০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রোনালদো আজীবন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে থাকবে: ফের্নান্দ্‌স

মহাতারকাকে নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রভাব পর্তুগিজ ফুটবলে পড়াটা কাম্য নয় বলে মনে করেন ব্রুনো ফের্নান্দ্‌স।

রোনালদো আজীবন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে থাকবে: ফের্নান্দ্‌স

ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রুনো ফের্নান্দস (বাঁয়ে) ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 06:56 PM

Updated : 04 Oct 2026, 07:54 PM

হঠাৎ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ায় বিতর্ক চরমে উঠেছে, সমালোচকরাও উঠেপড়ে লেগেছেন। বর্তমান পর্তুগাল দলে রোনালদোর প্রয়োজন ফুরিয়েছে, আছে এমন দাবিও। দলটির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দ্‌স সেই আলোচনায় না ঢুকে, তিনি বরং মহাতারকার প্রতি কেবল শ্রদ্ধা জানালেন।

চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে মোট চারটি ম্যাচ পর্তুগালের, ইতোমধ্যে এর তিনটি খেলে ফেলেছে তারা। সবগুলো ম্যাচই উয়েফা নেশন্স লিগের।

ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে আসর শুরুর ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন রোনালদো; কিন্তু সেদিন একাধিক সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। পরের ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচের পুরোটা সময় বেঞ্চে কেটে যায় তার এবং এরপরই পর্তুগিজ ফুটবলের সময়ের সবচেয়ে আলোচিত সমস্যার শুরু।

ওই ম্যাচের পরের দু্ই দিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি রোনালদো। কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবরও আসতে থাকে। এর মাঝে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন গত বুধবার পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড ১৪৬টি গোল করা মহাতারকা।

পরে তিনি জানান, সময় হলেই কারণ ব্যাখ্যা করবেন তিনি, তাতে সেইসব গুঞ্জন আরেকটু জোরাল হয়।

বিতর্ক চলার মাঝেই রোববার নরওয়ের বিপক্ষে ফিরতি লেগে মাঠে নামবে পর্তুগাল। পোর্তোয় বাংলাদেশ সময় রোববার রাত পৌনে একটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল রোনালদো প্রসঙ্গে। নানা প্রশ্নের ফাঁকে তার জাতীয় দল ও ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এক সময়ের সতীর্থ ফের্নান্দ্‌সও সময় নিয়ে নিজের ভাবনা জানালেন। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, দেশের জন্য রোনালদো যা কিছু করেছেন, তা নিয়ে কোনোরকম প্রশ্নের অবকাশ নেই।

সেই সঙ্গে নিজেদের করণীয় কী, সতীর্থদের উদ্দেশ্যে সেটাও পরিষ্কার করে দিলেন ফের্নান্দ্‌স।

“আমরা জানি, কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। আমাদের দলে এখন এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে খেলোয়াড়দের কোনো করণীয় নেই এবং আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো কাঙ্ক্ষিত ফল দেওয়া।”

রোনালদোর সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ফের্নান্দ্‌স আরও বলেন, “ক্রিসের সঙ্গে আমরা আলাপ হয়েছে। তাকে আমি বলেছি যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যা কিছু হয়েছে সবকিছুর পরেও তিনিই আমাদের জাতীয় দল ও দেশের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে থাকবেন, পর্তুগালে ও সারা বিশ্বে তিনি যা কিছু অর্জন করেছেন সেই জন্য।

“ফুটবলের ইতিহাসের সেরাদের মধ্যেই কেবল তার জায়গা নিশ্চিত হয়ে যায়নি, বরং পর্তুগালের সব মানুষের মনেও তিনি জায়গা করে নিয়েছেন।”

রোনালদোকে নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক যেভাবে ক্রমেই বাড়ছে, এবং পর্তুগিজ ফুটবলে প্রভাব ফেলছে, সেটা কাম্য নয় বলেও মনে করেন ফের্নান্দ্‌স।

“আমরা আমাদের বিভক্ত করতে পারি না; পুরো জাতীয় দল এক আছে এবং সব পক্ষের তাদের ভেতরের ইস্যুগুলো দরজার আড়ালেই মীমাংসা করা উচিত। আমার মতে, এভাবেই এটা হবে এবং এভাবে উভয় পক্ষেই সমস্যাটা ভালোভাবে মিটবে।”

পরে আবার রোনালদোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ফের্নান্দ্‌স বলেন, “ক্রিস চিরজীবন আমাদের জাতীয় দল ও ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইকন হয়ে থাকবেন। তাকে কে বেশি পছন্দ করে বা কে কম করে, সেটা কোনো তর্কের বিষয় নয়, তিনি পর্তুগালের সবার সম্মান পাওয়ার যোগ্য।”