এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপস
Published : 06 Nov 2025, 05:51 PM
এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপসের রিকার্ভ ইভেন্টে ফিলিস্তিন দলের চার জনের মধ্যে রাফা আহমেদ একমাত্র মেয়ে। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে তাকে দেখা গেল নিবিড় অনুশীলনে মগ্ন। চোখে সানগ্ল্যাস, মাথায় হ্যাট পরে তীর ছুঁড়ে চলেছেন তিনি। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে উড়ছে ফিলিস্তিনের পতাকা। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির এই আর্চার আসছে লড়াইয়ে নিজের লক্ষ্য ও বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা নিয়ে বললেন অনেক কথা।
জাতীয় স্টেডিয়াম ও আর্মি স্টেডিয়াম-এই দুই ভেন্যুতে শনিবার শুরু হবে এশিয়ান আর্চারির সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা। ইসরায়েলের আগ্রাসনে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের আর্চারদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে তাদের এই আসরে খেলার দুয়ার খুলে দিয়েছে আয়োজক বাংলাদেশ। এদেশের মানুষের আন্তরিকতা ছুঁয়ে গেছে রাফাকে।
“হ্যাঁ, এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছি এবং বিমানবন্দর থেকে শুরু করে এখানকার সবাই ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের স্বাগত জানিয়েছে। এমনকি, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসা পর্যন্ত সবাই ছিল ভীষণ আন্তরিক। আমাদের সবাই খুশি এবং সবাই আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে, সহযোগিতা করছে।”
খুশি থাকার মতো পরিস্থিতিতে আসলে নেই ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলের বোমায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে দেশটি। চারদিকে ধ্বংসস্তুপ, অনাহার আর আর্তনাদ। গাজা থেকে এলেও রাফা অবশ্য ফিলিস্তিনে থাকেন না। ওমানের মাসকটে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। চাকরির সুবাদে বর্তমানে থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তবে হৃদয়ে যে তার ফিলিস্তিন, সে কথা তিনি বললেন গর্বভরে।
“একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমরা জানি, ফিলিস্তিনের যত অ্যাথলেট আছে, দেশে কিংবা দেশের বাইরে, যারা ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করে…এটা আসলে এক ধরনের আবেগ। আপনি নিজের দেশে প্রস্তুতি নিতে পারছেন না, কিন্তু দেশের হয়ে খেলছেন। এই আবেগ অনেক বড় বিষয়।”
“আমাদের জন্য এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা আমার জন্য আসলেই খুবই আবেগের মহূর্ত যখন আমি এই ইউনিফর্মটা পরি, যখন তীর-ধনুক নিয়ে এই পতাকা বহন করি দেশের বাইরে-এটার অর্থ আমার কাছে অনেক কিছু। এটা সবসময় আমার সাথে থাকে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি খেলাটা উপভোগ করি, কিন্তু ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি কোনোভাবে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।”
রিকার্ভে মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ে এখনও অনেকটা পেছনে আছেন তিন বছর আগে আর্চারি শুরু করা রাফা; ৬৩৭তম। তবে লড়াইয়ে ভালো কিছুর আশায় আছেন তিনি।
“এখানে আমরা একটা দল হয়ে এসেছি। আমাদের আকাঙ্ক্ষা শুধু এখানে আসা নয়, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়, এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, ভালো পারফরম করা এবং লড়াই করে সেরাদের পেছনে ফেলার লক্ষ্য নিয়েই আমরা এসেছি।”
ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের প্রতি বাংলাদেশের সহমর্মিতা অজানা নয় রাফার। এ দেশের মানুষকে তিনি বাঁধলেন আন্তরিকতায়। বাংলাদেশের মানুষকে একদিন তিনি আতিথেয়তা দিতে চান ফিলিস্তিনের মাটিতে।
“একটা বিষয় বলতে ভালো লাগবে, একজন ফিলিস্তিনি হিসেবে আমরা জানি এবং অনুভব করি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন। যখন এখানে এসেছি, আমি অনুভব করতে পারছি, সবাই আমাদেরকে নিজেদের করে নিয়েছে। এমনকি যারা বাইরের মানুষ, তারাও আসছে, আমাদের সমর্থন করছে। এটা আমাদেরকে আপ্লুত করছে এবং আশা করি, একদিন ইনশাল্লাহ আমরা বাংলাদেশের মানুষকে ফিলিস্তিনে স্বাগত জানাব, সেখানে মিলিত হব।”