জয়ের গান দিয়ে বিতর্কের কোলাহল ছাপিয়ে যেতে চায় ম্যান সিটি
লিভারপুলকে উড়িয়ে দেওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির কোাচ এন্টসো মারেস্কা বললেন, এভাবেই মাঠের ফুটবলে আওয়াজ তুলে মাঠের বাইরের বিতর্ক চাপা দিতে হবে।
দুয়ো, চিৎকার, ব্যঙ্গ- ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টায় সবই ভেসে এলো গ্যালারি থেকে। কখনও কখনও সেই গর্জনে কানে তালা লেগে যাওয়ার অবস্থা। মাঠের বাইরে বিতর্কে জেরবার ম্যানচেস্টার সিটিকে মাঠের ভেতরেও মানসিকভাবে কাবু করতে চেষ্টার কমতি ছিল না লিভারপুল সমর্থকদের। কিন্তু ক্রমেই মিইয়ে যেতে থাকল তা। লিভারপুলের মাঠে সিটির সমর্থকরা সংখ্যায় অনেক কম হলেও তাদের কণ্ঠ উচ্চকিত হতে থাকল। ম্যাচ শেষে তো সেই গুটিকয় সমর্থকদের গান ও স্লোগানেই মুখরিত হয়ে উঠল গোটা অ্যানফিল্ড। জয়ের চেয়ে বড় টনিক যে আর নেই!
আর্থিক অনিয়মের কেলেঙ্কারি নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে ঘিরে এখন ফুটবলীয় আলোচনা কমই। লিভারপুলের মাঠে প্রত্যাশিত বিরূপ প্রতিক্রিয়াই তারা পেয়েছে। তবে সেই স্রোত বদলে দিয়েছে তারা ফুটবলের জোয়ার দিয়েই। লিভারপুলকে ভাসিয়ে দিয়েছে ৩-০ গোলে।
ম্যাচ শেষ হতেই কোচ এন্টাসো মারেস্কা প্রবল আবেগে জড়িয়ে ধরেন তার কোচিং স্টাফদের। উদযাপনে মেতে ওঠেন গোটা দলের সঙ্গে। এরপর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে যান তিনি গ্যালারিতে থাকা সিটির সমর্থকদের কাছাকাছি। সেই সমর্থকদের গানের তালে তালে একাকার হয়ে উদযাপন করেন তারা গুরুত্বপূর্ণ জয়।
মাঠের বাইরের বিতর্কের এমন ঝড়ের মধ্যে মাঠের ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার কাজটি সহজ নয়। কঠিন সেই কাজটি করার পর উচ্ছ্বসিত মারেস্কা বললেন, বাইরের কোলাহলকে এভাবেই ছাপিয়ে যেতে হতে নিজেরা শোরগোল তুলে।
“বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই আমাদের শিখতে হবে বাইরের কোলাহলের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। এই কোলাহল সবসময়ই থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে, আমাদের নিজেদের আওয়াজ তোলার চেষ্টা করতে হবে, আর তা হলো ম্যাচ জেতা, যেমনটা আমরা আজ করেছি।
খেলার শেষে আমাদের সমর্থকেরা গান গাইছিল, তাই আওয়াজটা আমাদের পক্ষ থেকেই আসছিল, লিভারপুলের পক্ষ থেকে নয়!”
মারেস্কা অবশ্য ভালো করেই জানেন, এই বৈরিতা সহজে দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং অ্যানফিল্ডে রোববারের অভিজ্ঞতা থেকেই পরিস্কার, সামনের ম্যাচগুলোতেও কী অপেক্ষা করছে। আর্থিক-বিধি সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা দলটিকে প্রতিপক্ষের মাঠে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হতে হবে এখন নিয়মিতই।
লিভারপুলের বিপক্সে বড় জয়ে উজ্জীবিত মারেস্কা এজন্যই বললেন, জয়ের গান দিয়েই বিতর্কের চাপকে চাপা দিতে হব্
“আমার মনে হয় প্রতিপক্ষের মাঠে সব ম্যাচেই এই ধরনের আওয়াজ শুনতে হবে আমাদের। এ কারণেই বলছি যে, এসব সামলানোর কৌশল শিখতে হবে এবং আমাদের নিজেদের কণ্ঠও উচ্চকিত করতে হবে। আমাদের আওয়াজ হলো, ম্যাচ শেষে কে গান গাইছে? এই মুহূর্তে এটাই আমাদের লক্ষ্য হতে হবে।”
ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান নির্বাহী, ক্লাবের ফুটবল পরিচালকসহ অনেক কর্তাই এ দিন লিভারপুলের মাঠে ছিলেন দলকে প্রেরণা জোগাতো। মারেস্কা বললেন, কঠিন সময়ে এভাবেই একতাবদ্ধ গোটা ক্লাব।
“আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। আমার মনে হয়, ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনা করে—লিভারপুলের মাঠে, অ্যানফিল্ডের মাঠে—ক্লাবের পক্ষ থেকে সবাই একসঙ্গে থাকাটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত। এই মুহূর্তে আমাদের এই একতাই প্রয়োজন।”
গত দুই সপ্তাহ ধরে বিতর্কের এমন জড়ের মধ্যেও ফুটবলাররা যেবাবে মাঠের কাজে মনোনিবেশ করেছে, সেটির প্রশংসাও করলেন তিনি।
“গত দুই সপ্তাহের পর ফুটবলারদের জন্য এই ম্যাচ সহজ ছিল না। আমার মনে হয়, তারা পুরো পরিস্থিতিটা খুব ভালোভাবে সামলেছে।
“এই মুহূর্তে পুরো দলের জন্র আজকের মতো একটি জয় প্রয়োজন ছিল। এটা আমাদের কোচিং স্টাফদের জন্য ভালো। এটা খেলোয়াড়দের জন্য ভালো। এটা সমর্থকদের জন্যও ভালো। এটা সংস্থার জন্যও ভালো।”
আর্থিক অনিয়মের ব্যাপারগুলো নিয়ে অবশ্য কথা বলতে চাইলেন না সিটি কোচ।
“আমি এখানে এসেছি ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং ম্যাচ জিততে। আমি অনেকবার বলেছি, আশা করি, আমরা আপিলে জিতলে এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে পারব।”
বিতর্ক আর সমালোচনার মধ্যেও ছয় ম্যাচের সবকটিতে জিতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে সিটি। তাদের চেয়ে তিন পয়েন্ট পেছনে থেকে দুইয়ে আর্সেনাল।
