উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 06 Jun 2026, 03:33 PM
২০২৪ সালের ফাইনালে দূরপাল্লার শটে নেপালের জাল খুঁজে নিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। গোয়ার আসের আবারও তিনি শিরোনামে এলেন, নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে কর্নার থেকে সরাসরি গোল করে। যদিও ওই গোলটি ছিল বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ্য; তবে, ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের বৈতরণী বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার পার হতে চান দলীয় প্রচেষ্টায়। কেননা, ‘সুপারস্টার’ তত্ত্বেই বিশ্বাসী নন এই ইংলিশ কোচ।
পেরুর লিগে খেলা ভারতীয় ফরোয়ার্ড মনিষা কল্যাণও ফাইনালের আগে শিরোনামে। তার সাথে ঋতুপর্ণার তুলনায়ও চলছে। তবে, ভারত কোচ ক্রিসপিন ছেত্রিও দিলেন কৌশলী উত্তর। ঋতুপর্ণা, মনিষা বা চানু কীভাবে আগামী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে, সেটি তুলে ধরলেন তিনি। বললেন, ফাইনালে দুই দেশের এই দুই তারকার মধ্যে হবে দারুণ লড়াই।
গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। এ ম্যাচে সেমি-ফাইনালের মতো ঋতুপর্ণা অভাবনীয় গোল করবেন কিনা, এমন প্রশ্নে কাটখোট্টা উত্তর দেন বাটলার।
“আমার কাছে অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে ঋতুপর্ণা আলাদা করে বিশেষ কেউ নন। মারিয়া মান্দা কিংবা মিলি-আমি সবাইকে একইভাবে দেখি। আমি কোনো সুপারস্টার সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি না। দলের সবাইকে বিনয়ী থাকার এবং মাটিতে পা রাখার পরামর্শ দিই। আমরা ধাপে ধাপে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হই এবং চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করি। তবে সত্যি বলতে, আমি বিষয়টিকে ওইভাবে দেখি না।”
একই ধাঁচের প্রশ্নের মুখোমুখি হন ভারত কোচ ছেত্রি। অলিম্পিক গোল করা ঋতুপর্ণাকে আটকাতে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি করলেন কিছুটা রসিকতাও!
“(ঋতুপর্ণাকে আটকানোর) পরিকল্পনা অবশ্যই আছে, কিন্তু তা আমি এখানে ফাঁস করতে পারব না! তাহলে তো প্রতিপক্ষ দল সতর্ক হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, তাদের আটকানোর জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।”
পরে অবশ্য ঋতুপর্ণা, নেপালের সাবিত্রা ভান্ডারি, মনিষাদের মুল্যয়নে আগামী প্রজন্মের বেড়ে ওঠায় তাদের অবদানের কথা উল্লেখ করলেন ছেত্রি। তবে, ফাইনালের আগে ঋতুপর্ণা ও মনিষার তুলনায় গেলেন না তিনি।
“এই সাফ অঞ্চলে বেশ কয়েকজন অসাধারণ ফুটবলার রয়েছেন। বাংলাদেশের যেমন ঋতুপর্ণা এবং মনিকা চমৎকার খেলেন, নেপালের সাবিত্রা ও প্রীতি দারুণ খেলোয়াড়, আবার ভারতের মনিষা কল্যাণ কিংবা সুশীলা চানুর মতো খেলোয়াড় আছেন। আমার মনে হয়, তারা আগামী প্রজন্মের মেয়েদের ফুটবল খেলতে উদ্বুদ্ধ করবে। প্রতিটি দেশ যদি এই খেলোয়াড়দের সম্মান করে, তবে তা সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের ফুটবলের উন্নতিতে সাহায্য করবে।”
“ঋতুপর্ণা এই অঞ্চলের সেরা কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে, ফাইনালে ঋতুপর্ণা এবং আমাদের মনিষা কল্যাণের মধ্যে একটি দারুণ লড়াই দেখতে পাবেন। যে মাঠে বেশি ভালো খেলবে, সে-ই নিজেকে সেরা হিসেবে প্রমাণ করবে।”