ভণ্ডামি বন্ধ করে ইউরোপকে ক্ষমা চাইতে বললেন ফিফা প্রধান

বিশ্বব্যাপী ইউরোপিয়ানরা গত ৩ হাজার বছর ধরে যা করেছে, তার জন্য পরবর্তী ৩ হাজার বছর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Nov 2022, 12:35 PM
Updated : 19 Nov 2022, 12:35 PM

কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে নানামুখী সমালোচনায় ক্ষুব্ধ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কাতারের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রতিবেদনকে ইউরোপিয়ানদের ‘ভন্ডামি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে কথা বলার আগে ইউরোপিয়ানদের নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন ফিফা প্রধান। 

কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। শুরুতে দেশটির গরম আবহাওয়া এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মৌসুমের মাঝামাঝি বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে হয় কড়া সমালোচনা। 

পরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয় দেশটির মানবাধিকার রেকর্ড, অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের ‘অমানবিক আচরণ’ এবং দেশটির আইনে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরার মতো বিষয়গুলো।  

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘দা গার্ডিয়ান’ এক প্রতিবেদনে জানায়, কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর দেশটিতে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অন্তত সাড়ে ৬ হাজার অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন শনিবার দোহায় সংবাদ সম্মেলনে প্রায় এক ঘন্টা কথা বলেন ইনফান্তিনো। সেখানেই কাতারের সমালোচকদের এক হাত নিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। 

“কিছু ইউরোপিয়ানদের কাছ থেকে, কিছু পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আমাদের অনেক শিক্ষা নিতে বলা হয়েছে। আমি নিজে ইউরোপিয়ান। আমার মনে হয়, বিশ্বব্যাপী আমরা ইউরোপিয়ানরা গত ৩ হাজার বছর ধরে যা করে আসছি, কাউকে নৈতিক উপদেশ দেওয়ার আগে সেগুলোর জন্য পরবর্তী ৩ হাজার বছর আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।” 

“ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো কাতার বা এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে মিলিয়ন মিলিয়ন...প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন আয় করে। তাদের মধ্যে কয়টি কোম্পানি কাতারে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে?  আমার কাছে উত্তর আছে, কেউই কথা বলেনি। কারণ, আইন পরিবর্তন করলে তাদের লাভ কম হতো। তবে আমরা (ফিফা) করেছি। ফিফা কিন্তু কাতার থেকে এই কোম্পানিগুলির যে কোনোটির চেয়ে অনেক অনেক কম লাভ করেছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক