Published : 19 Jan 2026, 04:39 PM
চার বছর আগে দেশকে প্রথম মহাদেশ সেরার শিরোপার স্বাদ দিতে রেখেছিলেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা, হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। এবারও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আফ্রিকান নেশন্স কাপের মুকুট পুনরুদ্ধারে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন সাদিও মানে, আবার হলেন টুর্নামেন্ট সেরা। তবে, এবার কেবল ফুটবলের বিচারেই নয়, নেতিবাচক সব ঘটনায় ভরা মহানাটকীয় ফাইনালে দলের সম্মান পুনরুদ্ধারেও সত্যিকারের নেতা হয়ে উঠলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
দুই দলই অপরাজিত থেকে রোববার রাবাতের শিরোপা লড়াইয়ে নামে। তবে গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এবং ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা ও প্রেরণা থাকায়, ফাইনালের আগে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখা হচ্ছিল মরক্কোকে। তবে, মাঠের লড়াই শুরু হতে বদলে যেতে থাকে পেছনের ভাবনা।
দুই পক্ষের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই; কিন্তু প্রতিবার আক্রমণের শেষভাগে খেই হারানোয় স্বাগতিকরাই বরং কিছুটা পিছিয়ে ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা হয় আট মিনিট, এবং লড়াইও যেন নতুন মাত্রা পায়।
সেনেগালের ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লাগার পর, ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠান ইসমাইল সার; তবে গোল মেলেনি আগেই রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজানোয়। গেয়ি হেড করার আগে আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা মেরেছিলেন।
ধাক্কায় যদিও তেমন জোর ছিল না, তাই সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরের ঘটনায় রয়ছে এর প্রবল প্রভাব।
আট মিনিট যোগ করা সময়ের আর তিন মিনিটের মতো বাকি থাকতে কর্নার পায় মরক্কো, বল উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানেই ফাউলের শিকার হন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াস।
ঘটনা যাচাইয়ে মনিটরে নিজে দেখার সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। কিন্তু সাইডলাইনে তাকে ঘিরে ধরে সবাই, ভিড়ের মাঝেই কোনোভাবে তা পর্যালোচনা পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান তিনি, যা নিয়ে প্রবল আপত্তি তোলে সেনেগাল।
কয়েক মিনিটে আগে নিজেরা ‘গোলবঞ্চিত’ হওয়া আর এবার শেষ মুহূর্তে এভাবে পেনাল্টি হজম-কিছুতেই মানতেই পারছিল না সেনেগাল। ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে বিক্ষিপ্তভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকে দলটি। তাদের কোচ পাপ চাও খেলোয়াড়দের চলে আসতে ইশারা করেন। খানিক পর টানেল ধরে চলেও যায় তারা, রয়ে যান কেবল মানে।
লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক ফরোয়ার্ড শুরুতে যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কী করবেন? সময় নিয়ে, দলকে বুঝিয়ে মাঠে ফেরান তিনি।
প্রায় ১৪ মিনিট পর পুনরায় খেলা শুরু হয় এবং অবিশ্বাস্য রকমের বাজে স্পট কিক নেন ব্রাহিম দিয়াস। তার দুর্বল পানেনকা শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষব এদুয়াঁ মঁদি।
এরপর, অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় সেনেগাল। ৯৪তম মিনিটে ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল ধরে, ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে ব্যবধান গড়ে দেন পাপ গেয়ি।
মেজাজ হারিয়ে, কোচের ডাকে মাঠ ছেড়ে গিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হতো সেনেগালকে। নিশ্চিতভাবেই উঠত নিন্দার ঝড়। হয়তো শাস্তির খড়গও নেমে আসতো পারতো। ঠাণ্ডা মাথায় পুরো পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারেন কেবল মানে। তাই পুরো দল চলে গেলেও তিনি রয়ে যান, দলকে ফেরান এবং সত্যিকারের নেতার মতোই নেতৃত্ব দেন দলকে।
মাঠে সবকিছু ঘিরেই যখন ধোয়াশা, অনিশ্চয়তা চরমে, তখন মানে এগিয়ে যান সাবেক ফরাসি কোচ ক্লুদ লু রওয়া, যিনি কাজ করছিলেন ফ্রেন্স টেলিভিশনের সঙ্গে। তার কাছে নিজের করণীয় নিয়ে পরামর্শ চান ৩৩ বছর বয়সী তারকা।
পূর্বে সেনেগালকেও কোচিং করানো লু রওয়া কী বলেছিলেন, পরে তিনি নিজেই জানালেন।
“সাদিও এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে, তার জায়গায় আমি থাকলে কী করতাম এবং আস্তে করে তাকে বলি, “আমি তোমার সতীর্থদের ফিরে আসতে বলতাম।”
সেটাই করেন মানে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঠাণ্ডা মাধায় সামলান পরিস্থিতি।
দিন শেষে তাই তিনি কেবল দেশে ট্রফি ফেরানোর কাণ্ডারি নন, দেশের ও দলের মান বাঁচানোর মহানায়কও। সেমি-ফাইনালে জয়সূচক গোলসহ আসরে দুটি গোল করা তারকাকে এই মঞ্চে যাকে আর দেখা যাবে না কখনও। ম্যাচ শেষে পুনরায় সেটা নিশ্চিত করেন মানে।
“এটাই আমার শেষ আফ্রিকান নেশন্স কাপ কিনা? হ্যাঁ, আমার মনে হয়, আগেই আমি বলেছি যে, এখানেই আমি থামব। আমার মনে হয়, পরবর্তী প্রজন্ম প্রস্তুত, তারা পরের দায়িত্ব নেবে, আমি দ্বাদশ খেলোয়াড় (সমর্থক) হবো।”