৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ইউনাইটেডকে ধরাশায়ী করে চেলসির জয়োল্লাস

সেই সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৩৮ বছরের পুরনো হতাশা ফিরল নতুন করে।

ইউনাইটেডকে ধরাশায়ী করে চেলসির জয়োল্লাস

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলকে এগিয়ে নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে মর্গ্যান রজার্সের (বাঁয়ে) উদযাপন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 08:32 PM

Updated : 31 Oct 2026, 08:48 PM

ব্যর্থতার গণ্ডি থেকে বের হতে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর, উল্টো ১০ জনের দলে পরিণত হলো তারা। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানোর পথ পেল না দলটি। অধিকাংশ সময় আধিপত্য করে দারুণ এক জয় তুলে নিল চেলসি।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। মর্গ্যান রজার্স দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, স্পট কিকে ব্যবধান বাড়ান কোল পামার।

প্রথমার্ধে লড়াই হয় বেশ, গোলের জন্য এই সময়ে বেশি শট নেয় ইউনাইটেড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলে তারা। লিসান্দ্রো মার্তিনেস বহিষ্কার হওয়ায় শেষের আধা ঘণ্টা একজন কম নিয়ে খেলতে হয় দলটিকে।

মাঠে চেলসির প্রভাবের চিত্র ফুটে উঠছে অন্যান্য পরিসংখ্যানেও। ৫৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৮ শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে শাবি আলোন্সোর দল। আর শেষ দিকে আবার কিছুটা চাপ বাড়ানো ইউনাইটেড ১২ শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।

গত মৌসুমে লিগে দুইবারের মুখোমুখি লড়াইয়েই জয় পায় ইউনাইটেড। এবার আর সেই ধারা ধরে রাখতে পারল না তারা। উল্টো ব্যর্থ পথচলায় ফিরিয়ে আনল ৩৮ বছরের পুরনো এক হতাশা।

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ জয়শূন্য রইল দলটি, সবশেষ তাদের এমন তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৯৮৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে।

এই জয়ে লিগ টেবিলে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে চেলসির।

৯ ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে চেলসি।

সমান ম্যাচে চতুর্থ হারের পর, ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে মাইকেল ক্যারিকের দল।

এবারের প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে ১৫ মিনিটেই জালে বল পাঠান এস্তেভোঁ। পেদ্রো নেতোর শট গোলরক্ষক আটকানোর পর, কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন এস্তেভোঁ; কিন্তু এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নিজেই অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ধীরে ধীরে আক্রমণে চাপ বাড়ায় ইউনাইটেড। ৩৪তম মিনিটে জালে বলও জড়ায় তারা, কিন্তু একইরকম তেতো অভিজ্ঞতা হয় দলটির। কর্নারে হ্যারি ম্যাগুইয়ারের হেড পাস গোলমুখে পেয়ে হেডেই ঠিকানা খুঁজে নেন মাতেউস কুইয়া, এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড অফসাইডে ছিলেন।

প্রথমার্ধের শেষ কয়েক মিনিটে জমে ওঠে লড়াই, দারুণ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়, যদিও ডেডলক খোলেনি।

৪২তম মিনিটে ফোফানার হেডে বল মোইসে কাইসেদোর পেটে লেগে পোস্টে বাধা পায়। পরের মিনিটে দারুণ পাল্টা আক্রমণে ওয়ান-অন-ওয়ানে ফোফানাকে কাটিয়ে, ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পান আমাদ দিয়ালো; কিন্তু উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন তিনি।

এর পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ভীতি ছড়ায় চেলসি। কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে পেদ্রো নেতোর শটও দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দারুণ গোলে চেলসিকে এগিয়ে দেন রজার্স। মাঝমাঠের কাছে সতীর্থের পাস পেয়ে ছুটে যান তিনি, এবং একজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আরেকজনের চ্যালেঞ্জ সামলে চিপ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইংলিশ উইঙ্গার।

৯ মিনিট পর আবার ইউনাইটেডের রক্ষণে ভীতি ছড়ান রজার্স। একাধিক খেলোয়াড়ের বাধা সামলে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকার মুখে তাকে ফাউল করে আটকান লিসান্দ্রো মার্তিনেস।

এর কিছুক্ষণ পরই জোড়া ধাক্কায় পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। ডি-বক্সে ছুটে গিয়ে ফোফানাকে বাজেভাবে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন সেন্টার-ব্যাক মার্তিনেস, একই সঙ্গে পেনাল্টিও পায় চেলসি। সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পামার।

৭২তম মিনিটে দারুণ শটে আবারও জালে বল পাঠান এস্তেভোঁ, কিন্তু আরও একবার অফসাইডে থাকায় হতাশায় পোড়েন তিনি।

ব্যবধান না বাড়লেও, বাকি সময়ে জয় নিয়ে অবশ্য তেমন ভাবতে হয়নি চেলসিকে।

১০ মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লড়াইয়ে প্রাণ ফিরতে পারতো; কিন্তু ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডের বুলেট গতির ভলি ক্রসবারে আঘাত করে। এরপর আর তেমন কিছু করতে পারেনি তারা।