি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ক্যারিয়ার কেবলই পাঁচ বছরের। যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারে এটাই সেরা সময় ধরা হয়। কিন্তু মার্ক কুকুরেইয়া এখনই জাতীয় দলের পাঠ চুকানোর ভাবনা শুরু করে দিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলেই দেশের হয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন এই তারকা ডিফেন্ডার।
২০২৪ সালে স্পেনের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই লেফট-ব্যাক এখন ক্যারিয়ারে প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্নে বিভোর। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
চলতি বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রতিটি ম্যাচের পুরোটা সময় খেলেছেন কুকুরেইয়া। গ্রুপ পর্বে একটি ও শেষ বত্রিশে দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। আর, এই আসরে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে স্পেন যে কেবল একটি গোল হজম করেছে, এতে কুকুরেইয়াসহ তার রক্ষণভাগের সতীর্থদের দুর্দান্ত সামর্থ্যেরই প্রমাণ মেলে।
দুই বছর আগে মহাদেশ সেরা ট্রফির জয়ের অভিযানেও কুকুরেইয়া ছিলেন দারুণ ছন্দে, ফাইনালে পুরোটা সময়সহ দলের প্রতিটি ম্যাচেই খেলেন তিনি।
তাই কুকুরেইয়ার মনে ধারণা জন্মেছে, এবার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে জাতীয় দলের হয়ে তার অর্জনের আর কিছু বাকি থাকবে না।
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-কে কুকুরেইয়া বলেছেন, “আমরা যদি বিশ্বকাপ জিততে পারি, পরদিন আমি লুইসকে (স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে) ফোন করে বলে দেব, যেন আমাকে দল গঠনে বিবেচনায় না রাখেন। জানাব যে, জাতীয় দল থেকে আমি অবসর নিচ্ছি।
একটা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও একটা বিশ্বকাপ জয়ের পর, আমি এর চেয়ে ভালো কিছু আর করতে পারব না।”
বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই চেলসি ছেড়ে রেয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন কুকুরেইয়া। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ৩১ ম্যাচ।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় অনড় থাকলে, আসছে ম্যাচেই হয়তো স্পেনের জার্সিতে শেষবার দেখা যাবে ২৭ বছর বয়সী কুকুরেইয়াকে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০ জুলাই ১টায় (এএম) শুরু হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনার শিরোপা লড়াই।
বিশ্বকাপ জিততে পারলে, কোচকে শ্রদ্ধা জানাতে তিনি করতে চান আরেকটি কাজ। শরীরে আঁকতে চান বিশেষ এক ট্যাটু।
“যদি আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারি, তাহলে আমার বাইসেপে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখচ্ছবি ট্যাটু করব।”
দুই বছর আগে দে লা ফুয়েন্তের কোচিংয়েই ইউরো জয় করে স্পেন।