Published : 20 Jun 2026, 08:54 PM
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধের তিন গোলে জিতেছে ব্রাজিল। ওই এক অর্ধের পারফরম্যান্স দিয়ে, কার্লো আনচেলত্তি দলের সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন, তা বলা কঠিন। তবে, মরক্কো ম্যাচের বিবর্ণতা ঝেড়ে ফেলে, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতার রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা কোন পথে ছুটবে, তার একটা ধারণা অন্তত পেয়েছে সমর্থকরা।
প্রথম ম্যাচের মলিনতায়, যারা কোচের কৌশল ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিলেন চরম হতাশাগ্রস্ত ও সন্দিহান, তারা এখন নতুন আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছে।
হাইতি সেই অর্থে যদিও শক্তিশালী দল নয়। তাছাড়া, রক্ষণ ছেড়ে তেড়েফুঁড়ে উপরে উঠে খেলার প্রবণতাও তাদের যথেষ্ট। ব্রাজিল তাই খেলার জন্য ফাঁকা জায়গা পেয়েছে পর্যাপ্ত। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনায়াসে প্রথমার্ধেই গোল তুলে নেন মাতেউস কুইয়া, ভিনিসিউস জুনিয়র। কুইয়া করেন জোড়া গোল।
কুইয়ার সেরা একাদশে ফেরা ভারসাম্য ফিরিয়েছে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে এই পজিশনে ইগো চিয়াগোকে খেলান আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নামান লুইস এইহিকেকে। কাজের কাজ হয়নি কিছুই। ম্যাচটি ১-১ ড্র করে ‘সি’ গ্রুপে যাত্রা শুরু করে আনচেলত্তির দল।
এবার কুইয়া আলো ছড়ানোয়, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে ব্রাজিল।
এই ম্যাচে মাঝমাঠেও কিছু ঝলক দেখিয়েছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে ভীষণ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন লুকাস পাকেতা। হাইতির বিপক্ষে তাকে দেখা গেছে সাচ্ছ্বন্দ্য নিয়ে ছোটাছুটি করতে, ভিনিসিউস ও কুইয়াকে প্রয়োজনীয় বলের যোগানটুকু দিতে।
পাকেতার পদক্ষেপগুলোয় অবশ্য ছিল সতর্কভাব, তবে কুইয়া ছুটেছেন ক্লান্তিহীন। দীর্ঘদিন ধরে সতীর্থদের কাছ থেকে যে সহযোগিতাটুকু পাচ্ছিলেন না ভিনিসিউস, এ ম্যাচে সেটাও পেয়েছেন তিনি। ফলে, ব্রাজিলের গোলগুলো এসেছে এই দুজনের কাছ থেকে।
বাম প্রান্ত দিয়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সংযোগের সহজাত রসায়ন, কুইয়া জমিয়ে তুলেছিলেন ভিনিসিউস ও পাকেতার সঙ্গে। নেইমার চোটাক্রান্ত হওয়ার পর থেকে এই জায়গায় খামতি ছিল এতদিন, সেটাও পূরণের ইঙ্গিত মিলেছে প্রবলভাবে।
তবে, আনচেলত্তির আকাশ থেকে দুর্ভাবনার মেঘ পুরোপুরি সরেনি এখনও। টানা দুই ম্যাচে কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি রাফিনিয়া। পায়ের পাতার চোটের কারণে, সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলন করতে না পারা এই ফরোয়ার্ড খেললেও ধারাল ছিলেন না। অস্বস্তি বোধ করায় প্রথমার্ধেই তাকে তুলে নেন ব্রাজিল কোচ।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কাসেমিরোকে নিয়েও। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে, ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার মানিয়ে নিতে পারবেন তো? তবে, মাঝমাঠের ডান দিকটা ব্রুনো গিমারেস সামলাচ্ছেন দারুণভাবে। মাঝমাঠ আগলে রাখার পাশাপাশি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডেরও দেখভাল করতে, তাকে নিচে নামিয়ে আনার প্রয়োজন পড়ছে ব্রাজিলের।
আবার, রাফিনিয়ার বদলি নেমে রায়ান থিতু হতে পারেননি এখনও। সেক্ষেত্রে, রাফিনিয়া স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কিংবা সামনের ম্যাচগুলোতে খেলতে না পারলে, আনচেলত্তিকে ভরসা রাখতে হবে এইহিকের ওপর, নয়তো শুরুতে তুলে আনতে হবে তরুণ এন্দ্রিককে।
সব মিলিয়ে, খুব একটা স্বস্তির সুবাতাস বইছে না ব্রাজিলের তাঁবুতে। তবে, ড্রয়ের ধাক্কা সামলে, হাইতিকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে, পরের ধাপে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরাল হয়েছে। সেই সঙ্গে একটু হলেও ইঙ্গিত মিলছে, আনচেলত্তির দলের চেনা পথে ফেরার।