‘কলার বেলুনে’ ঠাসা গ্যালারি দেখার আশায় সিটি কোচ
কঠিন পরিস্থিতিতে ক্লাব, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংহতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন এন্টসো মারেস্কা।
ক্লাবের চলমান সংকটের মধ্যে সমর্থকদের আগের চেয়ে আরও বেশি করে পাশে চান ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এন্টসো মারেস্কা। ইপ্সউইচ টাউনের বিপক্ষে ঘরের মাঠের লড়াইয়ে ক্লাবের সংহতির প্রতীক হয়ে ওঠা কলার বেলুনে গ্যালারি ভরে উঠবে, এমনটা আশা করছেন তিনি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল ইপ্সউইচের মুখোমুখি হবে সিটি। বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় শুরু মাঠের লড়াই।
সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক আয় বাড়িয়ে এবং ব্যয় কম দেখানোর উদ্দেশ্যে ৯০ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের ‘ভুয়া’ বাণিজ্যিক চুক্তির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। পরে তদন্ত শেষে সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করে স্বাধীন কমিশন। শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে আসা সিটি এরই মধ্যে আপিল করেছে।
আর্থিক অনিয়মের কেলেঙ্কারির মাঝে ম্যানচেস্টার সিটিকে ঘিরে এখন ফুটবল নিয়ে আলোচনা কমই। তাদের দিকে প্রতিনিয়ত ছোঁড়া হচ্ছে সমালোচনার তির। বাইরের প্রবল চাপের মাঝে মাঠের খেলায় নিজেদের পথে রাখার চেষ্টা করছে ক্লাবটি।
লিগে এখনও কোনো ম্যাচ হারেনি সিটি। ছয় ম্যাচ খেলে শতভাগ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে শীর্ষে আছে তারা। সবশেষ লিগ ম্যাচেই যেমন অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা।
ওই ম্যাচে সিটি সমর্থকদের হাতে দেখা যায় কলার বেলুন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে এমনই এক প্রচলন ছিল। মাঠে দলের কঠিন সময়েও পরিবেশ হালকা রাখতে সিটির সমর্থকেরা ম্যাচের সময় এসব কলা নিয়ে যেতেন।
আরেকটি লিগ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মারেস্কা বলেন, ক্লাবের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার মুখে এই কলা হয়ে উঠেছে ঐক্যের এক জোরাল দৃশ্যমান প্রতীক।
“এটা খুব ভালো লাগছে। এই কলার পেছনের ইতিহাস আমি জানতাম না। তবে আশা করি, আগামীকাল স্টেডিয়ামে অনেক কলা দেখতে পাব। আমার মনে হয়, এটা সমর্থক ও স্টেডিয়ামে ৱসবার জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করে।
“হুবেন দিয়াস বলেছিল, মানুষ সিটির জয় দেখতে পছন্দ করে না, কিন্তু আমরা জিততে পছন্দ করি। আমার মনে হয়, সবার জন্য এটা ভালো একটা বার্তা। আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়, এই আলোচনা-সমালোচনা শুরু হওয়ার পর সমর্থক, ক্লাব ও দলের মধ্যে ঐক্য আরও বেড়েছে।”
মারেস্কা বলেন, তার সন্তানেরাও তার কাছে এমন কলা চেয়েছে।
“আমার চার সন্তান। ওরা এরই মধ্যে আমার কাছে কলা চেয়েছে। আগামীকাল তারা স্টেডিয়ামে থাকবে, দেখা যাক কী হয়।”
সিটির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশনের ওই মতামত আসার পর মারেস্কা যেন ক্লাবের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন। মাঠের বাইরের গুরুতর বিষয়টি নিয়ে অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। তবে ঠাণ্ডা মাথায় সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
“আমি অনেকবার বলেছি, বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করি না। কারণ, এটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি শুধু পরের ম্যাচ কীভাবে জেতা যায়, সেটিতেই মনোযোগ দিই।”
অ্যানফিল্ডে জয়ের পর বুধবার পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ৪-২ গোলে হেরে যায় সিটি। তবে মাঠ ও মাঠের বাইরের কঠিন পরিস্থিতি সবাই মিলে যেভাবে সামাল দিচ্ছেন তারা, তাতে ভীষণ সন্তুষ্ট মারেস্কা।
“আমি খুবই খুশি। ক্লাব, সমর্থক, পুরো দল; সবাই মিলে পরিস্থিতি বেশ ভালোভাবে সামাল দিয়েছি আমরা।
“তবে শনিবারের ম্যাচটিও তিন পয়েন্টের লড়াই, অ্যানফিল্ডের ম্যাচের মতো এই পয়েন্টও সমান মূল্যবান। তাই এখন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, একই ধারায় এগিয়ে যাওয়া এবং জেতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।”
