Published : 16 Jun 2026, 01:40 PM
যে দেশে তার শেকড়, সেই তিউনিসিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলটি করে উদযাপন করেননি ইয়াসিন আয়ারি। তবে ম্যাচের শেষ দিকে দ্বিতীয়বার জালের দেখা পেয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি সুইডেনের মিডফিল্ডার। ‘বিশেষ ম্যাচে’ মিশ্র অনুভূতি খেলে গেছে তার মনে। তবে শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেই খুশি তিনি।
মন্তেরেই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে দেয় সুইডেন। একপেশে লড়াইয়ে ৫-১ গোলের বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে তারা। যেখানে জোড়া গোল করে অবদান রাখেন ২২ বছর বয়সী আয়ারি।
আয়ারির বাবা আজ্জুজের জন্ম তিউনিসিয়ায়। তার মা আবার মরক্কোন। সুইডেনে জন্মগ্রহণ করা আয়ারির সামনে সুযোগ ছিল ২০২২ বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু সেটা ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে সুইডেনের জার্সিতেই খেলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এবার জোড়া গোল করে দারুণভাবে বৈশ্বিক আসরে নিজের অভিষেক রাঙালেন এই ফুটবলার।
তিউনিসিয়ার বিপক্ষে খেলাটা আয়ারির জন্য সহজ ছিল না। মনে আবেগের জোয়ার বয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত নিজেকে স্থির রেখে সেরাটা দিতে পেরে খুশি তিনি।
“তিউনিসিয়ার বিপক্ষে খেলাটা আমার জন্য ভীষণ আবেগপূর্ণ ছিল, যে দেশটির প্রতি আমার গভীর টান রয়েছে। সবাই জানেন, আমার বাবা ওখানকার মানুষ, আমি অনেক গ্রীষ্ম সেখানে কাটিয়েছি এবং আমার পরিবারের অনেক সদস্য সেখানে থাকেন। কিন্তু এখন আমি সুইডেনের হয়ে খেলছি এবং এই দলের জন্য আমাকে সেরাটাই দিতে হবে।”
“সবাই জানেন, আমার শেকড় সেখানে (তিউনিসিয়া)। এটা আমার জন্য বিশেষ ম্যাচ ছিল। তিউনিসিয়ার জন্য আমার আবেগ অনেক, তবে আমরা (সুইডেন) জিততে পেরে খুশি।”
সেদিন ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন আয়ারি। ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো ভলিতে জাল খুঁজে নেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তার সতীর্থরা এবং গ্যালারিতে থাকা সুইডেনের দর্শকরা। বিশ্বকাপে সুইডেনের সর্বকনিষ্ট গোলদাতার রেকর্ড গড়েও তখন উদযাপন করা থেকে বিরত থাকেন আয়ারি (২২ বছর ২৫১ দিন)।
ম্যাচের শেষ গোলটিও করেন আয়ারি। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আরেকটি গতিময় শটে পোস্ট ঘেঁষে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ওই সময় উল্লাস করার কারণও খোলাসা করলেন এই ফুটবলার।
“ওটা ছিল তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেক। এরপর কিছুটা আনন্দ করেছি। বিশ্বকাপে প্রতিদিন তো আর জোড়া গোল করা যায় না।”
চার বছর আগে যদি তিউনিসিয়াকে বেছে নিতেন আয়ারি, তাহলে এবার দৃশ্যপটটা ভিন্ন হতে পারত। জয়ী দলের নয়, তিনি অংশ থাকতেন হেরে যাওয়া দলের। তবে বিশ্বকাপের আগে সুইডিন পত্রিকা আফতনব্লাদেতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বাবা বলেন, আয়ারি সবসময় সুইডেনের হয়ে খেলতে অনড় ছিল, যারা কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
“আমার সন্তানরা সুইডেনে জন্মেছে। আমি চেয়েছিলাম সে সুইডেনের হয়েই খেলুক। তার এমন অনুভূতি হওয়া উচিত, যে দেশ তাকে এত কিছু দিয়েছে সেই দেশকে কিছু ফেরত দিতে পারছে।”
আয়ারির পরিবার স্টকহোমের ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আয়ারি ও তার ছোট ভাই তাহা, দুজনেই নিজেদের ক্যারিয়ার শুরু করেন এআইকে ক্লাবের হয়ে। আর তাদের মা আমিনা প্রায়ই স্ট্রবেরি অ্যারেনায়, যেখানে এআইকে ক্লাব ও সুইডেন জাতীয় দল তাদের হোম ম্যাচগুলো খেলে, সেখানে কাজ করেন।
বড় জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা সুইডেন এখন ‘এফ’ গ্রুপে শীর্ষে। আগামী শনিবার নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে তারা। আয়ারি বললেন, এখন পরের ম্যাচে পূর্ণ মনোযোগ তাদের।
“আমরা নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিয়েছি। আমরা ম্যাচটি খেলেছি, বাইরের কিছু নিয়ে ভাবিনি। এখন আমাদের লক্ষ্য পরের ম্যাচ, সেটায় পুরো মনোযোগ থাকবে।”