Published : 30 Jun 2026, 05:13 PM
বিশ্বকাপের আগে আর্সেনালের হয়ে জিতেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রানার্স-আপ; তবে বিশ্ব মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা যেন মার্টিন ওদেগোরের বিগত সব প্রাপ্তিকে ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারায় স্বপ্ন সত্যি হওয়ার অনুভূতি পাচ্ছেন নরওয়ের অধিনায়ক। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আসছে ম্যাচটিকে ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত মনে করছেন তিনি।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে নরওয়ের ঘরোয়া শীর্ষ লিগে ক্যারিয়ার শুরু করা ওদেগোরের হাত ধরে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নরওয়ে। এরপর গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে তারা নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে খেলা।
শেষ বত্রিশে মঙ্গলবার রাতে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। আফ্রিকার দলটির বিপক্ষে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন ওদেগোর।
নরওয়ের টিভিটু এর সঙ্গে কথা বলার সময় বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতি তুলে ধরেন ওদেগোর। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, আজকের এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে ছোটবেলার ওদেগোরকে কী বলবেন?
তখন হাসিমুখে ২৭ বছর বয়সী এই তারকা মিডফিল্ডার বলেন, “আমি বলতাম যে, এটা অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার! বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন পূরণ করাটা সত্যিই চমৎকার, এটা বিশাল এবং দারুণ এক অনুভূতি।”
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে নরওয়ের এই প্রত্যাবর্তন এবং আর্লিং হলান্ড ও ওদেগোরদের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স পুরো দেশকে ফুটবল উন্মাদনায় ভাসিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, গ্যালারিতে তাদের সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ (নৌকা বাইচ) উদযাপন এবারের বিশ্বকাপের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভক্তদের এই সমর্থনের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ওদেগোর ও পুরো নরওয়ে দল।
“আমাদের প্রতি আপনাদের এই অকুণ্ঠ সমর্থন, ভালোবাসা আর ইতিবাচক মনোভাবের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি আপনাদের উদযাপন করার এবং উল্লাস করার আরও সুযোগ এনে দিতে পারব। আমরা নিজেরাও উপভোগ করতে পারব। সব ধরনের সমর্থনের জন্য আপনাদেরকে সত্যিই ধন্যবাদ।”
নকআউট পর্বের ম্যাচের জন্য দলের মূল খেলোয়াড়দের সতেজ রাখতে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে শুরুর একাদশ ঢেলে সাজান নরওয়ে কোচ স্তল সুলবাকেন। বিশ্রাম পেয়ে এখন ফুরফুরে মেজাজে আছেন হলান্ড, ওদেগোররা।
সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে খেলা নিশ্চিত করার পর ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন করেন ওদেগোররাও। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে তেমন কিছু আবারও করার আশায় আছেন তারা।
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটির স্বপ্ন দেখেছি-বিশ্বকাপের মূল পর্বে এমন একটি বড় ম্যাচ খেলা, যেখানে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। এটা আমাদের জন্য বিশাল ব্যাপার।”