কানাডার আধিপত্যের মাঝে চকিত চমকে বেলজিয়ামের জয়

শুরুতে আলফুঁস ডেভিসের পেনাল্টি মিস কানাডার জন্য হয়ে রইল সবচেয়ে আক্ষেপ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Nov 2022, 07:55 PM
Updated : 23 Nov 2022, 07:55 PM

ম্যাচের শুরু থেকে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিল কানাডা। কাগজে-কলমের সব ব্যবধান ঘুচিয়ে পুরোটা সময় চাপ ধরে রাখল বেলজিয়ামের উপর। কিন্তু ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত খালি হাতে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের। আক্রমণের বিচারে দ্বিতীয় সেরা দল বেলজিয়াম এক মুহূর্তের জাদুতে পেয়ে গেল গোল। তুলে নিল কাঙ্ক্ষিত জয়।

কাতার বিশ্বকাপে অভিযান শুরুর ম্যাচে প্রায় পুরোটা ঘর সামলাতে ব্যস্ত থাকা বেলজিয়াম ১-০ গোলে জয় পেয়েছে। একমাত্র গোলটি করে তাদের জয়ের নায়ক মিচি বাতসুয়াই।

শক্তিতে দুই দলের মাঝে পার্থক্য অনেক, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৯ ধাপ এগিয়ে বেলজিয়াম। কিন্তু লড়াইটা যখন বিশ্ব সেরার মঞ্চে, তখন ওসব সংখ্যার হিসেবে যেন কিছু যায় আসে না।

অন্তত ম্যাচের শুরু থেকে আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় সেটাই যে ফুটে উঠল। আসরে শিরোপার দাবিদারদের একটি, র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর বেলজিয়ামের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়াল কানাডা। বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে একাধিপত্য করল তারা।

দশম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত তারা। ডি-বক্সে হাত দিয়ে বল ছুঁয়ে হলুদ কার্ড দেখেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার ইয়ানিক কারাসকো। পেনাল্টিও পেয়ে যায় কানাডা। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় তারকা আলফুঁস ডেভিস নেন দুর্বল শট, ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।

শুরুর বিবর্ণতা কাটিয়ে ২২তম মিনিটে ভালো একটি আক্রমণ শাণায় বেলজিয়াম। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে এদেন আজার প্রতিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলে ডি-বক্সে খুঁজে নেন ইউরি তিলেমান্সকে। তার পাস ধরে শট নেন বাতসুয়াই। দারুণ ট্যাকলে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান ডিফেন্ডার কামাল মিলার।

ওই আক্রমণে বেলজিয়ানদের ছন্দ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও আদৌতে তা হয়নি। বরং প্রতিপক্ষের আগ্রাসী ফুটবলে ঘর সামলাতেই ব্যস্ত সময় কাটে তাদের।

প্রথমার্ধে কানাডার দাপট কতটা ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরিসংখ্যানে। ৪৪ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশে ১৪টি শট নেয় তারা, বিপরীতে বেলজিয়ামের মাত্র চারটি। লক্ষ্যে অবশ্য থাকে দুই দলেরই সমান দুটি করে।

তেমনি এক শটে ৪৪তম মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। মাঝমাঠের অনেক আগে থেকে উঁচু করে থ্রু বল বাড়ান টবি আল্ডারভাইরেল্ড, আর প্রতিপক্ষের দুজনের মধ্যে দিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোলটি করেন ফেনেরবাচের ফরোয়ার্ড বাতসুয়াই।

দুই মিনিট পরই আরেকটি দুর্দান্ত আক্রমণে বেলজিয়ান রক্ষণকে স্তব্ধ করে দেয় কানাডা। কিন্তু নিজেদের ভুলেই সমতায় ফিরতে পারেনি তারা। সতীর্থের ক্রস ছয় গজ বক্সের বাইরে অবিশ্বাস্যভাবে উড়িয়ে মারেন তাহোন বিউকানান।

বিরতির পরও একই ধারায় শুরু হয় খেলা। ৪৮তম মিনিটে কানাডার আরেকটি আক্রমণ। এবার দারুণ পজিশনে বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড করেন ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। ৬৬ ও ৬৮তম মিনিটে দারুণ দুটি পাল্টা আক্রমণ করে বেলজিয়াম; কিন্তু অসাধারণ দুটি ট্যাকলে তাদের শট নিতেই দেয়নি কানাডা।

শক্তিশালী প্রতিপক্ষের ওই দুই আক্রমণের চেষ্টা রুখে দেওয়ার পর আবারও মাঠে কানাডার আধিপত্য। কিন্তু আসল কাজটাই করতে পারল না তারা, স্কোরলাইনে পিছিয়েই রইল।

৮০তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ পায় দলটি। এ যাত্রায় ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রস বিপজ্জনক জায়গায় পেয়ে কাইল ল্যারিন লক্ষ্যে হেড রাখলেন ঠিকই; কিন্তু যথেষ্ঠ গতিতে পারলেন না। কোর্তোয়ারও ঝাঁপিয়ে ঠেকাতে বেগ পেতে হলো না।

বাকি সময়েও উল্লেখযোগ্য কিছু করে দেখাতে পারল না বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেবল দ্বিতীয়বার খেলার সুযোগ পাওয়া কানাডা। উজ্জীবিত ফুটবল খেলেও তাই পেল না বৈশ্বিক আসরে প্রথম জয়ের স্বাদ।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরেছিল তারা। তবে তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়ামের বিপক্ষে এমন দাপুটে ফুটবলের পর সামনের দুই ম্যাচে দারুণ কিছুর আশা করতেই পারে জন হার্ডম্যানের দল।

আর বেলজিয়ামের জন্য ম্যাচটি হতে পারে সতর্ক সংকেত। বিশ্বকাপ শুরুর ২ দিন আগে মিশরের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর কোচ রবের্তো মার্তিনেস তেমনটাই বলেছিলেন। তারপরও তার দল পারেনি সেভাবে জেগে উঠতে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক